Thursday, April 28, 2011

মস্তক মুণ্ডনের পর সমস্যার সমাধান

সঙ্গীতা সম্প্রতি একটি কোম্পানিতে যোগদান করেছে। তার বিয়ে হয়ে গেছে এবং তার স্বামী দুবাইতে থাকেন। তার চুল হাঁটু পর্যন্ত লম্বা ছিল। সে একটি রক্ষণশীল পরিবার থেকে এসেছে, তাই সে চুল কাটে না; তার চুল খুব চকচকে এবং লম্বা। তাকে দেখতে শ্যাম্পু বা হেয়ার অয়েলের মডেলের মতন লাগে। কিন্তু গত বছর সে তিরুপতির কাছে তার চুল উৎসর্গ করার শপথ করেছে এবং এখনো সেই মানত পূরণ করতে পারেনি। সে এমনিতেও মাথা ন্যাড়া করতে চেয়েছিল, কিন্তু কোম্পানিতে নতুন যোগদান করার কারণে মাথা কামাতে তার কিছুটা লজ্জা লাগছিল। তাই সে সিদ্ধান্ত নেয় যে এই বছর তিরুমালায় গিয়ে চুল সামান্য কাটবে এবং পরের বছর মাথা মুড়িয়ে ফেলবে। তার স্বামী এটা মানতে রাজি ছিল না। সে বলল, "তোমার লম্বা চুল কামিয়ো না। শুধু চুল কাটো, এর বেশি নয়।" কিন্তু সঙ্গীতা বলল, "এটা ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা, তাই আমি ঈশ্বরকে ঠকাতে চাই না। এই বছর আমি চুল সামান্য কাটব। কিন্তু যা-ই ঘটুক না কেন, পরের বছর আমি টাক হয়ে যাব।"

সপ্তাহান্তে সে তিরুমালায় গিয়েছিল এবং চুল সামান্য কেটে চেন্নাই ফিরে আসে। দেখে মনে হচ্ছে চুলগুলো সামান্য ছাঁটা হয়েছিল। তাই তার চুল কাটা কারো গোচরে আসেইনি। দুই মাস পর সে তার ব্যক্তিগত ও কর্মজীবনে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হয়। কিছু ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝির কারণে তার স্বামী ও তার মধ্যে কথাবার্তা ভালো ছিল না। অফিসেও তাকে নতুন বিভাগে বদলি করা হয়, নতুন ম্যানেজার ছিলেন খুবই উদ্ধত ও রাগী একজন মানুষ। তাই সে সবকিছু সহ্য করতে পারছিল না। প্রতিদিনের শুরু এবং শেষ হতো দুশ্চিন্তা নিয়ে। তার সহকর্মীরাও তাকে সমস্যায় সহযোগিতা করত, কিন্তু সবকিছুই ছিল তার বিপক্ষে। কোনো কিছুই তার নিয়ন্ত্রণে ছিল না, এমনকি অনেকবার সে অসুস্থও বোধ করত।

অবশেষে একদিন সে তার পারিবারিক জ্যোতিষীর কাছে যায়। তিনি তার রাশিফল ​​ও অন্যান্য বিষয় দেখেন এবং অবশেষে সঙ্গীতাকে জিজ্ঞাসা করেন, আপনার কি কোনো অসমাপ্ত প্রার্থনা আছে? তখনই তার মাথা মুণ্ডানোর কথা মনে পড়ে এবং সে তাকে একথা বলে। তখন জ্যোতিষী সঙ্গীতাকে বলেন, অনুগ্রহ করে অবিলম্বে আপনার প্রতিজ্ঞা পূরণ করুন, অন্যথায় আপনি এবং আপনার স্বামী আপনাদের ব্যক্তিগত ও কর্মজীবনে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হবেন। তখন সে জ্যোতিষীর কথা মেনে নেয়। সে বাড়ি ফিরে এসে দ্বিধায় পড়ে গেল। যদি সে তার লম্বা চুল কামিয়ে ফেলে, তাকে দেখতে খুব বিশ্রী লাগবে, আর তার স্বামীও তার এই সিদ্ধান্তে খুশি হবে না। কিন্তু যদি সে তার মাথা কামানোটা সম্পূর্ণ না করে, তাহলে সবকিছু ভেস্তে যাবে। তাই অবশেষে সে তার স্বামীকে না জানিয়েই সিদ্ধান্ত নিল যে এই সপ্তাহান্তে তিরুমালায় গিয়ে সে তার মাথা মুণ্ডিয়ে ফেলবে।

তারপর সেই সপ্তাহান্তে সে তিরুমালার উদ্দেশ্যে রওনা দিলো, দুই মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো। মাথা কামানোর ব্যাপারে সে কোনো দ্বিধাও করতে চায়নি। সকাল ১০টায় তিরুমালায় পৌঁছে সে সরাসরি কল্যাণকাট্টায় গেল এবং মাথা মুণ্ডানোর জন্য একটি টোকেন কিনে লাইনে দাঁড়াল। তার সামনে দুজন পুরুষ ও একজন মেয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। এরই মধ্যে একটি মেয়ে এসে সঙ্গীতার পিছনে দাঁড়াল। তারও লম্বা চুল ছিল, কিন্তু সঙ্গীতার জাং দৈর্ঘ্য চুলের মতো অতটা নয়। সে সঙ্গীতাকে জিজ্ঞেস করল, আপনি কী চুল কাটাতে যাচ্ছেন? সঙ্গীতা বলল, না, আমি মাথা মুণ্ডন করতে যাচ্ছি। মেয়েটি অবাক হয়ে বলল, ওহ!  “আপনার চুল খুব লম্বা আর চকচকে”; সে উত্তর দিল, “ধন্যবাদ, কিন্তু আর ½ ঘণ্টার মধ্যেই সকলটা মুড়িয়ে যাবে।” সঙ্গীতা জিজ্ঞাসা করল, “আর আপনি কী করাবেন?” সে বলল, “আমি আমার চুল কাটব।” এরই মধ্যে অন্য মেয়েটি চুল কাটার জন্য প্রস্তুত হয়ে গেল। তখনই সঙ্গীতা বুঝতে পারল যে এই লাইনে সে-ই একমাত্র মহিলা যে চুল কামাতে যাচ্ছে, তাই সে মেয়েটিকে তার আগে চুল কাটাতে বলল। মেয়েটি ধন্যবাদ জানিয়ে সঙ্গীতার আগে চলে গেল। এরই মধ্যে তার লম্বা চুলগুলো জলে ভিজে গেল এবং সে আবার লাইনে দাঁড়াল। এবার সঙ্গীতার পালা, সে নাপিতের সামনে বসল এবং নাপিতকে টোকেন দিয়ে মাথা কামাতে বলল। তারপর নাপিত আবার দুটো খোঁপা বেঁধে দিল এবং সে ‘গোবিন্দ গোবিন্দ’ বলে প্রার্থনা করল। এরপর নাপিত তার মাথার মাঝখানে ক্ষুর বসিয়ে তার লম্বা চুল ছুলানো শুরু করল।  তার লম্বা চুল কোলের উপর এসে পড়েছে, এবং নাপিত তার মাথার দুই পাশ ও পেছন দিক ছুলানো চালিয়ে যাচ্ছে, এখন সে পুরোপুরি কেশহীন। নাপিত আরো একবার তার মুণ্ডিত মস্তক চেঁছে দিয়ে বলল যে কাজ শেষ। অনন্তর সে জীবনে প্রথমবারের মতো তার কেশশূন্য মাথায় হাত দিল। এরপর সে চুড়িদার পরে দর্শনে গেল এবং তার ন্যাড়া মাথায় চন্দন লাগাল। অবশেষে সে চেন্নাই ফিরে এলো।

পরের দিন সে নতুন টেকো চেহারা নিয়ে অফিসে এলো, তার সব সহকর্মী তার চেহারা দেখে হতবাক হয়ে গেল, এবং তাদের মধ্যে কয়েকজন তার আদুড় মাথায় হাত দিলো। মাথা কামানোর পর থেকে তার সমস্যা দিন দিন কমতে লাগল। সে তার স্বামীকে মাথা চাঁছানোর কথাও জানাল। প্রথমে সে রেগে গিয়েছিল, কিন্তু পরে সে তার স্বামীকে বুঝ দিলো। এক মাসের মধ্যেই তার সব সমস্যা দূর হয়ে গেল। সে বিশ্বাস করে যে তার মাথা মুণ্ডিতকরণই সব সমস্যার সমাধান।

No comments:

সিনেমায় সুযোগ

আমার বাড়ি দক্ষিণ ভারতের কোচিতে এবং গত বছর যখন ঘটনাটি ঘটেছিল তখন আমার বয়স ছিল উনিশ বছর। আমার বাবা, যিনি সৌদি আরবে একজন ব্যবসায়ী ছিলেন, মার...