Showing posts with label ববকাট. Show all posts
Showing posts with label ববকাট. Show all posts

Wednesday, April 8, 2020

যে ৭টি কারণে চুল ছোট রাখাটাই সবদিক দিয়ে ‘ভালো’

আজকালকার আধুনিকারা অনেকেই চুল ছোট রাখতেই ভালোবাসেন। হ্যাঁ, লম্বা চুলের আবেদন অস্বীকারের কোন উপায় নেই। তবে ছোট চুলের স্টাইলিশ আকর্ষণটাও কিন্তু অনেক। হাজার রকমের হেয়ার কাট বেরিয়েছে, আজকাল, অনেক নারীই সেসব দিয়ে পাল্টে ফেলতে ভালোবাসেন নিজের লুক। ফলে বলাই বাহুল্য যে ছোট চুলটাকেই নিজের স্টাইল বানিয়ে ফেলেন। চলুন, আজ জেনে নিই কেন এই ছোট চুলের ফ্যাশন আসলে আপনার জন্য ভালো!

১) কর্মজীবী নারীদের জন্য ছোট চুল একটা আশীর্বাদ। চুলের যত্নে কিংবা চুল সজ্জায় সময় দিতে হয় না বলে বাড়তি সময়টা দিতে পারেন নিজের কাজে ও জীবনে। কতটা যে আরাম হয়, সেটা কেবল নারীরাই জানেন।

২) সকালে যাদের খুব তাড়াহুড়ায় অফিস, ক্লাস বা বাচ্চাদের স্কুলে যেতে হয় তাঁদের জন্যও ছোট চুল খুবই আরামের। সময় নিয়ে আঁচড়ানোর বা বাঁধার কোন প্রয়োজন নেই। একটু চিরুনি বুলিয়ে নিলেই আপনি তৈরি।


৩) চুল ছোট থাকলে চুল পড়ে কম। ছোট চুল চিরুনির সাথে ভাঙে না, জট পড়ে ছেঁড়ে না, ছোট চুলে পুষ্টির সরবরাহটাও বেশিই মেলে। সব মিলিয়ে চুল থাকে ঝলমলে ও সুন্দর।

৪) একটা জিনিস ভুলে যাবেন না, ছোট চুলে কিন্তু আপনাকে বেশ তরুণী দেখায়। কষ্ট করে বয়স লুকাবার আয়োজন করার চাইতে ছোট চুলের স্টাইল ধরে ফেলুন।, এমনিতেই তরুণী দেখাবে।

৫) ছোট চুলের পেছনে যে কোন হেয়ার কেয়ার প্রোডাক্টের খরচই অনেক কমে যায়।

৬) স্টাইলিশ করে চুল ছোট করে কাটলে না চাইতেও আপনাকে দেখায় সুপার স্মার্ট। লম্বা চুল ঠিক মত মেইনটেইন করতে না পারলে আপনার লুক নষ্ট হতে বিন্দুমাত্র সময় লাগে না।

৭) ছোট চুলের বলতে গেলে কোন পার্লার খরচ নেই। আপনি চুলে রঙ করান বা হেয়ার ট্রিটমেন্ট নিন, ছোট চুলের কারণে কিন্তু খরচ কমে যায় অনেকটাই।

(বিউটি মান্ত্রা অবলম্বনে)

Friday, March 20, 2020

স্কুল হোস্টেলে উকুনের উপদ্রবে চুল ছাঁটানো

নূরবিলা বালিকা বিদ্যালয় নূরবিলা থানার স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে মাধ্যমিক শাখার ছাত্রীদের জন্য একটি আবাসিক হোস্টেল চালু করেছে। সেঁজুতি সেই স্কুলেরই নবম শ্রেণির ছাত্রী। সেঁজুতির মাথার চুল কোঁকড়ানো, বেশ ঘন আর পিঠের প্রায় শেষ অব্দি দীর্ঘ অবশ্য ভিজা অবস্থায় তা কোমর পর্যন্ত যায়। সেঁজুতি এতদিন বাড়িতে থেকে স্কুলে যাওয়া আসা করত। কিন্তু সম্প্রতি তার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ দুই বান্ধবী রিদিমা ও শর্মি হোস্টেলে উঠবার প্ল্যান করছে তাই সেও তার বাবা-মায়ের কাছে বায়না করল সেও হোস্টেলে থেকেই পড়াশোনা করবে। তার মা প্রথমত রাজি না হলেও পরে তার গোঁ এর কাছে হার মানলেন। সেঁজুতিকে কখনোই তার নিজের চুলের পরিচর্যা করতে হয়নি; তার মা-ই তার চুলের যত্ন নিত। সেঁজুতি তার নিজের চুল খুব ভালোবাসত। সেঁজুতির মা অবশ্য চাইতেন না সেঁজুতি এই ছোট বয়সেই দীর্ঘ চুল রাখুক তাই তিনি প্রায়ই সেঁজুতিকে তার চুলে মিডিয়াম বব কাট দিতে বলতেন। কিন্তু সেঁজুতি রাজি হতো না তাই তার মা তাকে চুলের আগা হাল্কা কেটে নিতে পার্লার নিয়ে যেতেন।

বাবা-মাকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে সেঁজুতি সদ্যনির্মিত হোস্টেলে উঠল। হোস্টেলের কেবল নিচতলা কম্প্লিট হয়েছে। নবম শ্রেণি মাধ্যমিকের সবচেয়ে জুনিয়র তাই তাদের আগে রুম বরাদ্দ দেয়া হলো। আর সেঁজুতিও তার ৩ বান্ধবী সহ একটি জুৎসই কক্ষ হোস্টেল সুপার ম্যাডামের অনুমতি নিয়ে দখল করে নিলো। এভাবে হোস্টেলে এক মাস গত হলো এর মধ্যে প্রথম সাময়িক পরীক্ষা শেষ হয় এবং গ্রীষ্মকালীন ছুটি শুরু হয়। এসময় সেঁজুতির বান্ধবী শর্মি গরমের ছুটিতে তার মাসির বাসায় বেড়াতে যায়। শর্মির মাসি তার চুলের যত্নে গাফিলতি করত ফলস্বরূপ তার মাথায় উকুন বাসা বাঁধে। শর্মি তার সঙ্গে কিছুদিন বেড শেয়ার করায় শর্মির মাথায়ও উকুনের উপদ্রব আরম্ভ হয়। শর্মি তখনও তা আমলে নেয়নি। এদিকে গরমের ছুটি শেষে সবাই হোস্টেলে ফিরে আসে। শর্মিও ফিরে আসে কিন্তু মাথাভর্তি উকুন ও উকুনের ডিম নিয়ে। ক্লাসে সেঁজুতি, শর্মি ও রিদিমা একসঙ্গে এক বেঞ্চে বসত; ডাইনিংয়ে একসঙ্গে খেতো, এছাড়াও তারা একে অপরের বিছানায়ও মাঝেমধ্যে শুতো। ফলে যখ হবার তাই হলো শর্মির মাথার উকুন তার সকল রুমমেটের মাথায় পৌঁছে গেল। সেঁজুতিসহ সবাই মাথা চুলকে চুলকে অস্থির। তেল দিলে খানিকটা আরাম পায় কিন্তু তেল না দিলেই উশখুশ, অশান্তি। প্রতিদিন বিকেলে উপরনিচ করে বসে বসে উকুন বাছা তাদের নিত্যক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে‌‌। ক্লাসেও তারা উকুনের কামড়ে পড়ায় মনোযোগ দিতে পারছে না। এদিকে সহপাঠীদের সাথে দুষ্টুমির ছলে তারা নিজের মাথা থেকে উকুন নিয়ে ক্লাসের অন্যান্য ছাত্রীদের মাথায়ও দুয়েকটা উকুন ছেড়ে দিয়েছে। ব্যস আর যায় কোথায়! সারা হলের মেয়েদের মাথায় উকুনের ছড়াছড়ি। মেয়েরা আগে বিকাল হলেই ব্যাডমিন্টন, ভলিবল খেলতে স্কুলের মাঠে নামত। নতুবা কমনরুমে গিয়ে পত্রিকা, ম্যাগাজিন পড়ত কিংবা দাবা, লুডু বা ক্যারম খেলত। এখন তার বদলে বিকালে তারা হোস্টেলের সিঁড়িতে বসে উকুন বাছতে। হোস্টেল সুপার ম্যাডাম এবং সহকারী আবাসিক শিক্ষিকারা তা লক্ষ্য করলেন। এছাড়াও উকুনের কারণে ছাত্রীরা মাথা পরিষ্কার করতে প্রচুর পরিমাণে জল ব্যয় করছে। 


তাই হোস্টেল সুপার ও সব শিক্ষয়িত্রীরা হেডমিস্ট্রেসের কথায় মিটিংয়ে বসলেন। কেউ কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারছে না। কেউ বললেন হোস্টেলের মেয়েদের উকুন বিনাশী শ্যাম্পু সরবরাহ করা হোক তো কেউ বললেন নিমপাতা সরবরাহ করে তা বেটে স্নান করতে বলা হোক। এক শিক্ষিকা রাগের ভরে বলেই ফেললেন স্কুলে নাপিত ডেকে এনে ছাত্রীদের মাথার চুল কামিয়ে দেওয়া হোক। শেষমেশ স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা প্রস্তাব করলেন মেয়েদের চুল না কামিয়ে ছোট করে ছাঁট দেওয়া যেতে পারে। এতে উপস্থিত সবাই সম্মতি দিলেন।

অতঃপর সেদিন রাতে রাতের খাবার শেষ করে হোস্টেলে থাকা সকল ছাত্রীদের হোস্টেলের অতিথি কক্ষে হাজির থাকতে নির্দেশ দিলেন হোস্টেল সুপারিনটেনডেন্ট। তাই সেঁজুতিসহ সব মেয়েরা আগেভাগেই ভোজনপর্ব চুকিয়ে অতিথি কক্ষে প্রবেশ করল। তারপর সেখানে হোস্টেল সুপারিনটেনডেন্ট ও আবাসিক শিক্ষিকারা এলেন। তারা সব মেয়েদের উদ্দেশ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার গুরুত্ব, ধর্মীয় তাৎপর্য ও না থাকার অপকারিতা নিয়ে ছোটখাটো বক্তব্য দেন। তারপর তাদের এই উকুনের সমস্যা নিয়ে কিছুক্ষণ ভর্ৎসনা করলেন। সব শেষে হোস্টেল সুপার বললেন কালকে ক্লাস বন্ধ থাকবে এবং কাল সকালে হোস্টেলে ২ জন নাপিত আসবে তাদের সবার চুল ছাঁটানোর জন্য। হোস্টেলের সব মেয়েরা যেন তৈরি থাকে। এ কথার পর হোস্টেলের মেয়েরা কিছু সময়ের জন্য বাক্য হারিয়ে ফেলল। কিছুক্ষণ পর হৈ হই রব উঠল, কিছু মেয়ে প্রতিবাদ করল এবং শিক্ষিকাদের সঙ্গে তর্ক জুড়ে দিলো ও কিছু মেয়ে চিৎকার করে কেঁদে উঠল। যাই হোক হোস্টেল সুপার ও অন্যান্য শিক্ষিকারা কিছুতেই নমনীয় হলেন না। বাক-বিতন্ডা করা মেয়েরা কিছুতেই তাদের সঙ্গে পেরে উঠল না। উল্টে হোস্টেল সুপার ধমক দিলেন যে বা যারা কালকে তাদের চুল কাটানোর জন্য থাকবে না তারা যেন সকলে হোস্টেল ছেড়ে দেয়; তাদেরকে স্কুল থেকে রাসটিকেট করবেন। মেয়েরা সব দুঃখী মনে গেস্টরুম পরিত্যাগ করল। বাইরে বেরিয়ে তারা কেউ বিদ্রোহ ঘোষণা করল কোনোভাবেই নিজের চুল তো দূরে থাক একটা লোমও বাঁকা করতে দিবে না, কেউ বলল এই স্কুলেই আর পড়বে না, কেউ চুপচাপ হোস্টেল ছেড়ে দিবে ভাবল। তারপর হোস্টেলের সিঁড়ির গোড়ায় কিছুক্ষণ জটলা করে পরে যে যার যার রুমে চলে গেল। এদিকে সেঁজুতিরাও রুমে ফিরল। সেঁজুতির মন ভারাক্রান্ত। সে ভাবছে হোস্টেল সুপার ম্যাডাম কি কাল সত্যিই নাপিত ডেকে আনবেন তাদের চুল কাটানোর জন্য নাকি মজা করছেন। কিন্তু হোস্টেল সুপার ম্যাডাম মোটেও মজা করার পাত্রী নন। তিনি যা বলেন তাই করেন। এদিকে সেঁজুতির অপর দুই রুমমেট বান্ধবী শর্মিকে দুষছে আর শর্মি মাথা নিচু করে চুপচাপ খাটে বসে আছে তার চোখের কোণায় নোনতা জল শুকিয়ে আছে। তারপর সকাল হলো সব মেয়েরা ঘুম থেকে উঠে পরিপাটি হয়ে ব্রেকফাস্ট সারলো। সেঁজুতি দেখল কিছু মেয়ে ব্যাগ গুছিয়ে হোস্টেলের গেট দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। সে তাদের একজনকে ডাকল ‘সোনিয়া, কোথায় যাচ্ছিস?’ সোনিয়া বলল: বাড়ি যাই রে। এই ম্যাডামগুলো একদম ডাইনি! এদের বিশ্বাস নেই। সেঁজুতি ভাবল সেও বাড়ি চলে যাবে কিনা কিন্তু পরশু যে পরীক্ষা আর সে হোস্টেলে চলে আসায় বাবার অফিসের সুবিধার্থে পরিবারের সবাই তার অফিসের কাছে নতুন বাসায় শিফট হয়েছে। সেখানকার পথ নেহাত কম নয়। এই বলে সে রিডিং রুমের দিকে যেতে লাগল। এমন সময় হঠাৎ হোস্টেলের ঝাড়ুদার মাসি ঘণ্টায় বাড়ি দিলেন মানে হোস্টেল প্রাঙ্গণে সবাইকে জমায়েত হবার নির্দেশ। সে হোস্টেলের উঠানেই দাঁড়িয়ে থাকল আর সব মেয়েরাও যে যেখানে ছিল বেরিয়ে এলো। তারপর হোস্টেল সুপারিনটেনডেন্ট ম্যাম সেখানে হাজির হলেন। তারপর তারা কতজন আছে গুণে দেখলেন। ৪৪ জনের মধ্যে ১৩ জন নেই। তারা সকালে উঠেই বাড়ি রওনা দিয়েছে। হোস্টেল সুপার ম্যাম বললেন বেশ তবে এ কজনই থাক। যারা চলে গেছে তাদের বেডে অন্য ছাত্রীরা উঠবে। এরই মধ্যে তিনি একবার হাতঘড়ির দিকে তাকিয়ে পরক্ষণে হোস্টেলের গেটের দিকে তাকালেন। হোস্টেলের গেট দিয়ে একজন ডাইনিং বয়ের পিছু পিছু দুইজন লোক ঢুকল। তাদের কাঁধে ঝোলা আর তাতে চুল কাটবার সরঞ্জাম। তারপর স্কুলের মাঠে যেন কান্নার রোল পড়ে গেল। কিন্তু হোস্টেল সুপার ম্যামের হুঙ্কার ও অন্যান্য শিক্ষিকার ধমকে সব শান্ত নীরব হয়ে গেল। তারপর নাপিত দুইজন তাদের পিঁড়ি, চওড়া কাপড়ের টুকরা, চিরুনি, কাঁচি, ক্ষুর, ব্লেড ইত্যাদি বের করলেন। হোস্টেল সুপার ম্যাডাম আদেশ দিলেন দুজন দুজন করে গিয়ে নাপিতদের সামনে বসতে। ম্যাডামের কথা অমান্য করার সাহস আর কেউ দেখাতে পারল না। প্রথম জুটি গিয়ে নাপিতদ্বয়ের সামনে রাখা পিঁড়িতে বসল। অতঃপর নাপিতরা হোস্টেল সুপারের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল কেমন ধারা কাটব দিদিমণি? দিদিমণি বললেন সবার চুল কাঁধ পর্যন্ত কাটবেন। নাপিতরা বলল সবার মুখের গড়নের সাথে এমন স্টাইল মানাবে না। হোস্টেল সুপার ম্যাডাম তাদের যতটা সম্ভব মুখের গড়নের সঙ্গে মানানসই রেখে চুল কাটতে বললেন। নাপিতরা সম্মতি জানিয়ে তাদের কাজ শুরু করল।

মেয়েদের চুল ভালো করে আঁচড়ে পাট করে প্রথমে পনি বাঁধল, তারপর কাঁচি চলল ঘ্যাঁচ ঘ্যাঁচ; মেয়েগুলো ফুঁপিয়ে কাঁদায় তাদের শরীর কাঁপছিল। হোস্টেল সুপার ম্যাম গর্জন করে বললেন "এই কাঁদলে কিন্তু মাথা কামিয়ে দিতে বলব।" ভয়ে সব ঠাণ্ডা। এক এক করে জুটি বসতে লাগল আর নাপিতদের সামনে চুলের পাহাড় উঁচু হতে লাগল। স্নিপ স্নিপ শব্দে কাঁচি চলতে লাগল। আর মেয়েরা চোখ মুছতে মুছতে গোসলখানায় গেল। সেঁজুতিকে ম্যাডামরা বললেন নাপিতদের সামনে জমে ওঠা চুলের গোছাগুলো একটি প্লাস্টিক ব্যাগে পুরতে। সেঁজুতি তা করতে লাগল। ২ জন মেয়ে বাকি থাকতে একজন নাপিত বিদায় নিলেন। অপর জন কাঁচি চালাতে থাকলেন। সবার শেষে এলো সেঁজুতি। সেঁজুতি এমনিতে ভালো ছাত্রী কিন্তু দুষ্টুমিতে তার জুড়ি মেলা ভার। হোস্টেল সুপার ম্যাডাম বললেন সেঁজুতির চুলের ছাঁট যেন একটু অন্য রকম হয়। সেঁজুতির বুক কেঁপে উঠল। তবে সে কোনো শব্দ করল না। শেষ মেয়েটি উঠতেই সে চুপচাপ নাপিতের সামনের পিঁড়িতে বসে পড়ে। গণিত শিক্ষিকা সেঁজুতিকে খুব ভালোবাসতেন; সেঁজুতিরও সবচেয়ে প্রিয় বিষয় ছিল গণিত। সেঁজুতি নাপিতের সামনে বসলে যেই না নাপিত বললেন এর চুল কতটুকু খাটো করবো? গণিত শিক্ষিকা অমনি বলে উঠল মেয়েটি খুব ভালো ছাত্রী, আগামী সপ্তাহেই ওর পরীক্ষা আছে। এ ক'দিন উকুনের জ্বালায় পড়াশোনা বিশেষ করেছে বলে মনে হয় না। চুলের পিছনেই সময় দিয়েছে। এইটুকু মেয়ে অতটা চুল কি করে সামলাবে? নাপিত হাসিমুখে বলল তাহলে ববকাটেই চলবে? গণিত ম্যাডাম বললেন ওভাবে না; আমি চাই একদম ছোট আর মিষ্টি দেখতে চুলের ছাঁট। যাতে চিরুনির এক আঁচড়ই ওর চুলের জন্য যথেষ্ট হয়। নাপিত ওনার ইঙ্গিত বুঝতে পারলেন; সে বলল, আপনি বলতে চাচ্ছেন পিক্সিকাট? ম্যাডাম বললেন হ্যাঁ সেটাই। সেঁজুতি মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলো; তার কান্না পাচ্ছিল এই ভেবে যে গণিত ম্যাম তার সঙ্গে এমনটা করতে পারেন। গণিত ম্যাম বললেন-- সেঁজুতি যাও গিয়ে নিজের চুল কাটিয়ে নাও। সেঁজুতি ডুকরে কেঁদে বলল, ম্যাম প্লিজ অত ছোট না। ম্যাম কিছু শুনলেন বলে মনে হলো না। তিনি বললেন ওর পিছনের চুল যতটা সম্ভব ছোট করে দিবেন আর চিপগুলোও ছোট করে দিবেন। নাপিত চুল কাটা আরম্ভ করলো। প্রথমেই সে সেঁজুতির চুলে টাইট করে পনি করল। আর তারপর তার ধারালো কাঁচি পনির গোড়ায় বসিয়ে দিলো। সেঁজুতি কেবল কাঁচির স্নিক স্নিক শুনতে পেলো। কিছু বল প্রয়োগের পরই সেঁজুতির পনি নাপিতের হাতে চলে এলো। সেঁজুতির চুল এখন তার চিবুক অবধি অগোছালোভাবে কাটা। তারপর নাপিত তাকে ডানে-বাঁয়ে কাত করে সমানে চুল কাটতে লাগল। নাপিত জিজ্ঞেস করল তার চিপ ও ঘাড় কামাবে কি না? চিপ ও ঘাড়ে খুব মিহি চুল ছিল। ম্যাডামরা বললেন কামানোর দরকার নেই সমান করে দাও। নাপিত তাই করল। চুল কাটা শেষ হবার পর সেঁজুতি মুখ ঢেকে কাঁদতে কাঁদতে বাথরুমের দিকে ছুটল। বাথরুম থেকে সদ্য স্নান সেরে বেরিয়ে আসা রিদিমা ও আরো জনাকয়েক মেয়ে তা চেয়ে দেখল। পরদিন ক্লাসে অনাবাসিক মেয়েরা আবাসিক মেয়েদের দিকে কৌতূহলী দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখতে লাগল। আবাসিক মেয়েরা চুপ; তারা তাদের চুলের ব্যাপারে মুখ খুলল না।

Wednesday, April 17, 2019

ভালবাসা নাকি অভিশাপ

ছােটো থেকেই রিয়ার বড় চুলের খুব শখ ছিল -ঠিক মায়ের মতাে। মা যখন কোমর ছাপানো চুলের বিনুনি বাঁধত, রিয়ার খুব ইচ্ছা হতাে তারও অমন চুল হবে। কিন্তু স্কুলে লম্বা চুল নিষেধ থাকায় প্রতি দু'মাস অন্তর মা ওর চুল কেটে দিত।
যেদিন চুল কাটা হতাে সেদিন রিয়া সারাদিন কান্নাকাটি করেই কাটাত। মা-বাবা অনেক বুঝিয়ে, আদর করে, গল্প বলে খাবার খাওয়াত। বাবা মেয়েদের মন ভােলাতে বেড়াতে নিয়ে যেত। এখন সেসব ছেলেমানুষির কথা মনে পড়লে রিয়ার হাসি পায়।
কলেজে ওঠার পর চুল লম্বা করার ছাড়প মিলেছিল। ঘন কালো এক আকাশ চুল নিয়ে রিয়া কলেজ যেত। সেই চুল যেমন অনেক মেয়ের মনে হিংসার উদ্রেক করত, তেমনি বহু ছেলের বুকে দোলাও লাগাত। 
বিকাশ একদিন আর থাকতে না পেরে প্রেম নিবেদন করে বসল রিয়াকে। কলেজে সেটা তাদের দ্বিতীয় বর্ষ। দিনটা আজও মনে আছে রিয়ার - পয়লা বৈশাখ ছিল সেদিন। মায়ের লাল পেড়ে ঢাকাই পরেছিল রিয়া, লম্বা চুল বিনুনি বেঁধে একটা গােলাপ লাগিয়েছিল।
বিকাশের কথায় রিয়া হেসে বলেছিল - "বিয়ের পর যদি চুল কেটে ফেলি, তখন কি করবি?”
বিকাশ একটুও না ভেবে ফাজলামো মিশিয়ে বলেছিল - তোকে ধরে রেখে দেব আর চুল বেড়ে ওঠার অপেক্ষা করব।
সেদিনের ফাজলামি গভীর অনুরাগে পরিণত হয়েছিল তৃতীয় বর্ষের শেষে এসে, যখন দুজনের রাস্তা আলাদা হয়ে গেল।
- "কখনো চুল কাটিসনা রিয়া। যখনই তুই চুল কাটবি, মনে করবি আমার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেটে যাচ্ছে। 
"আবার ফাজলামো করছিস! ভাল করে মন দিয়ে MBA করে আয়।”
"তুই কখনও আমাকে seriously নিলি না রিয়া। একদিন এর মর্ম বুঝবি।” ছদ্ম অভিমানে বলেছিল বিকাশ।
এতদিন বাদে রিয়া ভাবে, সত্যি কি সবটাই মিথ্যে ছিল!? কিছুই কি ছিল না বিকাশের মনে? আর রিয়ার মনে?
"ম্যাডাম, এরপর আপনি আসুন!” পার্লারের মহিলার গলার আওয়াজে বাস্তবে ফিরে আসে রিয়া।
ধীর পায়ে চেয়ারে গিয়ে বসল। সামনে বিশাল একটা আয়না, যেটা দিয়ে পিছনের আয়না দেখা যাচ্ছে - আর দেখা যাচ্ছে রিয়ার মেঘের মতাে চুল.… 
বিয়ের পর সন্দীপ বলতাে - প্রহর শেষের আলোয় রাঙা সেদিন চৈত্র মাস...তােমার চুলে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ
"যা:, রবিঠাকুরকে বিকৃত কোরাে না…!”
- বিকৃত কোথায় করলাম...এটাকে ধার করা বলে!" ফিচেল হাসি হেসেছিল সন্দীপ। 
ইতিহাসে মাস্টার্স করে একটা স্কুলে চাকরী নিয়েছিল রিয়া। সেই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা রিয়াকে পছন্দ করেন তার ভাইপাের জন্য। সন্দীপ software engineer, দেখতে-শুনতে ভালােই, বেশ মােটা অঙ্কের টাকা হাতে আসে মাস গেলে। উপরোন্ত সদ্য আমেরিকা থেকে ফিরেছে। রিয়া বা রিয়ার মা-বাবার আপত্তি করার কোনো কারণ তাে ছিলোই না, বরং মেয়ের জন্য এমন সােনার টুকরাে ছেলে পেয়ে তারা আর দ্বিতীয়বার ভাবেননি। এক মাসের মধ্যে বিয়ে হয়ে যায় রিয়া আর সন্দীপের।
নতুন সংসারে বেশ ভলােই মন বসছিল রিয়ার। বাড়িতে রিয়া, সন্দীপ, সন্দীপের মা আর কাজের মহিলা কমলা। রিয়া স্কুল সামলে টুকটাক রান্না শিখছিল শাশুড়ির কাছে। একদিন স্কুল থেকে ফিরে দেখল সন্দীপ ফিরে এসেছে, খুব টেনশনে। 
- কি হয়েছে সন্দীপ?
- এইতো তুমি এসে গেছ। ফোন ধরছিলে না কেন? কতবার ফোন করছি!

রিয়ার মনে পড়ল, ক্লাস নিতে যাওয়ার আগে ফোনটা silent করেছিল। তারপর বেরোনোর তাড়াহুড়ােতে আর ঠিক করা হয়নি।
- “যাকগে...আমার বস আসছেন। বিয়েতে আসতে পারেননি, তাই আজ সন্ধ্যায় তােমার সাথে দেখা করতে আসবেন।dinner করে যাবেন। উনি আবার বাঙালী রান্না খেতে ভালোবাসেন।” 
-"ও..আমি এখুনি মায়ের সাথে কথা বলছি...কি কি বানানাে যায় দেখি।”

সন্ধ্যা হতেই মি.শমিত গুপ্তা হাজির হলেন নিজের স্ত্রীকে নিয়ে। সন্ধ্যেটা ভালােই কাটল। মি. গুপ্তা রান্নার পাশাপাশি রিয়ার চুলের খুব প্রশংসা করলেন। এত সুন্দর চুল উনি নাকি কারোর দেখেননি। রিয়া সেদিন চুলটা খুলে রেখে একপাশে একগুচ্ছ রঙ্গন ফুল লাগিয়েছিল। একবার তাে মজা করে শমিত গুপ্তা বলেই ফেললেন, "সন্দীপ যদি রাজি থাকে তিনি বৌ পাল্টাপাল্টি করবেন।" রিয়া আরক্ত মুখে সন্দীপের দিকে তাকিয়েছিল - সন্দীপ খুব নির্বিকারভাবে বসের সাথে হাসছিল।

সেদিন রাতেই ঘটনাটা ঘটল। রিয়া কাজ সেরে আয়নার সামনে বসে চুল বাঁধছিল। সন্দীপ ঘরে ঢুকল - মদ্যপ অবস্থায়। বসকে সঙ্গ দিতে আজ একটু বেশী খেয়ে ফেলেছে। রিয়া কিছু বলেনি, কারণ ও জানে সন্দীপ খুব সংযত। এরকম আগেও এক-দুবার হয়েছে এবং সন্দীপ সােজা শুয়ে পড়েছে, রিয়াকে একটুও বিরক্ত না করে। কিন্তু যেদিন বিয়াকে অবাক করে দিয়ে অন্য এক সন্দীপ বেরিয়ে এসেছিল - “চুলের খুব বাহার হয়েছে না? দেখনদারি শুধু...আজ তােকে দেখাব ঐ চুল কি করে থাকে তোর!”

খুব নােংরা ভাষায় কথা বলছিল সন্দীপ আর তারপর রিয়ার চুল ধরে টেনে মাটিতে আছড়ে ফেলে দিয়েছিল ওকে। রিয়া চিৎকার করতে পারেনি - প্রচন্ড বিস্ময়ে বাকরুদ্ধ হয়ে গেছিল। এরপর থেকে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে থাকে, যখনই কেউ রিয়ার চুলের সুখ্যাতি করে। অথচ অন্য সময় সন্দীপ একদম অন্য মানুষ। দুবার ক্ষমাও চেয়েছে। রিয়ার কাছে। রিয়া বাড়িতে জানাবে জানাবে করেও কিছু বলতে পারেনি। শাশুড়ি সব জেনে বুঝেও চুপ করে থাকতেন। একদিন রিয়াকে ডেকে কিছু পূজোর ফুল দিয়ে বলেন:

- ‘আমি দীপের জন্য পূজো দিয়েছি; এই ফুলটা ওর বালিশের তলায় রেখাে, সব ঠিক হয়ে যাবে।’ একটু থেমে বললেন, 'আমি সবটা জানি...কিন্তু কি জানাে মা, সংসার সুখের হয় রমনীর গুণে।' 
রিয়া শাশুড়ির কথার তাৎপর্য বুঝতে পারেনা, এটাও বুঝতে পারে না এখানে রিয়ার কি দোষ! এরমধ্যেই রিয়ার গর্ভে আসে সন্দীপের সন্তান। সবাই খুব খুশী হয় এই সংবাদে। সন্দীপ নিজের আনন্দ ধরে রাখতে পারে না - চলো, কোথাও ঘুরে আসি। এইসময় মন ভালো থাকা খুব দরকার।

রিয়া একটু হলেও আশ্বস্ত হয়, হয়তো সন্তানের আগমন সন্দীপকে বদলে দেবে। বেশ ভালোই কাটছিল পুরীতে দিনগুলো। এক সপ্তাহ ছুটি নিয়ে গেলেও রিয়ার অনুরােধে আরও দুদিন থেকে যায় ওরা। সেদিনও সূর্যোদয় দেখে ফিরছিল…সন্দীপের হাত রিয়ার কোমরে জড়ানাে... দুজনেই দুজনের শরীরের ওম দিচ্ছিল…হঠাৎ

"আরে রিয়া না!! হ্যাঁ রিয়াই তো....” 
বিকাশকে প্রথমে চিনতে পারেনি রিয়া। চাপদাড়ি আর রিমলেস চশমায় একদম অন্যরকম লাগছিল ওকে।

- '‘ম্যাডাম, চুলটা শ্যাম্পু করতে হবে। প্লিজ একটু wash basin-এ আসুন।’'

ঘাড়ে তােয়ালে জড়িয়ে মাথা নামিয়ে দেয় রিয়া। ঠান্ডা জলের স্রোত ভিজিয়ে দিতে থাকে রিয়ার মনের মেঘ।

"চলো সন্দীপদা, সমুদ্রে গা-টা ভিজিয়ে আসি।

দেখা হওয়ার পর থেকেই বিকাশ ওদের সঙ্গী। সন্দীপ শুধু জেনেছে ওরা একসাথে কলেজে পড়ত। এতদিন বাদে বিকাশকে দেখে রিয়াও কলেজের দিনে ফিরে গেছিল। 
- "আমিও যাব।" রিয়ার আদুরে আবদার সন্দীপ ফেলতে পারে না। রিয়া খোঁপা বাঁধা চুলটা খুলে দেয়। পুরাে জলে না নেমে বসে পড়ে...সমুদ্র এসে ভেজাতে থাকে রিয়ার চুল।

- “চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা,
মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য; অতিদূর সমুদ্রের ’পর
হাল ভেঙে যে-নাবিক হারায়েছে দিশা
সবুজ ঘাসের দেশ যখন সে চোখে দেখে দারুচিনি দ্বীপের ভিতর,
তেমনি দেখেছি তারে অন্ধকারে; বলেছে সে, এতদিন কোথায় ছিলেন? 
পাখির নীড়ের মতাে চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন।

বিকাশের মুখে জীবনানন্দ শুনে রিয়া এবং সন্দীপ দুজনেই অবাক। পরিস্থিতি হালকা করে রিয়া নিজেই বলে উঠলাে -

- "ফাজলামো করা এবার বন্ধ কর।” সবাই হেসে ওঠে একসাথে।

কিন্তু সন্দীপ যে এটা এত সহজে মেনে নেয়নি সেটা বাড়ি ফিরে বুঝতে পারে রিয়া। আকন্ঠ মদ্য পান করে এসেছিল সেদিন। রিয়ার লম্বা, মােটা বেণীটা গলায় পেঁচিয়ে ধরেছিল সর্বশক্তি দিয়ে ততক্ষণ, যতক্ষণ না রিয়া অজ্ঞান হয়ে নেতিয়ে পড়েছিল।

জ্ঞান এসেছিল হাসপাতালের ঠান্ডা ঘরে, আর তখনই অনুভব করে পেটে অসহ্য ব্যথা। পাশে মা আর শাশুড়ি দাঁড়িয়ে - দুজনের চোখেই জল। 
- "ম্যাডাম, শুধু ট্রিম করব? নাকি length একটু ছােট করবেন?
- “ছােটো করব...”
দুদিন বাদে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরে রিয়া। সন্দীপ হাসপাতালে যায়নি। রিয়া যেদিন ফেরে, সেদিনও অনেক সকালে অফিস বেরিয়ে গেছিল। মাঝরাতে ফিরে ড্রয়িং রুমেই শুয়েছিল, রিয়ার ঘরে ঢােকেনি। সপ্তাহ খানেক পরে রিয়া কিছুটা সুস্থ বোধ করে...সন্দীপ ঘরে আসে - আমাকে ক্ষমা করাে রিয়া...আআআমি কিছু ভেবে...মানে.. আমি তাে বাচ্চা চেয়েছিলাম... কিন্তু ক্কি কি যে হলো...”
রিয়া মুখ ফিরিয়ে থাকে, জানলা দিয়ে রাস্তা দেখতে থাকে...
-"ম্যাডাম, আর কাটব?” 
-“হ‍্যাঁ" 
-"ম্যাম, এত সুন্দর চুল...সামনেটা layers কেটে নিতে পারেন
- "আপনাকে বললাম তো ছোট করে কাটতে
কাঁচি চলতে থাকে- রিয়ার চুলের সাথে মনেও। পার্লারের মেয়েটি অবিশ্বাস ভরা চোখ নিয়ে রিয়াকে দেখে "আরও ছােট করব ম্যাডাম?”
কোমর ছাপানাে চুল কাঁধে এসে দাঁড়িয়েছে।
- “আরও ছােট!” রিয়ার দৃষ্টি স্থির আয়নার দিকে।
আবার কাঁচি চলে। কাঁধের চুল ঘাড় অবধি। কাঁচি থামিয়ে রিয়ার দিকে তাকায় মেয়েটি “আরও ছােট!" রিয়ার দৃপ্ত কণ্ঠে পার্লারে থাকা বাকিরাও ঘুরে দেখে। মালিক ভদ্রমহিলা এগিয়ে আসেন “are you sure ma'am?” 
রিয়া মাথা ঝাঁকায়।
"ছােট করে দিন...যতটা ছােট করা যায়...ও যেন আর চুল ধরতে না পারে...আমার বাচ্চাকে কেড়ে নিতে না পারে…" ডুকরে কেঁদে ওঠে রিয়া....! 

কৃতজ্ঞতা স্বীকার:
কবিতা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং জীবনানন্দ দাশ।
গল্প অনুপ্রেরণা- টেলিভিশনে দেখা বিজ্ঞাপন। 

[মমস্প্রেসোতে ২০১৯ সালের ১৭ই এপ্রিলে একই শিরোনামে পাবলিশ করা সংগৃহীত গল্প। লেখিকা রিতা সিনহা]

Wednesday, December 7, 2016

মায়ের মেকওভার (১৮+) ২য় পর্ব

সেদিন দীপের আর দোলার কি হয়েছিল বলা শক্ত। দোলা যখন বাথরুম থেকে বেরোলো তখনো দীপ সেই ভাবেই আধ নেংটো হয়ে সোফায় বসে হাঁপাচ্ছে। দোলাকে আরেকবার গা ধুতে হয়েছে সাবান দিয়ে। গায়ে তোয়ালে জড়ানো আর চুল কোনওরকমে উঁচু করে এলো খোঁপা করা। দীপের দিকে চোখ পড়তেই চোখ নামিয়ে ভেতরের ঘরে ঢুকে গেলেন। পেছন পেছন দীপও গেল। দোলা শাড়ি পরতে যাচ্ছিল। দীপ বাধা দিল। আজ সে কিছুতেই মা কে শাড়ি পরতে দেবে না। আজ দোলাকে সে জিন্স পরিয়েই ছাড়বে। অগত্যা দোলা কে পরতে হল। একটা জিন্স আর টাইট টপ। উফ কি দেখাচ্ছে মা কে। শ্যাম্পু করা খোলা চুল হাঁটু অব্দি নেমে এসেছে প্রায়। আর লজ্জায় দোলা প্রায় মিশে যাচ্ছে মাটিতে। দীপ আর সামলাতে পারল না। দোলার চুলের মুঠি খামচে ধরে টেনে এনে বিছানায় ফেলে এলোপাথাড়ি চুমু খেতে লাগল। প্রথমে চুমু খেয়ে শেষে আবার সেক্স করতে উদ্যত হতেই এবার দোলা বাধা দিলো। অনেক তো হল আবার পরে। না এক্ষুনি চাই। দোলা কিছুতেই করবে না। কিন্তু দীপ এমন জোরে তাকে বিছানায় চেপে ধরেছে যে তার নড়াচড়া করার উপায় নেই। কিছুক্ষণ চেষ্টা করার পর হাঁপিয়ে তার শরীর শান্ত হয়ে গেল। দীপ আবার দোলাকে উলঙ্গ করে তার গুদে আঙ্গুল চালাতে চালাতে চুমু খেতে লাগল। দোলা মুখ সরিয়ে নিচ্ছিল; যতটা সম্ভব বাঁধা দেবার চেস্টা করছিল। তাতে দীপ আরও উন্মাদ হয়ে উঠল। দোলার শাড়ি ছিঁড়ে সেই দিয়ে দোলার হাত পা মুখ বেঁধে বিছানায় ফেলল। তারপর আবার শুরু করে দিল। আজ দোলার রক্ষা নেই। কিন্তু তার কিছু করবার ও নেই। প্রায় ঘণ্টাখানেক উল্টে পাল্টে করার পর দীপ আবার একগাদা মাল ফেলল। আর এই প্রথমবার দোলার জল খসল। বিছানা দীপের মাল আর দোলার জলে ভিজে গেল। এতক্ষণে দীপের কাম কমেছে। আর দোলার শরীরও অবশ। তার চুল বিছানায় ছড়িয়ে পরেছে। দীপ উঠে দাঁড়াল। দোলার চুলের মুঠি ধরে তাকেও মেঝেতে দাঁড় করিয়ে আগে তার চুলের গোছাটাকে যতটা সম্ভব টাইট করে একটা খোঁপা করে দিল। তারপর তার হাত পা খুলে দিয়ে বলল তারাতারি রেডি হয়ে নিতে। সে তাকে পার্লারে নিয়ে যাবে। দোলার শরীর আর চলছিল না। তাও কোনরকমে একটা শাড়ি জরিয়ে আর খোঁপাটা খুলে একটা বেণী করে বেরোলো দীপের সঙ্গে। সে কিছুই বুঝতে পারছিল না। বুঝতে চাইছিলও না। 

ঘন্টা চারেক পর দোলা আর দোলার বেণী বাড়ি ফিরল বটে। কিন্তু দোলার তখন কাঁধ অব্দি স্ট্রেট ইনভার্টেড বব, ঘাড়ের কাছে একদম মিহি করে ছাঁটা, আর মুখের শেপের সঙ্গে মানানসই তামাটে রঙের ব্যাং কাটে দোলা কে যা লাগছিল সেটা নিচের তলার দীপের বন্ধুদের উঁকি ঝুঁকি তেই বোঝা যায়। আর দোলার পোঁদ পেরোনো মোটা বেণীখানা দীপের হাতের পলিথিনের প্যাকেটে। দোলা ভিতরের ঘরের বিছানায় গিয়ে পড়েই ঘুমিয়ে গেল।

তার ঘুম যখন ভাঙল তখন রাত হয়ে গেছে। কিন্তু বাইরের ঘরে বেশ কিছু ছেলের গলার আওয়াজ আসছে। কড়া মদের গন্ধ চারদিকে। দীপ এসে অপ্রকৃতিস্থ হেসে দাঁড়াল। বলল, মা আমার বন্ধুরা এসেছে তোমার নতুন হেয়ার স্টাইল দেখতে। রেডি হয়ে বাইরে এসো। দেরি হলে ওরা এখানে এসে যাবে। আর আমার আনা সেই ড্রেস গুলোর মধ্যে একটা পর। একটা জিন্সের হট প্যান্ট আর একটা শর্ট টপ পরে দোলা বাইরে এসে দেখেন পাঁচটা দীপের বয়সী ছেলে মদের আসর বসিয়েছে বাইরের ঘরে, তাদের মধ্যে একজনের হাতে দোলার কাটা বেনীটা। সে সেটা দিয়ে নিজের ধোনে বোলাচ্ছে। দোলার মুখ শুকিয়ে গেল। কি যেন বলতে যাচ্ছিল। তার আগেই দীপ তার চুলের মুঠি খামচে ধরে টেনে এনে ছেলে গুলোর মাঝে সোফায় বসিয়ে দিল।

Friday, July 12, 2013

বাজি হেরে চুল কাটানো

রঞ্জনার উরু পর্যন্ত লম্বা এবং সোজা চুল রয়েছে। তবে সে আজ চুল কাটিয়ে ছোট করবে। যদিও সে চুল কাটাতে আগ্রহী নয় তবুও পরিস্থিতির চাপে তাকে আজ চুল ছোট করতে হবে, তার কোনো বিকল্প নেই। অতএব সে তার চুল কাটার জন্য পার্লারে অপেক্ষা করছে এবং নার্ভাস হয়ে তার লম্বা চুলে হাত বোলাচ্ছে। তার বন্ধু সুমিত্রা তার সাথে বসে আছে এবং সে রঞ্জনাকে বোঝাচ্ছে, তবুও সে সমস্ত পথ কেঁদেছে এবং এখনো কাঁদছে। পার্লারে অপেক্ষারত অন্য মেয়েরাও তার অশ্রুসজল চোখ এবং লম্বা চুল দেখে। 

রূপা একটি মহিলা হোস্টেলে থাকে এবং সে একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করে। তার খুব সুন্দর কোঁকড়ানো চুল আছে। সে তার রুমমেটকে তার ঘাড় পর্যন্ত দীর্ঘ চুল কাটতে বলছেন। তার রুমমেট বীণা তার কথা শুনে ধাক্কা খায় এবং তাকে তার চুল কাটার কারণ জিজ্ঞাসা করে। তবে সে কোনো উত্তর দেয় না। সে বলে প্লিজ আমার চুল কেটে দাও, আমি কারণটা পরে বলব। বীণা তার অনুরোধ শুনে অপ্রতিভ হয়। তাই সে আরেকবার রূপাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি মজা করছ নাকি সত্যিই নিজের চুল কাটাতে চাও? রূপা বলে- আমি সত্যিই আমার চুল কাটাতে চাই, তাই আমার ঘাড়ের নিচ পর্যন্ত আমার চুল কেটে দাও। এই বলে সে বীণার হাতে কাঁচি তুলে দিল এবং আয়নার সামনে বসে পড়ল। বীণা হতভম্ব হয়ে রূপার হাত থেকে কাঁচি নিলো এবং সে রূপার চুলে ভালো করে চিরুনি চালায়, এরপর সে তার ঘাড়ের কাছে কাঁচি নিয়ে তার লম্বা চুল কাটা শুরু করে। যতক্ষণে রূপা কাঁদতে শুরু করে, ততক্ষণে তার লম্বা চুল তার মাথা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তার চুল এখন ববকাট। 


হেয়ারড্রেসার রঞ্জনাকে চুল কাটার জন্য ভিতরের কক্ষে ডাকে; সে এবং তার বান্ধবী দুজনেই কক্ষের ভিতরে ঢোকে। রঞ্জনা হেয়ারড্রেসারের সামনের চেয়ারে বসল, তার বন্ধু সুমিত্রা হেয়ারড্রেসারকে তার চুল কাটার কথা বলে। হেয়ারড্রেসার জিজ্ঞেস করলেন কোন স্টাইলে চুল কাটাতে চান? তার বন্ধু সুমিত্রা বলে বয়কাট। তারপরে হেয়ারড্রেসার তার শরীরকে সাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখুন এবং তিনি তার লম্বা চুলগুলিতে জল স্প্রে করে ভিজিয়ে নেন। তারপর তিনি তার লম্বা চুলগুলো ভালোভাবে আঁচড়ে দেন। অতঃপর কাঁচি নিয়ে রঞ্জনার চুল কাটা শুরু করেন। তার লম্বা চুল গেছে এখন সে ববকাটে। তারপর তিনি চুল কাটার মেশিন দিয়ে তার মাথায় অবশিষ্ট বাকি চুল ছোট করে কেটে ফেললেন। তার সমস্ত চুল ৫ মিনিটের মধ্যে চলে গেছে। এখন তার চুল বয়কাট স্টাইলে আছে। রঞ্জনা তার নতুন চেহারা দেখে আরেকদফা কাঁদল। তারপর চুল কাটার পারিশ্রমিক দিয়ে দুজনেই পার্লার ছেড়ে বেরিয়ে আসে। 


রঞ্জনার বন্ধু সুমিত্রা জিজ্ঞেস করল কেন তুমি চুল ছোট করলে? এর পেছনের কারণটা কী? রঞ্জনা তার চুল কাটার কারণটি তার বন্ধু সুমিত্রাকে বলল। ঘটনাটি হচ্ছে- রঞ্জনা ও রূপা একই কোম্পানিতে একই ডিপার্টমেন্টে কাজ করে। তাদের ডিপার্টমেন্টের কলিগ তিনটি মেয়ে রঞ্জনা ও রূপার সাথে বাজি ধরেছিল, বাজির শর্ত হচ্ছে যদি রঞ্জনা প্রমোশন পায় তবে তারা তাদের চুল কেটে ছোট করবে আর যদি তাদের গ্রুপের কেউ প্রমোশন পায় তবে রঞ্জনা তার চুল ছোট করে কাটবে এবং রূপাকে তার চুল বব স্টাইলে কাটতে হবে। তারা সকলেই এই বাজির শর্তে সম্মত হয়েছিল, কারণ রঞ্জনা ভালো কর্মতৎপরতা দেখিয়েছিল তাই সে ভেবেছিল সে অবশ্যই প্রমোশন পাবে। তবে কিছু সমস্যার কারণে রঞ্জনা পদোন্নতি পেল না। অন্য টিমের মেয়েটি পদোন্নতি পেল। অতএব বাজি হেরে গিয়ে রঞ্জনা ও রূপা দুজনেই তাদের চুল কাটাবে ঠিক করে। 

পরের দিন রঞ্জনা এবং রূপা নতুন লুক নিয়ে তাদের অফিসে যায়, অন্য মেয়েরা তাদের দেখে ব্যঙ্গাত্বক ভঙ্গিমায় হাসল এবং তাদের উদ্দেশ্যে টিপ্পনী কাটছিল। কিন্তু তারা এবার কাঁদল না বরং দুজনেই হাসল এবং বলল, তোমাদের টিমকে ধন্যবাদ কারণ তোমাদের দেয়া শর্তের কারণে আমরা এখন নতুন জীবন পেয়েছি, নইলে আমরা দু'জনেই এখনো চুল লম্বা রাখতাম। আমাদের চুল কাটার পরেই কেবল আমরা আমাদের সৌন্দর্য উপলব্ধি করতে পেরেছি। সুতরাং তোমাদের বাজির জন্য ধন্যবাদ। তাদের সকলেই অবাক হলো এবং তাদের মুখে আর কোনো রা ছিল না। এই ঘটনার পর রঞ্জনা এবং রূপা প্রায়ই তাদের চুল কাটে। এখন তারা বয়কাট এবং ববকাট মেনটেইন করে।

Wednesday, April 27, 2011

চেহারা নিয়ে বিভ্রম কাটানোর জন্য কেশ কর্তন

মীনাক্ষি ও সোনাক্ষি যমজ বোন। তাদের দু'জনকেই দেখতে একরকম লাগে। দুজনেরই লম্বা এবং ঝলমলে চুল ছিল। তারা তাদের চুল খুব ভাল রক্ষণাবেক্ষণ করত। তাদের বাবা-মা ব্যতীত অন্যরা তাদের আলাদা করে চিহ্নিত করতে পারত না। অনেক সময় তাদের বাবা-মাও বিভ্রান্ত হতেন যে কে মীনাক্ষি এবং কে সোনাক্ষি। উভয়েই তাদের অনার্স কোর্স শেষ করেছে এবং তাদের বাবা-মা উভয়ের জন্য পাত্র সন্ধান করছেন। শেষ পর্যন্ত তারা পাত্র খুঁজে পেলেন, দুই বোনের জন্য দুই ভাই, তবে যমজ নয়। এবং অবশেষে দুই মাস পর একই দিনে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়।

তাদের দু'জনের স্বামীই তাদের চেহারা গুলিয়ে ফেলল। সুতরাং তারা শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তারা যে কোনো একজনের চেহারা পরিবর্তন করতে চায়। বড় ভাই কুমার মীনাক্ষির সম্মতি ছাড়াই তার চেহারায় বদল আনতে চান। এই সিদ্ধান্তের পরে কুমার মীনাক্ষিকে ববকাট বা বয়কাটের মতো চুল ছোট করার জন্য বলেন। সে আশ্চর্য হয়ে গেল, এবং বলল কোনোক্রমেই না; কারণ সে তার চুল অনেক যত্নে বাড়িয়েছে এবং তাকে এমনটা বলবার কারণ জিজ্ঞাসা করে। কুমার বলেছিলেন যে তার ভাই এবং সে নিজে মীনাক্ষির এবং সোনাক্ষির চেহারাকে গুলিয়ে ফেলছে, তাই কারো চেহারা বদলাতে হবে, তাই আমরা শেষ পর্যন্ত তোমার চুল কাটাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সে বলল- না আমি আমার চুল কাটতে চাই না, প্লিজ সোনাক্ষিকে কাটতে বলো।

পরের দিন তার ভাই শ্যাম সোনাক্ষিকে চুল ছোট করার জন্য বলে। সেও এই সিদ্ধান্ত শুনে স্তম্ভিত হয়। সে এতে সম্মত হয় না। তাই সকলেই সন্ধ্যায় মিলিত হন। শেষ পর্যন্ত কুমার বলল, আমরা এ জন্য ব্যালট রাখব, ব্যালটে যার নাম আসবে তাকে চুল ছোট করে ফেলতে হবে। দুই বোনই এর বিরোধিতা করে। তবে কুমার এবং শ্যাম এটার জন্য আদেশ দিয়েছিল এবং তারা ৪টি আলাদা চিরকুটে তাদের নিজ নিজ স্ত্রীর নাম দু'বার উল্লেখ করে একটি ছোট বাক্সে রেখেছিল এবং তারা প্রতিবেশীর ছেলেকে একটি চিরকুট উঠাতে বলে। সে কথামত চিরকুট উঠালো।

চিরকুটে মীনাক্ষির নাম এসেছে। মীনাক্ষি কাঁদতে শুরু করল, তার বোন সোনাক্ষি তার বোনকে সান্ত্বনা দিলো এবং কুমারকে বলল যে মীনাক্ষির চুল কাটতে হবে না; অন্য কোনো উপায় ভাবতে হবে, কিন্তু তাদের স্বামীরা মানল না, এবং বলল আগামীকালই চুল কাটতে যেতে হবে, যদি সে চুল না কাটায়; আমরা কারও অনুমতি ছাড়াই যেকোনো একজনের মাথা মুড়িয়ে দিবো। তাদের সিদ্ধান্ত শুনে দু বোনই ধাক্কা খায়। তাই অবশেষে মীনাক্ষি তার চুল কাটার জন্য সম্মতি দেয়। কুমার আরও বলেন, মীনাক্ষিকে ভবিষ্যতেও একই রকম চুলের ছাঁট বজায় রাখতে হবে।

পরের দিন সকালে মীনাক্ষি এবং কুমার মীনাক্ষির চুল কাটার জন্য পার্লারে গিয়েছিলেন। কুমার মীনাক্ষিকে বয়কাট দেওয়ার জন্য বিউটিশিয়ানকে বলেন। মীনাক্ষি বলে সে বয়কাট করতে চায় না; তার ববকাটেই হবে। কিন্তু তিনি সায় দিলেন না। এরই মধ্যে বিউটিশিয়ান মীনাক্ষিকে চেয়ারে বসতে বলেন। সে চেয়ারে বসল, বিউটিশিয়ান তার লম্বা চুল আঁচড়ালো এবং কাঁচি নিয়ে তিনি তার ঘাড়ের কাছের চুলের গোছার মাঝে ঢুকিয়ে খুব শীঘ্রই চুল কাটতে আরম্ভ করল। সে তার দু'হাতে মুখ ঢেকে কাঁদতে লাগল। তার দীঘল চুল গেছে, তার চুল এখন চিবুক দৈর্ঘ্যের মধ্যে রয়েছে। তারপরে বিউটিশিয়ান তার সামনের দিক এবং মাথার উভয় পাশে সঠিকভাবে কাটতে শুরু করলেন এবং পিছন দিকটা মেশিন দিয়ে খুব ছোট করে দিলেন। কুমার তার শর্ট হেয়ারস্টাইলে সন্তুষ্ট হলো। এবং অবশেষে তার চুল কাটা শেষ। বিউটিশিয়ান বললেন ‘‘ইটস কম্প্লিটেড’’, সে চোখ খুলল এবং আয়নায় তার মুখের দিকে তাকালো, সে চিনতে পারছিল না। একটা ছেলে চেয়ারে বসে আছে। সে তার মাথা স্পর্শ করে, তার দীর্ঘ চুল সব শেষ। তারপরে সে চেয়ার ছেড়ে কুমারের কাছে যায়। কুমার বলে তোমায় দুর্দান্ত লাগছে, আর প্লিজ চুলের দৈর্ঘ্য একইরকম রেখো।

তারপরে দুজনেই ঘরে ফিরে গেল। সোনাক্ষি তার বোনের চুল কাটাতে হতবাক হয়ে গেল এবং সে মীনাক্ষির কাছে দুঃখ প্রকাশ করল। মীনাক্ষি বলল এতে তোমার কোনো দোষ নেই; আমরা এর জন্য কী করতে পারি। আমার কোনো দুঃখ নেই আমার বোনের চুলের জন্য আমি আমার চুলের মায়া ত্যাগ করেছি। তাই তুমি নিজেকে দোষ দিয়ো না, হঠাৎ সোনাক্ষি তার বোনকে জড়িয়ে ধরল এবং দুজনেই কেঁদে উঠল। তার চুল কাটার পরে উভয় পরিবার সুখে জীবন চালাচ্ছে, তাদের চেহারা সম্পর্কে কোনো বিভ্রান্তি নেই। মীনাক্ষি এখন তার চুল বয়কাট করে রাখে। কিন্তু সোনাক্ষি মীনাক্ষির জন্য তার হাঁটু অব্দি চুল পিঠের মাঝখানটা পর্যন্ত কেটে ফেলল। তার স্বামী তার চুল কাটানোর জন্য কিছু বলেনি।

সিনেমায় সুযোগ

আমার বাড়ি দক্ষিণ ভারতের কোচিতে এবং গত বছর যখন ঘটনাটি ঘটেছিল তখন আমার বয়স ছিল উনিশ বছর। আমার বাবা, যিনি সৌদি আরবে একজন ব্যবসায়ী ছিলেন, মার...