Showing posts with label বয়কাট. Show all posts
Showing posts with label বয়কাট. Show all posts

Wednesday, June 24, 2020

চুলের জন্য ভালোবাসা

দাদুর গ্রামে বেড়াতে এসেছি আমার দাদুর প্রায় ১০০ বছরের পুরানো বাংলো দেখার জন্য। সেখানে আমার পরদাদার বড় ভাই (আমারও পরদাদা) এর পার্সোনাল রুমে ঢুকলাম।
সেখানে কিছু জিনিস পত্র পেলাম যেগুলার মধ্যে আমার চোখ গেলো একটা সিন্দুকের দিকে।

সেই সিন্দুকের ভিতর দেখলাম প্রায় সাড়ে ৫ ফুট লম্বা খুব মোটা চুলের বেণী। খুব সুন্দর চুলের কালার, শাইনি আর ধরে এত কোমল লাগছিল মন চাচ্ছিল ধরে চুমু খাই, মুখের সাথে ধরি আর চুলের গন্ধ নিই।

কিন্তু তা করলাম না কারন সিন্দুকে প্রচুর ময়লা জমে ছিল মনে হয় ১০০ বছর ধরে পরিষ্কার করা হয়নি কিন্তু চুলের বেণীটা পরিষ্কারের পর দেখা গেল ১০০ বছরেও তার ঔজ্জ্বল্য, লাবণ্য একটুও ক্ষয় হয়নি।

আর পেলাম একটা ডায়রি আমার পরদাদার। এখানে হয়ত থাকতে পারে এই বেণীর রহস্য। যাক পরিষ্কার করে পড়া শুরু করলাম যেভাবে লেখা…

২৪ জানুয়ারি, ১৯১৬
আমার নাম সুব্রত গুহ বয়স ৩০। আমি এখন কোলকাতায় খুব ভাল একটা চাকরি (তখনকার ইংরেজ আমলে) করি তাই মা বাবা তোড়জোড় করছে বিয়ে করাতে।
সাহেবদের সাথে কাজ করার সুবাদে আমি যেকোন যুবতীকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে পারি তবে আমার অনেক দিনের স্বপ্ন এক বিধবাকে বিয়ে করব। বিধবার হারানো সংসার ফিরিয়ে দিব।

কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে বিধবা সম্বন্ধ পাওয়াও দুষ্কর হয়ে দাড়িয়েছে। মা দাদা-বৌদিরা বলছে এ জেদ বাদ দিতে। কিন্তু আমি ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করলাম আর অবশেষে পাওয়াও গেল।

২৮ বছরের মহিলা তার প্রায় ১১ বছরের ছেলেও আছে। মহিলা গায়ের রঙ তামাটে, কিছুটা স্থূল গড়ন, চেহারাও মায়াহীন কেমন যেন রাগী রাগী ভাব। তবে একটা জিনিস আমার চোখে পড়লো তার অনেক বড় খোঁপা। পুরো মাথা শাড়ির আচলে ঢাকা কিন্তু দেখে বুঝা যাচ্ছিল খোঁপা খুব বড়।

মহিলার নাকি দ্বিতীয় বিয়েতে একেবারেই ইচ্ছে নেই কিন্তু পরিবার জোর করছে খুব। ইনি তার স্বামীকে খুব ভালবাসতেন তার মৃত স্বামীকে ছাড়া আর কাউকে তার জায়গায় আসতে দিবেন না।

২০ আগস্ট, ১৯১৬
যাক বিয়ের পর আজ আমাদের ফুলশয্যা। তবে আমার সদ‍্যবিবাহিত স্ত্রী এতে রাজি নন তিনি নাকি আলাদা ঘরে একা ঘুমাবেন।
তার ঘরে গেলাম দেখি তাকে খোলা চুলে। প্রায় হাঁটুর নিচ পর্যন্ত এত সুন্দর চুল কখনো কল্পনাও করতে পারিনি। পাহাড়ি ঝর্ণার মত এত সুন্দর ভাবে ঢেউ খেলানো, এত ঘন ঝলমলে।
সে হঠাৎ আমায় দেখে ঘাবড়ে গেল। দেয়ালে তার হাঁটু অব্দি রেশমি চুলের পিঠ ঠেকালো যেন আমি দেখতে না পাই। তার সামনের চুলগুলো কেনো জানি এমন ভাবে বাকানো তার চেহারাটা অপরূপা লাগছে।
সে প্রতিনিয়ত মুখমণ্ডল থেকে চুল সরাচ্ছে আর রাগে লাল হয়ে বলছে “বের হন তাড়াতাড়ি এই ঘর থেকে নাহলে কিন্তু আমি লোকজন ডাকব, এক্ষুনি যান আমি আপনার কোন ক্ষতি করে ফেলব, শেষে একটা কাঁচের গেলাস ভেঙ্গে নিজের গলায় ধরে বলে নিজেকে শেষ করে ফেলব।"

সে এত রাগছে আর গালিগালাজ করছে তবুও তার সামনের চুলের জন্য তাকে এত সুন্দরী লাগছে যে মন চাচ্ছে জড়িয়ে ধরে চুমু খাই কিন্তু সে বিরক্ত হচ্ছে ভেবে চলে আসলাম।
রুম থেকে বের হওয়ার সাথে সাথে দ্রাম করে দরজা লাগিয়ে দিলো। আজ বুঝতে পারছি নারীর আসল সৌন্দর্য তার চুলে। না হলে যেই মহিলাকে দেখতে আহামরি সুন্দর না তাকে আজ খোলা চুলে দেখে আমি অদ্ভুত আকর্ষণ অনুভব করছি।

২১ আগস্ট,১৯১৬
সেদিনের কথা আর ভুলতে পারছিনা। তার এত সুন্দর দেখতে পা অব্দি লম্বা ঘন রেশমি খোলা চুল। তার সামনের চুলের জন্য তার চেহারা কিভাবে। কিভাবে চুল খুললেই এক নারির চেহারা পুরো পরিবর্তন হয়ে যায়। কিভাবে চুল খুললেই এক সুদর্শনা অপ্সরা তে পরিনত হয়ে যায়। এমন জাদুকরী চুল তার।
তার ১১ বছরের ছেলের থেকে জানতে পারি তার বাবার খুব প্রিয় ছিল তার মার চুল তাই চুল কাটেনি। কিন্তু তার বাবার মৃত্যুর পর থেকে চুল একেবারেই যত্ন নেয়া বন্ধ করে দিয়েছে। আঁচড়ায়না, তেলও দেয়না। গোসলের সময় মাথা ভেজায় না যেন চুল না ভিজে। খোঁপা খুলতে সচরাচর দেখা যায়না। বিভিন্ন ভাবে অবহেলা করে যেন চুলের লাবণ্য শেষ হয়ে যায় আর কোন পুরুষ যেন তার চুল দেখে পাগল না হয়ে যায়।

আমি তো পাগল হয়ে গেছি। আর প্রায় ১০ বছর ধরে অযত্নের পরও এত সুন্দর চুল ভেবেই আরো পাগল হই। না জানি প্রথম স্বামীর সময় কত লাবণ্যময়ী ছিল তাহার কেশ। তার ছেলেও নাকি তার মায়ের চুলের পাগল। তার মাকে খোলা চুলে দেখলেই চুলে চুমু খায় আর মুখমন্ডলে নিয়ে মাখে। এসব কখনো পুরান লাগেনা তার কাছে।

২৩ সেপ্টেম্বর, ১৯১৯
প্রায় ৩ বছর হয়ে গেলো আজো তার সাথে একটা রাত ও কাটানো হয়নি। সেই প্রথম যে তাকে খোলা চুলে দেখা আর এত বছর ধরে তার চুলের দেখা পাইনা। সব সময় মাথা আচলে ঢেকে রাখে। তার উপর প্রতিনিয়ত নানান খারাপ ব্যবহার করে সবার সাথে। সংসারের সব কাজ হয় আমার মা, বৌদিদের অথবা আমাকে করতে হচ্ছে। কাল তো সে আমার মায়ের গায়ে হাত তুলেছে! কেউ আমার মাকে কিছু বললে আমি সহ্য করতে পারিনা তার উপর গায়ে হাত তুলল! তবুও তার প্রতি আমার ভালবাসা কেন?
সে সেদিন বললো, "যতদিন আমাকে ঘরের বউ করে রাখবেন এসব সহ্য করে যেতে হবে!"

২০ সেপ্টেম্বর,১৯২০
নাহ! আর পারা যাচ্ছেনা। এভাবে আর কতদিন পারা যায়। আমরা গেলাম ডিভোর্স নিতে কোর্টে।
অফিসার বললো অমুক অমুক জায়গায় সাইন করতে এরপর বলল বাইরে গিয়ে অপেক্ষা করতে।

আমরা বসে আছি হঠাৎ হালকা বাতাস আসল; আমার বউ এর কিছু চুল বাতাসে উড়ছিল আর খেলা করছিল। আমার দেখে আবার প্রেম জেগে উঠলো মনে। কিছুক্ষন পর মাথা থেকে শাড়ির আচল সরে গেলো। তার এত সুন্দর খোপা দেখে আমি আবার যেন পাগল হয়ে গেলাম হারানো সেই অতীত অনুভুতিতে।

তার কাছে গিয়ে বললাম “শুনছো, ডিভোর্সটা না নিলে হয়না"। সে কিছুক্ষণ আমতা আমতা করার পর বলল– মাথা থেকে ভূত এখনও যায়নি? আমি বললাম একটু বুঝার চেষ্টা করো আমি তোমার ওই চুলের পাগল! যেদিন থেকে তোমাকে খোলা চুলে দেখেছি। তুমি এখন থেকে যত খুশি আমাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করো তবুও আমাকে ছেড়ে চলে যেয়োনা আমি তোমায় ছাড়া বাঁচবো না।

সে কিছুক্ষণ ভাবার পর বলল: চলুন আমার সঙ্গে। আমাকে নিয়ে গেল কলকাতা শহরের বাইরের এক নাপিত বাড়িতে। সেখানে গিয়ে নাপিতবৌ বলে হাঁক পাড়তেই একজন মহিলা বেরিয়ে এসে; আ লো গিন্নিমা বলে গড় করে প্রণাম ঠুকে বলল আহা কদ্দিন পর পায়ের ধুলো দিতে এলেন? নাপিত বৌয়ের মাথায়ও একটা বড় সুন্দর দেখতে খোঁপা। গায়ের রঙ উজ্জ্বল শ্যামলা চিকন গড়ন চেহারা সুন্দর। আমাদের দুজনকে প্রণাম শেষে ঘরের ভিতর থেকে দুটো জলচৌকি এনে আমাদের বসতে বলল। বলল গিন্নিমা-বাবুমশাই আপনারা বসুন। আমি কিছু ফলারের যোগাড়জন্তর করি। কিন্তু আমার স্ত্রী বলেন— বসতে আসিনিরে ক্ষেমী। ক্ষেমী কিছুটা অবাক হয়ে উত্তর দেয়: এতদিন পর আমাদের ভিটায় এলেন একটু বসুন; সেবা করার সুযোগ দিন। আমার স্ত্রী এবার বলল- যে সেবা তোর পেশা তাই নিতে এসেছি। সে এর মানে বুঝল, আমিও বুঝলাম তবু মুখ ফুটে কিছু বললাম না। আমার স্ত্রী আমাকে সরে বসতে বলল আর নাপিতবৌ আমার স্ত্রীর ঘন চুলের থেকে অনেকগুলো চুলের কাঁটা সরিয়ে আর বিশাল সেই খোপাটি থেকে কাঠের চিরুনি সরিয়ে তার চুল খুলল।
তাকে আবার খোলা চুলে দেখে মন চাচ্ছে জড়িয়ে ধরি। আশেপাশে হঠাৎ চোখ পড়লে দেখি কটা ছোট ছোট ছেলেমেয়ে একটু দূরে দাঁড়ানো। সবাই হা করে তার চুলের দিকে তাকিয়ে দেখছে।
–তাহলে এদ্দিন বাদে আপনি চুল কাটবেন। কিন্তু আপনি না আবার বিয়ে কল্লেন। শ্বশুরঘরের নোকে কি বলবে? এত সুন্দর চুল কেটে ফেলবেন। কতটা কাটবেন?
–আমার সব চুল কেটে উনাকে দিয়ে দে।
–কি বলছেন গো গিন্নিমা! সবটা কাটবেন? এমন নির্দয় হলেন কি করে?
–আমি বললাম না সব চুল কেটে ফেলতে। এক বার বললে কানে যায় না? তোকে যা করতে বলি তাই কর।
ক্ষেমী একদৌড়ে ঘরে ঢুকে পিছনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে শ‍্যামা নামের আরেকজন মহিলাকে ডাকল। তারা যখন আবার আমাদের সামনে এলো তখন তাদের হাতে একখানা ময়লা চাদর, একজোড়া কাঁচি আর চিরুনি, একখানা ক্ষুর আর আরো কি যেন ছিল।
কিছুক্ষণ রাশি রাশি চুল আঁচড়ে অতঃপর বড় একটা কাঁচি দিয়ে একে একে সব চুল কেটে ফেলতে থাকলো আর আমার মনে হলো আমার হৃদপিণ্ডেও কে যেন ছুরি কাঁচি চালাচ্ছিল। তার ঘন চুলগুলি এমন ভাবে ঢেউ খেলছিল যেন কাঁচির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করছে। মাথা ভরা চুল ক্ষেমী আর শ‍্যামা পালা করে কাটছিল।

সবশেষে পড়ে রইল এক বিশাল রেশমি ঝলমলে চুলের সমুদ্র। ওরা দুইজনে মিলে সেসব চুল সংগ্রহ করে বেণী বেঁধে আমার হাতে দিলো। কষ্ট ও হচ্ছে আবার এত কোমল চুল হাতে নিতে পেরে মন উতলা লাগছে।

সে এবার আমার দিকে তাকিয়ে বলল:- এখন তো আর কোন ভালবাসা অবশিষ্ট নেই আমার জন্য? এবার দয়া করে আমার জীবন থেকে চলে যান। আমার পাগল করা সেই চুল আপনাকে দিয়ে দিয়েছি। আমি বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম। আজ তাকে চুল কাটানোর পরও কেন যেন মায়াবী অপরূপা লাগছে কিন্তু তাকে আটকানোর কোনো অধিকারই আমার আর নেই। পুরুষের মত ছোট করা চুল সে ঘোমটা তুলে ঢেকে নিলো। আমিও সেই বেণীটা ক্ষেমীদের দেয়া একটা থলেতে পুরে তার পিছু পিছু বেরিয়ে নাপিতবাড়ি থেকে বেরিয়ে এলাম। 


ডায়েরিতে এইটুকুই লেখা। এরপর আমি যতদূর জানি পরদাদার বড় ভাই অবিবাহিতই থেকে যান এবং বাকী জীবন তার প্রাক্তন স্ত্রীর চুলের ভালবাসায় কাটিয়ে দেন।

আমি আরেকবার আমার পরদাদীর সেই বেণীর দিকে তাকালাম। প্রায় শত বছর শরীর থেকে আলাদা হয়ে থাকার পরও অর্থাৎ শরীরের পুষ্টি উপাদান না পাওয়ার পর তার উপর এত বছর বদ্ধ ট্রাঙ্কে অযত্নে ময়লার মধ্যে থাকার পর এখনো এত লাবণ্যময়ী সেই চুল। না জানি তার মাথায় থাকলে আর তিনি এতদিন বেঁচে থাকলে কেমন দেখতে লাগত ভেবে আমিও যেন পাগল হয়ে যাই। অবশ্য মনে পড়ল এতদিন বেঁচে থাকলে তিনি বুড়ি হওয়াতে তার এই চুলগুলি সাদা হয়ে যেত নিশ্চয়। ভাল হয়েছে উনি এগুলো কেটে ফেলেছিলেন।

পাগল হয়ে তার সেই মোটা বেণী খুলতেই এত সুন্দর ঝলমলে ঘন মেঘের মত ঢেউ খেলানো চুল দিয়ে যেন পুরো বিছানা ভরে যাওয়ার মত অবস্থা। নিজে আর তর সইতে পারি না পরদাদীর চুলগুলো হাতে নিয়ে সারা শরীরে জড়িয়ে ধরে চুমু খাই। এখনও এত সুগন্ধ। পরে অবশ্য নিজেকে সামলে নিয়ে এগুলো আবার গুছিয়ে যত্ন করে একটা রিবন দিয়ে বেঁধে আমার ব‍্যাগে রাখলাম। এখন এটা আমার সঙ্গে নিয়ে যাব।

[সংগৃহীত ও ঈষৎ পরিমার্জিত]

Tuesday, June 23, 2020

এই চুল সৌভাগ্য নাকি শাপ

সেলুনে লাইনে বসে আছি। নিজের অতীত স্মৃতিগুলো মনে ভাসছে।
ছোটবেলা থেকেই আমার অনেক লম্বা ঘন চুল ছিল প্রায় হাঁটু পর্যন্ত পৌঁছাত। চুল আঁচড়াতে হত দুইটা খোঁপা করে একটা খোঁপা খুললেই পুরো শরীর ঢেকে যেত। আমার মায়ের খুব পছন্দের ছিল আমার চুল তাই রোজ মাথায় তেল দিত আর বলতো “তোর চুলগুলো এত সুন্দর একদম মেঘের মত এত কোমল মায়াবী"। আমার চুল দেখতেও অনেক সুন্দর ছিল চুল খুলা থাকলে মুখমন্ডল দুপাশ ঢেকে যেত। নাইন টেন ইন্টারে পড়া আপুরা বলত “তোর এত সুন্দর চুল গুলা কেটে আমাকে দিয়ে দে আমি পরচুলা বানিয়ে পড়ব এই বয়সে এত বড় চুল দিয়ে কি করবি।”
‘আচ্ছা তাহলে অন্তত অর্ধেক কেটে দে তাও চলবে'। কিন্তু মা মানা করত 'কোনদিন চুল কাটবিনা!’
শৈশব কেটেছে গ্রামেই। মাঠে ভাই-বোনদের সাথে খেলতাম। তারা কেন জানি অন্যরকম ভাবে দেখতো। মাঝে মাঝেই খোপা খুলে যেত আর রফিক বলতো 'এইভাবে তোকে একদম ডাইনির মত লাগে' তাই ওরা আমার চুল নিয়ে নানাভাবে খেলতো মাঠের মাটিতে রেখে চুলের উপর লাফালাফি করত নানা ভাবে ময়লা করত টানাটানি করত। মা তাই রাগ করত আবার খুশিও হত এত কিছুর পরও চুল ড্যামেজ হয়না।
স্কুলে যে বয়সে আমার বান্ধবীদের প্রায় সবার ছোট চুল কারো কারো সর্বোচ্চ পিঠ পর্যন্ত পৌছায় সেই বয়সে আমার প্রায় পা পর্যন্ত চুল। তাই মা শক্ত করে খোপা বেধে দিত ক্লিপ দিয়ে আর মাথায় পিন লাগাতে হত বিভিন্ন স্থানে। আমি স্কার্ফ দিয়ে মাথা পুরা ঢেকে রাখতাম তাও সবার কৌতুহল জাগতো কারন খোপা এত বড় হত। একদিন বান্ধবীদের অনেক জোরাজুরিতে স্কার্ফ খুলতে বাধ্য হলাম তারা বলল এত সুন্দর খোপা এত সুন্দর চুলের কালার রোদের আলোয় যেন ঝলমল করছে তাই আমাকে বাধ্য করলো খোপা খুলতে। এরপর থেকে আমার চুল সবার মধ্যমনি। সবাই চুলে চুমু খেতে মুখের সাথে ঘষতে লাগলো বলে এত কোমল চুল না ছুঁয়ে থাকা যায়না।
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার দিন পরীক্ষক স্কার্ফের ভিতরে এত ফোলা দেখে জিজ্ঞাসা করল স্কার্ফের ভিতরে নকল নাকি? সেটা দেখবার জন্য অন‍্য রুমে নিয়ে আসে; এরপর চুল খুলে পুরুষ পরীক্ষক সমস্ত চুলে চুমু দিতে লাগল, পরে সারা শরীর জড়িয়ে ধরে মুখে চুমু দিতে লাগল তার মুখ আমার চুলের ভিতর ডুবিয়ে রাখল বলে এত সুন্দর চুল কখনো কল্পনা করেনি। আমার এত খারাপ লাগছিল কষ্টের কথা মা বাবাকে বলাতে তারা চুল ন্যাড়া করে দিলো। ইন্টারের এক বড় আপু আফসোস করে বললো 'এত সুন্দর চুল ডাস্টবিনে ফেলে না দিয়ে আমাকে দিতি’
ক্লাস টেনে পড়ার সময় চুল আবার হাটুর নিচ পর্যন্ত এখন। এই চুলের জন্য বান্ধবিদের কারো কাছে ঈর্ষার পাত্রী তো কেউ কেউ আমার চুলের পাগল। বারবার আমার খোপ খুলতে চায় যা আমার ভালো লাগেনা।
তখন হোম টিউটরের প্রেমে পড়ে যাই যদিও আমি গায়েগতরের দিক থেকে দেখতে তেমন সুন্দরী না। গায়ের রং শ্যামলা কিছুটা মোটা গড়নের। বান্ধবীরা বলত খোলা চুলে তোকে দেখলে এমনিই প্রেমে পড়ে যাবে। কিন্তু আমার ইচ্ছা করত না এমন করতে। সেই রফিক স্যার আমাকে একদম পাত্তা দিতনা কথায় কথায় পড়া না পাড়লেই রাগতো পানিশমেন্ট দিতো তাই একদিন উপায় না পেয়ে খোলা চুলে পড়তে বসলাম। স্যার এর চোখ সরাতে পারছেনা সেইদিন খুব ভাল ব্যাবহার করলো। পানিশমেন্ট দিতে চাইলে লম্বা চুল তার দিকে মারতাম শরিরে ছোয়াতাম সে বললো "দে-দেখো এ-এসব কিন্তু ঠিক হচ্ছেনা"। তখন থেকে পড়াতে এসে শুধু আমার খোঁপা খুলতে চাইত। গোসল করে আসার পর আমার চুলের গন্ধ দিতে চাচ্ছে আমি গামছা দিয়ে চুলের ঝাপ্টা মারলাম। 

এবার আচমকা স‍্যারের মোহভঙ্গ হল। ‘'নাহ্ এসব ঠিক হচ্ছেনা। আমি এসব কি করছি ছাত্রীর সঙ্গে!’' আমি তোমার চুল সব কেটে ফেলব এক্ষুনি বড় একটা কাঁচি আনো।
তার মন জয়ের জন্য আমি যেকোন কিছু করতে পারতাম। তাই যেমন বলা তেমনি করা। প্রায় দু'হাত চুল ধরল কাটবার জন্য। আমি বললাম আরো বেশি করে কাটেন। অনেকখানি কাটার পর অনেকটা লম্বা তাই স্যার কে বললাম আপনার প্রাণে যতখানি চায় কাটেন। স্যারের হাত কাঁপা শুরু করল। তারপর থেকে স্যার আমার চুলের পাগল।
তবে বাবা মা এত আহ্লাদ পছন্দ করেনি। ইন্টার পাশের পর বিয়ে দিয়ে দেয়। তখন চুল আবার আমার চুল হাঁটু ছুঁই ছুঁই।
হঠাৎ আওয়াজ এলো "ম্যাম আপনার সিরিয়াল এসেছে চলুন" চোখ ঘোরাতেই দেখি সেলুনের এক কর্মী। চেয়ারে গিয়ে বসলাম। নাপিত খোঁপার পেন্সিল আর মাথার পিন গুলো খুলার পর বেরিয়ে আসলো এক মেঘ চুল। চেয়ার আর উচু করা যাচ্ছেনা বলে নাপিত।
আমার কি কপাল! আমার মত সুকেশার কপালে জুটল কিনা এমন এক স্বামী যে লম্বা চুল ঘৃণা করে। বিয়ের পর আমার মাথা ভরা চুল দেখার পর রাগে আগুন। কিন্তু শাশুড়ি ও মায়ের মত লম্বা চুল কেটে ছোট করতে একদম মানা। এদিকে শ‍ শ্যালিকা আমাকে দেখতেই পারেনা বলে: “দেখব কতদিন তোমার এই চুল থাকে।"
আমার স্বামী সবসময় হয়ত ইচ্ছে করেই ডেট ওভার হওয়া শ‍্যাম্পু, তেল আনতো আমার জন্য। আমি এগুলো হাসিমুখে ব‍্যবহার করতাম। আলাদা বাসা নেয়ার পর থেকে আরও অনেক কিছু শুরু হয়। যেমন ময়লা কাপড়ের পরিবর্তে আমার লম্বা চুল দিয়ে ঘর মুছাতো। এত জোড়ে টান দিয়ে মোচড়াতো যে খুব ব্যাথা হত আর বলত ‘যতদিন তোর এই চুল থাকবে ততদিন তোর প্রতি আমার কোন ভালবাসা নাই।’ শাশুড়ি কেবলই বলে "সমস্যা নেই একদিন তোর চুলে পাগল হয়ে যাবে আমার ছেলে দেখিস।"
যাক এসবের মাধ্যমে একবার চুল পড়া শুরু হলে আর এই সৌন্দর্য থাকবেনা তখন মা শাশুড়ি কে মানাতে পারব চুল কাটতে। কিন্তু আমার কি কপাল। এত কিছুর পর ও একটা চুলও পড়েনা। চুলের শাইন আর লাবণ্য একটুও কমেনা। কেন যে এমন চুল নিয়ে জন্মালাম।
৭ বছর পর, আজও সে আগের মতই ডেট এক্সপায়ার্ড শ‍্যাম্পু আর চুল দিয়ে ঘর মোছা জারি আছে। অন্য মেয়ের সাথে সম্পর্ক চলে তার। আজও সন্তানের মুখ দেখলাম না। তবে এখন অনেক চুল পড়া শুরু হয়েছে। চুলে আর আগের লাবণ্য নেই। তবে এখন কি মানাতে পারবো তাদের।
বাবার বাড়ি যাবার পর মা এসেছি দেখেই আগে আমার খোঁপা খুলে দেখলেন— বাহ! এখনো কি সুন্দর আমার মেয়ের চুল। আমার মুখে হতাশার ছাপ দেখে হয়ত মায়ের মুখের হাসিও ম্লান হয়ে গেল।
তার পরের দিন স্বামী মদ্যপ অবস্থায় বাসায় এসে আমার মোটা বেণী দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে বলছিল:– দেখি তোর এই চুল আজকে কিভাবে থাকে! আমার দম বন্ধ হয়ে আসছিল আর চোখ দিয়ে পানি বেয়ে পড়ছিল।
নাহ! এসব আর কতকাল সহ্য করব! ভেবে ভেবে রান্নাঘরে কাঁদছিলাম তখন চোখ গেল চুলায় ফুটন্ত গরম পানির দিকে। তাকিয়ে রইলাম সেদিকে। এরপর খোপার কলম আর পিন গুলো খুললাম আর সমস্ত চুল ফুটন্ত পানিতে ডুবালাম আর ভাবতে থাকলাম সেই দিনগুলির কথা। সেই মাঠে একসঙ্গে খেলা, জুনিয়র বৃত্তি পরিক্ষার পরীক্ষকের সেই নোংরামি সব স্মৃতিগুলি ফুটন্ত পানিতে ভেসে আসছিল তাই চেয়েই থাকলাম সেই দিকে।
ম্যাডাম কতটুকু কাটব? আপনার চুল মারাত্মক ড্যামেজড কিন্তু চুলের ঘনত্ব, লেংথ, শাইন সবকিছুই সুন্দর। আমি বললাম- কাটতে থাকুন যতক্ষণ না এই সব চুল শেষ হয়ে যায় এই সব কস্টের মূল শেষ হয়ে যায়! "
–ওকে ম্যাম তাহলে আপনাকে বয়কাট দেই কারন মাথার কাছের চুলগুলো একটুও ড্যামেজ হয়নি; খুব সুন্দর দেখতে।
বয়কাট দেয়ার পর কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলাম এরপর মাটিতে পড়ে থাকা চুলের সমুদ্রের দিকে তাকালাম। তারপর হঠাৎ আয়নার দিকে তাকিয়ে বললাম ‘‘এবার মাথা পুরো ন্যাড়া করে দিন আর মেডিসিন দিয়ে দিন যেন আর চুল না গজায়।’’

আজ হয়ত বড় আপুরা নেই যে বলবে চুলগুলি ফেলে না দিয়ে তাদের দিয়ে দিতে। আজ হয়ত সেই স্যারও নেই যে এই চুল কাটতে দেখে মায়া লাগবে। 

[সংগৃহীত]

Tuesday, April 14, 2020

চাচার জেদে চাচীর হেয়ারস্টাইল চেঞ্জ (শেষ পর্ব)

চাচা এবার বারান্দার মুখে দাঁড়িয়ে নাপিতকে উদ্দেশ্য করে বলতে লাগলেন -- ‘‘এমন করে কাটবেন যাতে পিছনের চুল দিয়ে একটা ঝুঁটিও বাঁধতে না পারে। খালি মাথার তালুতে যেন বাচ্চা মেয়েদের মত একটা ছোট ঝুঁটি বা মাথার দুই কোণে ছোট দুইটা ঝুঁটি করার মত চুল থাকে। আর চুলের সিঁথি মাথার মাঝখান থেকে যেকোন একপাশে নিয়ে যাবেন। আর গাল আর ঘাড় কামিয়ে দেবেন। 

- তারমানে একদম বেটাগো মত চুল কাটমু?
চাচা মাথা নেড়ে সায় দেন।
- শর্ট না মিডিয়াম?
চাচা শ উচ্চারণ করে পরে মিডিয়াম বলে লিভিং রুমে যান।

এদিকে চাচীর মুখের ওপর চুল ঝুলছে। ফোঁস করে নাক টানার শব্দ শুনে তিনি কাঁদছেন বোঝা যাচ্ছে। তিনি হয়ত ভাবছেন- চাচা কেন তার সঙ্গে এমনটা করছেন। এদিকে নাপিত তার এলোমেলো চুলগুলো সব পিছনে আনেন। চুলে বেশ কয়েকবার আঙ্গুল চালান তারপর পাটের ব্যাগ থেকে একটা চিরুনি বের করে চুল আঁচড়ান বেশ কয়েকবার। তারপর মাথার কাছাকাছি চুল মুঠো করে ধরে বারান্দার মুখে দাঁড়িয়ে থাকা আমার কাছে একটা রাবার ব্যান্ড চান। আমি একদৌড়ে চাচীর বেডরুম থেকে কয়েকটা রাবার ব্যান্ড এনে নাপিতকে দিই। নাপিত এবার চাচীর চুল আরো কয়েকবার আঁচড়ে চারভাগ করে চারটি ঝুঁটি করলেন। মাথার তালুর সামনে থেকে কপালের ওপর ঝোলানো চুল একভাগে, মাথার দুপাশে ২ কানের সামনে ২ ভাগ, ২ কানের পিছনে পিঠ বেয়ে চলা সব চুল ১ ভাগ। এবার কাঁচি তুলে সবচাইতে লম্বা পনিটেল মানে পিছনের চুলে কাঁচি লাগিয়ে আস্তে আস্তে চেপে বসাতে লাগলেন। ১ মিনিট পরেই একটা ক্ষীণ ছিক শব্দে পনিটেল চাচীর মাথা থেকে আলগা হয়ে নাপিতের হাতে চলে আসে। এবারে ইলেক্ট্রিক ক্লিপারের চার্জার খুলে গার্ড লাগিয়ে ঘাড়ের যেখান থেকে পনিটেল কাটা হয়েছিল সেখানে ধরে উপরের দিকে কাটতে শুরু করেন। চাচীর মেছকির ওপর কাটা চুল ঝরঝর করে ঝরতে থাকে। মাথার পিছনটায় ভোঁ ভোঁ শব্দ করে ক্লিপারের ঘর্ষণে চাচী চমকে উঠেন। এবার কানের দুপাশে বাঁধা পনিটেল কাঁচিতে কেটে তারপর শুরু করেন কানের সামনে থেকে মাথার দুপাশের চুল ক্লিপিং করা। দুপাশের চুল ছোট করা হয়ে গেলে তিনি ট্রিমারের গার্ড খুলে চিপের আর ঘাড়ের যেখানে চুল গজানো শেষ সেখানটা একটু সরলরেখায় কেটে নিলেন। এখন চাচীর মাথার সব পাশের চুল ছোট খালি মাথার তালুতে একটা পনি বাদে। এবার উনি সেই মাথার তালুর পনির গোড়ায় কাঁচি ধরলেন কিন্তু চাচার নির্দেশ মনে করে রাবার ব্যান্ডটা ৩/৪ ইঞ্চি উপরে তুলে অতঃপর ব্যান্ডের নিচে কাঁচি দিয়ে কাটলেন। এরপর আমাকে ডেকে একটা বোতল বাড়িয়ে দিলেন পানি আনতে। এনে দিলে বোতলের মুখে স্প্রেয়ার লাগিয়ে তা দিয়ে সারা মাথায় পানি স্প্রে করে প্রথমেই মাথার তালুর চুল কিছু ছোট করলেন তারপর মাথার ডানপাশে নতুন সিঁথি কেটে মাঝখানের সিঁথি মিলিয়ে দিলেন। তারপর কপালের সামনের চুলের বামপাশ ডানপাশ অপেক্ষা খানিকটা ছোট করে দিলেন। তারপর ক্ষুর আর নতুন ব্লেড বের করে অর্ধেক ভেঙে ক্ষুরে লাগিয়ে কানের পিছনে, কানের লতির সমান্তরালে আর ঘাড় কামিয়ে দিলেন। সব শেষে মাথার চারপাশে ও ওপরে আরেকবার কাঁচি চালিয়ে লুক মানানসই করে নিলেন। অতঃপর চাচীকে সুন্দর করে মাথা আঁচড়ে, পাউডার কেস বের করে স্পঞ্জ দিয়ে পাউডার লাগালেন ও সেটা দিয়ে চাচীর মুখ ও কাঁধের ওপরকার চুল ঝেড়ে ফেললেন। তারপর চাচী উঠে নিজের মাথার চারপাশে হাত দেয় এবং পিছনে ফিরে দেখে তার সব চুল ফ্লোরে পড়ে আছে। চাচী কোনো কথা না বলে বাথরুমে গোসল করতে ঢুকলেন।

চাচা এদিকে নাপিতের পাওনা মিটিয়ে দিলেন। ইতিমধ্যে চাচী যে গোসল সেরে বেরিয়ে নিজের স্পেশাল রুমে গিয়ে দরজা আটকালেন আর খুললেন না। চাচা কিছুটা ভয় পেলেন তবে তিনি জানতেন চাচী ওভাররিএ্যাক্ট করবে না। এদিকে সন্ধ্যায় বুয়া এসে তো বেডরুম আর ব্যালকনি ঝাড়ু দিতে গিয়ে চুলের ঢিবি দেখে অবাক। অবশ্য চাচী এর মধ্যে একবার রুম থেকে বেরোলে চাচীকে দেখেও সে তাজ্জব হলো। রাতের খাবার খাওয়ার সময়ও চাচী কোনো কথা বললেন না। তবে রাতে চাচার সঙ্গে এক বিছানাতেই ঘুমালেন। টানা ৩ দিন চাচী আমাদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি। সবশেষে ৪ দিন পর সকালে চাচী আমাকে বলল- জানিস নাফি তোর চাচ্চু আসলে আমার চুল কাটিয়ে ভালো করেছে; আগে তো গোসলের পর চুল ভালো ভাবে মোছা আর শুকানোর জন্য সময় লাগত এখন আর লাগছে না, তার পর কিভাবে চুল বাঁধলে লুক ঠিক থাকবে সে নিয়ে চিন্তা ভাবনা করে তৈরি হতে হত। এখন তো এক আঁচড়েই রেডি, সময় কম লাগছে, চুলের মধ্যে আর জট পড়ে না। সেদিন তোর এক আন্টি বলল : আমাকে নাকি আগের থেকে অনেকটা ইয়ং লাগে। আসলে আমিও অনেক দিন যাবৎ ভাবছিলাম চুল ছোট করে ফেলি কিন্তু ভালো দেখাবে কি না সেটা ভেবে আর করা হয়নি। তোর চাচ্চুর জেদে যাক সেটা ট্রাই করা হলো। আমি বললাম : তাহলে তুমি কি চুল এবার থেকে ছোট রাখবে? চাচী বলেন : তোর চাচ্চু তো প্রথম রাতেই বলেছিল এখন থেকে এভাবেই রাখতে। তোর কয়েকজন আন্টিও বলেছে এমনই রাখতে। আমিও তাই ভাবছি; তোর চাচ্চু বললে বড় হতে দেব নাহলে ৩ মাস বাদে কেটে ফেলব। 


চাচার জেদে চাচীর হেয়ারস্টাইল চেঞ্জ (১ম পর্ব)

আমি নাফি। একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩য় বর্ষের ছাত্র। জন্মের পরপরই মা মারা যাওয়ায়, বাবা বিবাগী হয়ে আমাকে চাচা-চাচীর হাতে তুলে দিয়ে নিরুদ্দেশ হন। নিঃসন্তান চাচা-চাচীই আমাকে পিতৃমাতৃস্নেহে এত বড় করেছে। এবার আসল কথায় আসি। আমার একটি লুকানো অভিলাষ বা ফেটিশ আছে। আমার ফেটিশ হচ্ছে মেয়েদের চুল নিয়ে। এ পর্যন্ত আমি কয়েকজন মেয়ে বন্ধুর চুল কাটা স্বচক্ষে দেখে নিজের ফেটিশ সন্তুষ্টি করেছি কিন্তু আমার মনোবাঞ্ছা হলো আমাকে মাতৃস্নেহ দেওয়া চাচীকে ছোট চুলে দেখা। চাচীর সোজা রেশমি চুল বর্তমানে প্রায় কোমর পর্যন্ত। এককালে প্রায় হাঁটু পর্যন্ত লম্বা ছিল কিন্তু বয়স বাড়তে বাড়তে চুলের দৈর্ঘ্য হ্রাস পায়। তাছাড়া চাচীও এমনিতে সাজগোঁজ পছন্দ মহিলা। গত কয়েক বছর ধরে উনি ২ মাস অন্তর হাই ক্লাস দামী পার্লারে গিয়ে চুলের আগা ট্রিম করান ও স্টাইল করিয়ে আসেন। এর মাঝে অনেক বার ইনিয়ে বিনিয়ে চাচীকে চুল কাটবার প্রস্তাব দিলেও চাচী রাজি হননি বরাবর এড়িয়ে গেছেন। তবে ঘটনাচক্রে একদিন আমার মনোষ্কাম পূর্ণ হয়। আজ সে গল্পই বলব।

আমার চাচা ব্যবসায়ী মানুষ। ঠিকাদারি ব্যবসা করেছেন বহুদিন যাবৎ। তারপর নামলেন রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়। মূলত চাচার অক্ষমতার জন্যই তারা সন্তানবঞ্চিত। চাচা অবশ্য চেয়েছিলেন চাচী যেন অন্যত্র নতুন করে সংসার পাতেন কিন্তু চাচীই ওনার সঙ্গে থেকে যান। যাই হোক একদিন চাচা আমিসহ একটা জমি দেখে বাড়ি ফিরছিলেন। হঠাৎ তিনি মাঝরাস্তায় গাড়ি থামিয়ে রাস্তার বামপাশে তাকিয়ে আমাকে বললেন: ‘দেখত ওটা তোর চাচী না?’ আমি তাকিয়ে দেখলাম, চাচী একটা লোকের সঙ্গে হেসে হেসে কথা বলছে। আমি চাচাকে জিজ্ঞেস করি ‘বেরিয়ে দেখবে?' চাচা না বলে গাড়ি চালানো শুরু করেন। চাচা অবশ্য চাচীর কাছে কখনো তার দৈনন্দিন জীবন নিয়ে কিছু জানতে চান না। আরেকদিনও চাচা বাড়ি এসে আমাকে বললেন: আজকেও না তোর চাচীকে দেখেছি একটা হোটেলে সেই লোকের সঙ্গে বসে কফি খাচ্ছে। আমি শুনেও না শুনার ভান করে থাকলাম। আমার মনে হলো চাচা খুব হতাশার মধ্যে আছেন। অন্য আরেকদিন মাসের ১ম দিনে চাচা বাসায় বসে ক্রেডিট কার্ড স্টেটমেন্টস চেক করছিলেন। তিনি স্টেটমেন্টে দেখেন চাচী পার্লারে প্রচুর টাকা ব্যয় করছেন। তিনি ডায়মন্ড উম্যান সেলুন নামের একটি সেলুনে ৳১৫০০০০ খরচ করেছেন। বলা বাহুল্য এর মধ্যে চাচা এক ঠগের পাল্লায় পড়ে বেশ কিছু টাকা গচ্চা দিয়েছেন। তার ব্যবসায়ের বেশ খানিকটা লোকসান হয়েছে এছাড়াও চাচীকে পরপর দুবার এক আগন্তুকের সাথে দেখে চাচার মন বিতৃষ্ণ ছিল। আর এখন চাচীর এই বিপুল পরিমাণ টাকা পার্লারে ওড়ানো দেখে চাচার মেজাজ বিগড়ে যায়।

চাচা চাচীকে ডাকতেই চাচী বেডরুমে ড্রেসিং টেবিলের সামনে থেকে মাথার ওপর মস্ত খোঁপা নিয়ে উঠে আসেন। চাচা তার বের হবার মতলব বুঝতে পেরে জিজ্ঞেস করল- কোথাও যাচ্ছ? চাচী উত্তর দেন- পার্লার যাচ্ছি চুলের আগা ট্রিম করাতে।
চাচা : কোথায়?
চাচী : ডায়মন্ড উম্যান সেলুন।
চাচা : কোথাও যাবে না তুমি। অনেক দিন ধরে দেখছি তুমি পার্লারে গিয়ে বেহিসাবি খরচা করছ। এটা অতিরিক্ত হয়ে যাচ্ছে। আমি আর সহ্য করব না।
চাচী : কিন্তু আমার চুল ট্রিম করা দরকার।
চাচা : তাহলে অন্য কোনো পার্লারে গিয়ে সস্তায় করাও।
চাচী : (বিরক্ত হয়ে) আশ্চর্য! আমি কোথায় যাব সেটা কি এখন তুমি ঠিক করে দিবে?
চাচা : (ক্ষিপ্ত স্বরে) বেশ আমি তবে তোমার জন্য অন্য ব্যবস্থা করছি।
চাচা আমার রুমের দরজা একটু খুলে মাথা ঢুকিয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন তোর কোনো কাজ না থাকলে আমার সঙ্গে বেরোবি? চাচার চড়া গলা শুনে আমি আর দেরি না করে একটা শার্ট পরে চাচার সঙ্গে গাড়ি করে বের হলাম। একই সময়ে চাচীও অন্য গাড়িতে ড্রাইভার নিয়ে পার্লারের দিকে গেলেন। 


চাচার সঙ্গে একটা দালানের কন্সট্রাকশন তদারকি তারপর সেখান থেকে ঘুরে চাচার অফিসে এসে দুপুরের খাবার খেয়ে কিছু টুকটাক কাজ সেরে আবার চাচা আমিসহ গাড়িতে বের হলো। আমি অবাক হচ্ছিলাম চাচা কেন আজ আমাকে সঙ্গে নিয়ে এলো। গাড়ি চালাতে চালাতেই চাচা আসল কথাটা পাড়লেন। আমাকে চমকে দিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন: “এই শহরে সস্তা নাপিতের দোকান চেনা আছে?” আমি বলি ঠিক চেনা নেই তবে গলির ভেতর আছে জানি। চাচা আমাকে গাড়ি চালিয়ে সেখানে নিয়ে যেতে বলল। আমিও আর কিছু জানতে না চেয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে সেই গলির দিকে চললাম। তারপর গলির মুখে গাড়ি রেখে আমরা দুজন হেঁটে গলির ভেতর ঢুকে নাপিতের দোকান খুঁজতে লাগলাম। কিছু লোককে জিজ্ঞেসের পর পাশাপাশি কয়েকটা নাপিতের দোকান তালাবদ্ধ অবস্থায় খুঁজে পেলাম। তারপর আরেকটু সামনে এগিয়ে একটি দোকান খোলা পেলাম সেখানে চাচার বয়সী একজন লোক টিভি দেখছিলেন। দোকানে পা রাখতেই লোকটি রিমোট ছেড়ে দাঁড়িয়ে বলল: কি করাবেন? চাচা বলল- এখানে না, সাথে চলেন। তারপর লোকটা কাঁচি, চিরুনি সমস্ত কিছু একটা পাটের ব্যাগে সঙ্গে নিয়ে দোকানে তালা মেরে বেরিয়ে এলেন। তারপর তাকে নিয়ে আমরা গাড়ি করে বাসায় যখন এলাম তখন বিকাল ৪:৩০।

চাচা রুমে ঢুকেই ওনাকে ফ্ল্যাটের পিছনের বারান্দায় ১টি টুলে বসিয়ে সামনে নিচু আরেকটি টুল রেখে চাচীকে ডাকলেন। চাচী তখন বেডরুমে শুয়ে একটা ম্যাগাজিন পড়ছিলেন। চাচী সাড়া দিলে বেডরুমে গিয়ে চাচীকে বললেন বারান্দায় চলো।
চাচী : কেন? বারান্দায় কি হবে?
চাচা : তোমার যাতে আর চুল ট্রিম করাতে না হয় তার ব্যবস্থা করেছি।
চাচী : (রেগে গিয়ে) কি যা তা বলছ? মাথা ঠিক আছে?
চাচা এবার চাচীর হাত ধরে টানতে থাকেন। চাচীও প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। দুজনের মধ্যে তর্কাতর্কি হয় কিছু। আমি এদিকে সেই নাপিতকে ফ্লাস্ক থেকে গরম চা আর বিস্কুট খেতে দিই। নাপিত তার পাটের ব্যাগ থেকে চিরুনি, কাঁচি বের করে ও ইলেক্ট্রিক ক্লিপার চার্জে দেয়। আমার মনে বেশ খুশি লাগছিল ভেবে আমার মনের আশা আজ চাচার উছিলায় পূর্ণ হবে। শেষমেশ চাচী চাচার সঙ্গে পেরে উঠলেন না। চাচীর হাত ধরে চাচা বেডরুম থেকে বেরিয়ে বারান্দায় আসতে দেখলাম চাচীর চুল এক পাশে ১২/১৩ ইঞ্চি কাটা আর চাচার হাতে একখানা কাঁচি বিকালের রোদে চকচক করছে। তারপর চাচীকে ঐ নাপিত লোকটার সামনে বসিয়ে দিয়ে চাচা ন্যা... বলতে গেলেই আমি চাচাকে টেনে একপাশে এনে বলি; করছটা কি চাচ্চু? প্রায়ই তোমরা দুজনে একসঙ্গে পার্টিতে যাও, নিজেদের বাসাতেও পার্টি হয়। ওখানে চাচী ন্যাড়া মাথায় কি করে যাবে? এছাড়া বাসায় প্রায়ই তোমার বন্ধুরা আসে আবার চাচীর বান্ধবী, পাড়া পড়শি ঘনঘন বিকেলে এসে বসে আড্ডা দিয়ে যায়। এসব লোকদের সামনে চাচী কি ন্যাড়া মাথায় যেতে পারবে? আর ভুলে গেলে সামনে তোমাদের কুড়িতম বিবাহবার্ষিকীর পার্টি করবে বাসায়। এসব শুনে চাচার রাগ পড়ল। তিনি মাথা ঠাণ্ডা করে জিজ্ঞেস করলেন; তবে তুই-ই বল কি করা উচিৎ? আমি বলি: চাচীর চুল এক্কেবারে ছোট করে দিতে বল। চুল ছোট করলে চাচীর পার্লার যাওয়া বন্ধ হবে শিওর। চাচ্চুর মুখ দেখে বুঝলাম প্রস্তাব চাচার মনে ধরেছে। 

(চলবে...)

Wednesday, April 8, 2020

যে ৭টি কারণে চুল ছোট রাখাটাই সবদিক দিয়ে ‘ভালো’

আজকালকার আধুনিকারা অনেকেই চুল ছোট রাখতেই ভালোবাসেন। হ্যাঁ, লম্বা চুলের আবেদন অস্বীকারের কোন উপায় নেই। তবে ছোট চুলের স্টাইলিশ আকর্ষণটাও কিন্তু অনেক। হাজার রকমের হেয়ার কাট বেরিয়েছে, আজকাল, অনেক নারীই সেসব দিয়ে পাল্টে ফেলতে ভালোবাসেন নিজের লুক। ফলে বলাই বাহুল্য যে ছোট চুলটাকেই নিজের স্টাইল বানিয়ে ফেলেন। চলুন, আজ জেনে নিই কেন এই ছোট চুলের ফ্যাশন আসলে আপনার জন্য ভালো!

১) কর্মজীবী নারীদের জন্য ছোট চুল একটা আশীর্বাদ। চুলের যত্নে কিংবা চুল সজ্জায় সময় দিতে হয় না বলে বাড়তি সময়টা দিতে পারেন নিজের কাজে ও জীবনে। কতটা যে আরাম হয়, সেটা কেবল নারীরাই জানেন।

২) সকালে যাদের খুব তাড়াহুড়ায় অফিস, ক্লাস বা বাচ্চাদের স্কুলে যেতে হয় তাঁদের জন্যও ছোট চুল খুবই আরামের। সময় নিয়ে আঁচড়ানোর বা বাঁধার কোন প্রয়োজন নেই। একটু চিরুনি বুলিয়ে নিলেই আপনি তৈরি।


৩) চুল ছোট থাকলে চুল পড়ে কম। ছোট চুল চিরুনির সাথে ভাঙে না, জট পড়ে ছেঁড়ে না, ছোট চুলে পুষ্টির সরবরাহটাও বেশিই মেলে। সব মিলিয়ে চুল থাকে ঝলমলে ও সুন্দর।

৪) একটা জিনিস ভুলে যাবেন না, ছোট চুলে কিন্তু আপনাকে বেশ তরুণী দেখায়। কষ্ট করে বয়স লুকাবার আয়োজন করার চাইতে ছোট চুলের স্টাইল ধরে ফেলুন।, এমনিতেই তরুণী দেখাবে।

৫) ছোট চুলের পেছনে যে কোন হেয়ার কেয়ার প্রোডাক্টের খরচই অনেক কমে যায়।

৬) স্টাইলিশ করে চুল ছোট করে কাটলে না চাইতেও আপনাকে দেখায় সুপার স্মার্ট। লম্বা চুল ঠিক মত মেইনটেইন করতে না পারলে আপনার লুক নষ্ট হতে বিন্দুমাত্র সময় লাগে না।

৭) ছোট চুলের বলতে গেলে কোন পার্লার খরচ নেই। আপনি চুলে রঙ করান বা হেয়ার ট্রিটমেন্ট নিন, ছোট চুলের কারণে কিন্তু খরচ কমে যায় অনেকটাই।

(বিউটি মান্ত্রা অবলম্বনে)

Thursday, March 26, 2020

সেলুনে গিয়ে মায়ের চুল কাটানো (শেষ পর্ব)

মুহিত দেখল তার বহুদিনের লালিত আকাঙ্ক্ষা পূরণ হতে গিয়েও হচ্ছে না। সে তড়িঘড়ি বলল চল মা আমার এক পরিচিত সেলুন আছে ওখান থেকে চুল কাটিয়ে নিয়ো।
মিসেস নওশিন : ধুর ওরা কি মেয়েদের চুল কাটতে পারবে নাকি? বাদ দে। ফিরে চল। মুহিত নাছোড়বান্দা; সে বলল ধ্যাৎ মা কি যে বল না। চুল কাটা নিয়ে কথা। যে কাটতে জানে সে সবারটাই কাটতে পারে। তুমি চল তো এই বলে মুহিত তার মায়ের হাত ধরে টেনে নিয়ে চলল। হরতালের দরুণ রাস্তায় যানবাহন তেমন ছিল না তবুও সৌভাগ্যক্রমে তারা একটা রিক্সা পেয়ে তাতে চড়ে বসল এবং ১০ মিনিটের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছলো। মিসেস নওশিন ভাড়া চুকিয়ে মুহিতের পিছু পিছু রোড ক্রস করে ওপারে অর্ধেক শাটার নামানো দোকানের বারান্দায় পা রাখলেন।

মুহিত শাটারে দু-তিনবার টোকা দিতেই একজন খোঁচা খোঁচা দাড়িগোঁফওয়ালা পঞ্চাশোর্ধ্ব এক ভদ্রলোক শাটার তুলে হাসিমুখে বললেন এসো মুহিত বাবা ভেতরে এসো। মুহিত তার মা'র দিকে তাকিয়ে ইশারা করে ভেতরে আসতে বলল। মুহিত ঐ লোকটিকে জিজ্ঞেস করল দোকান কি আজ বন্ধ চাচা? চাচা উত্তর দেন- না বাবা দোকান তো খোলাই তবে সকাল থেকে কাস্টমার নাই আর কর্মচারীরাও হরতাল মাথায় করে আসে নাই। তো বাবা বলো কি সার্ভিস নেবা? মুহিত বলে আমি না চাচা আমার মা। চাচা খেয়াল করলেন মুহিতের পিছনে একজন মহিলা দাঁড়ানো। চাচা বলেন বসেন আপা বসেন। আজকে কি দুর্দিনে আপনি আসলেন। মুহিত তো দোকানে আসলেই আপনার কথা বলে। আজকে দেখা হইলো অথচ মেহমানদারি করতে পারতেছি না। মিসেস নওশিন হেসে উত্তর দেন ব্যাপার না। চাচা মুহিতকে জিজ্ঞেস করেন কি করাবেন তোমার মা? মুহিত বলল মাথার চুল ছাঁটাতে এসেছেন। চাচা মিসেস নওশিনকে চেয়ারে বসতে বললেন। মিসেস নওশিন মুহিতের কাছে হ্যান্ডব্যাগ দিয়ে চেয়ারে বসলেন। মুহিত তার মায়ের পিছনে আড়াআড়ি একটা চেয়ারে বসল যাতে চুল কাটা দেখবার সময় নাপিতের আড়াল না পড়ে। 

আর চাচা একটা পরিষ্কার গোলাপী রঙের কাপড় বের করে মিসেস নওশিনের গলায় বাঁধলেন। তারপর কানের কাছে মুখ নিয়ে বললেন কতটুকু কাটব চুল? মিসেস নওশিন প্রথমে অস্ফুট স্বরে বললেন কাঁধ পর্যন্ত পরে মুখ তুলে আয়নার দিকে তাকিয়ে মুহিতকে জিজ্ঞেস করলেন কতটুকু কাটলে ঠিক হবে রে মুহিত? মুহিত বলল তুমি কতটুকু কাটাবে বললে? মিসেস নওশিন বলেন- কাঁধ পর্যন্ত কাটলেই তো চলবে, তোর কি মত? মুহিত বলল- উঁহু কাঁধ পর্যন্ত কাটলে একমাস না পেরোতেই আবার ট্রিম করার দরকার পড়বে। মুহিত চাচার দিকে তাকিয়ে বলল ঘাড় পর্যন্ত কাটেন চাচা, মিডিয়াম বয়কাট দেন, ইলেক্ট্রিক ট্রিমার আর ক্ষুর ব্যবহার করবেন না। 

চাচা : মাথার চারপাশের চুল ১.৫ ইঞ্চি আর মাথার তালুতে ২ ইঞ্চি আর কপালের সামনে ২.৫ ইঞ্চি লম্বা রেখে কাটলাম তবে। মিসেস নওশিন মাথা নেড়ে সায় দিলেন। তারপর চাচা বাটি থেকে পানি নিয়ে মাথায় ছেটাতে লাগলেন আর মাথা ম্যাসেজ করতে লাগলেন। মাথার চুল ভালো মত ভিজে গেলে কোঁকড়া চুল আঁচড়ে সোজা করলেন। এরপর চুল একটু আলগা মুঠি করে ধরে রবার ব্যান্ড দিয়ে ঘাড়ের পিছনে হাল্কা ঢিলা দিয়ে পনিটেল বাঁধলেন। এরপর রবার ব্যান্ডের ঠিক উপরে কাঁচি দিয়ে পনিটেল কাটলেন। পনিটেল কাটা হলে সেটা নিয়ে মিসেস নওশিনের কোলে দিলেন। মিসেস নওশিন তার বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া চুল হাত দিয়ে ধরে দেখলেন। তারপর ঘাড় ধরে নুইয়ে দিয়ে মাথার পিছনের চুল কাটতে লাগলেন। ৫ মিনিটের মধ্যে মাথার পিছনের চুল কাটা শেষ করলেন। তারপর ডানে-বাঁয়ে কাত করে মাথার দুপাশের চুল কাটলেন। সবশেষে মাথার তালু ও সামনে কপালের ওপরের চুল কাটলেন। তারপর ভালো করে একনজর দেখে নিয়ে বললেন উঠেন আপা চুল কাটা‌ ফিনিশ। মিসেস নওশিন আয়নার দিকে তাকিয়ে একবার দেখলেন। ১ ঘণ্টা আগের নিজের চেহারার সঙ্গে আয়নায় দৃশ্যমান চেহারার মিল খুঁজে পেলেন না। কেপ খোলার পর মিসেস নওশিন উঠে দাঁড়িয়ে শরীর থেকে গুড়ো চুল ঝাড়লেন। তারপর মুহিতকে ডেকে হ্যান্ডব্যাগে হাত ঢুকিয়ে বললেন কত দেবো? চাচা বললেন আরে রাখেন মুহিত বাবা আমার ছেলের মত। আজকে এই অবেলায় আপনি আমার এখানে আসলেন। একটু মেহমানদারিও করতে পারলাম না। টাকা লাগবে না আপনি বাড়িতে যান। মিসেস নওশিন আর মুহিত তবুও জোর করতে লাগলেন। শেষে মাত্র ৫০ টাকা নিতে রাজি হলেন চাচা। আর বললেন সময় পেলে আমার বাড়িতে আসবেন আপা। মিসেস নওশিন ও মুহিত সেলুন থেকে বেরিয়ে রিক্সা না দেখে হেঁটেই বাড়ি ফিরল। পরদিন মিসেস নওশিন কলেজে গেলে সবাই তার নতুন হেয়ারস্টাইল দেখে আশ্চর্য হলো। তার কলিগেরা বলল আপনার বয়স যেন ১০ বছর কমে গেছে। মিসেস নওশিন সবার এই প্রশংসা উপভোগ করলেন। তিনি ঠিক করলেন এখন থেকে তিনি আর চুল বাড়াবেন না। মিসেস নওশিন এখন ৩ মাস অন্তর তার চুল কাঁধ ছুঁই ছুঁই করলেই চুল কাটিয়ে ফেলেন।

সেলুনে গিয়ে মায়ের চুল কাটানো (১ম পর্ব)

৪৪ বছর বয়সী মিসেস নওশিন একটি সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপিকা। তার ১ ছেলে ও ১ মেয়ে। বড় ছেলে মুহিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় বর্ষের ছাত্র আর ছোট মেয়ে সায়রা ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজে ৮ম শ্রেণির ছাত্রী, বোর্ডিংয়ে থেকে পড়াশোনা করে। তার স্বামী জাহাজের ক্যাপ্টেন তাই তিনি ৬ মাস পর পর বাড়ি আসেন। এই বয়সেও তিনি বেশ সুশ্রী ও কমনীয় দেহের অধিকারী। তার মাথা ভর্তি পুষ্ট কোঁকড়ানো চুল যা প্রায় পিঠের মধ্যভাগ অতিক্রম করেছে।

এবার আসি অন্য প্রসঙ্গে; তার ছেলে মুহিতের একটি অদ্ভুত বাসনা আছে। তা হলো তার মাকে ছোট চুলে দেখা। সে জানে না তার এই ইচ্ছা আদৌ পূরণ হবে কিনা। তবুও সে মনে মনে প্রার্থনা করে যেন তার মনোবাসনা পূর্ণ হয়। অবশেষে একদিন তার স্বপ্ন সত্যি হয়। সে গল্পই লিখছি আজ।

গ্রীষ্মকাল চলছে। মুহিতের ক্লাস শুরু হয় প্রত্যহ সকালে আর দুপুরের মধ্যেই তা শেষ হয়ে যায়। সেদিন ছিল বৃহস্পতিবার তাই মিসেস নওশিনের কলেজও অর্ধদিবস ক্লাস হয়ে ছুটি হয়ে যায়। বাসায় এসে গোসল সেরে মুহিতকে ডেকে খাবার দিয়ে নিজেও খেতে বসলেন। খেতে খেতে বললেন যা গরম পড়ছে এই কয় সপ্তাহ ধরে। উফ আর সহ্য করা যায় না।
মুহিত : হ্যাঁ মা ভীষণ গরম; মাঝেমধ্যে ক্লাসের সময় কারেন্ট চলে গেলে পুরো গোসল হয়ে যায়। মুহিতের মা বলে যান- হ্যাঁ রে গরমে ঘেমে চুল ভিজে যায় আর শুকালে পুরো আঠা আঠা। তার উপর বৃষ্টি হয় না কতদিন। রাস্তার সব ধুলাবালিছাই ঝাড়ুদারের ঝাঁটা আর গাড়ি ঘোড়ার চাকার সঙ্গে ঘুরে ঘুরে উপরে উঠে মাথা আর মুখ ভরিয়ে দেয়।
মুহিত খাবার খেতে খেতে বলল হ্যাঁ তোমার কলেজের রাস্তায় তো আবার কাজ হচ্ছে দেখেছি। ওদিকে ধুলাবালি আরো বেশি।
মিসেস নওশিন : আর বলিস না এই ধুলাবালির জন্য মাথায় খুশকি হয়ে গেছে। মাথায় ঘাম হলে তৎক্ষণাৎ মাথা ধুতে পারি না। কে জানে এর পর কোনো চর্মরোগ হয় কিনা চুলের মধ্যে।
মুহিত : তবে চুলে শ্যাম্পু করো না কেন মা?
মিসেস নওশিন : আরে এমনিতেই তো আমি সপ্তাহে তিনদিন শ্যাম্পু করি। সপ্তাহে ছয়দিন শ্যাম্পু করাটা আরো ঝামেলার। তারপর চুলের গোড়া পর্যন্ত শ্যাম্পু করতেও তো সময় লাগে। না চুলগাছির মায়া এবার ছেড়ে দিলেই ভালো। এই গরমে লম্বা চুল রাখা ব্যাপক ঝামেলার।
এ কথা শুনে মুহিতের চোখ চকচক করে ওঠে। তার মনে দীর্ঘদিনের লালিত ইচ্ছা পূরণ হবার সম্ভাবনায় তার মন উদ্বেলিত হয়। মুহিত বলে তুমি সত্যিই চুল কাটানোর কথা ভাবছ মা!
মিসেস নওশিন : হ্যাঁ কি আর হবে লম্বা চুল রেখে। অনেক দিন তো রাখলাম চুল। এবার বরং ছোট করেই দেখি। তুই কি বলিস মুহিত?
মুহিত মনের চাপা উল্লাস চেপে রেখেই বলল- হ্যাঁ মা কাটিয়ে ফেলো। এই গরমে এত লম্বা চুল কি সামলানো যায়। চারদিকে দেখছি অনেক মহিলাই গরমের জন্য চুল ছাঁটাচ্ছে। আমার কিছু ক্লাসমেট মেয়েও চুল ছাঁটিয়েছে দেখলাম।
মিসেস নওশিন : পরশু শনিবার তোরও ভার্সিটি ছুটি। তাহলে চল শপিং মলে গিয়ে হালকা কিছু শপিং করব। তারপর আমার দুইটা পরিচিত পার্লার আছে ওখান থেকে যেকোন একটায় চুল কাটিয়ে নেব।
মুহিত : আচ্ছা। 


সেদিন মুহিত রাতে ঘুমাতে পারল না। পরদিন শুক্রবার মুহিতের সময় যেন কাটতেই চায় না। জুম্মার নামাজ পড়ে বাড়িতে এসে খেয়েদেয়ে কিছুক্ষণ বিছানায় গড়াগড়ি করল। বিকালবেলা পার্কে গিয়ে হাঁটাহাঁটি করে সন্ধ্যায় হালকা নাস্তা করে পড়ার টেবিলে বসল। কিন্তু পড়ায় আর মন বসে না। রাতের খাবার খেয়ে সে নিজের ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়ল। ঘুম তো আসতেই চায় না। অবশেষে ঘুম এলো সাথে তার প্রিয় স্বপ্নও। স্বপ্নে দেখল তার মায়ের চুলের গোছা মেঝেতে গড়াগড়ি খাচ্ছে। আয়নার দিকে তাকিয়ে দেখে তার মায়ের গলায় জড়ানো সাদা কেপের সর্বত্র চুলের কণা, কোলে আরো কিছু চুল। স্বপ্নটা শেষ হবার আগেই তার ঘুম ভাঙল মায়ের ডাকে। বালিশের পাশ থেকে মোবাইল নিয়ে সে দেখল সকাল ৯টা বেজে গেছে। ইস দেরি করে ফেলেছি মনে মনে বলল মুহিত। টুথব্রাশে পেস্ট লাগিয়ে সে ওয়াশরুমে ছুট দেয়। মাঝখানে ডাইনিং রুমে দেখে তার মা নাস্তা সাজিয়ে বসে আছে। সে তাড়াতাড়ি ব্রাশ করে চোখমুখ ধুয়ে নাস্তা সাবাড় করল। তারপর ঝটপট আলমারি থেকে একটা টি-শার্ট আর একটা প্যান্ট পরে তৈরি হয়ে নিলো। মিসেস নওশিন ইতিমধ্যেই তৈরি হয়ে আছেন। তারপর দুজনে বেরোলেন শপিং মলের উদ্দেশ্যে। গিয়ে দেখেন এ মা! শপিং মল বন্ধ। প্রধান দরজায় নোটিশ ঝুলছে "আগামী ২ দিন শপিং মল খুলবে না।” নিচতলায় কিছু দোকান খোলা আছে। মুহিতের মনে পড়ল আজ বিরোধী রাজনৈতিক দল হরতাল ৪৮ ঘণ্টার হরতাল ডেকেছে। মুহিতের মা বললেন : শপিংই আজ হবে না, শপিং মলের পার্লারে চুল কাটানো তো দূর। চলত মুহিত দেখি পার্কের অপোজিটের পার্লার খোলা আছে কিনা। ৭/৮ মিনিট হেঁটে সেখানে গিয়ে দেখল ঐ পার্লারও তালাবদ্ধ। মুহিতের মা নিরাশ হয়ে বিড়বিড় করে বললেন : যা বাবা চুলটাও কাটানো যাবে না আর এই সপ্তাহে। কি আর করা। চল মুহিত বাড়ি ফিরে যাই।
(চলবে...)

Friday, March 20, 2020

স্কুল হোস্টেলে উকুনের উপদ্রবে চুল ছাঁটানো

নূরবিলা বালিকা বিদ্যালয় নূরবিলা থানার স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে মাধ্যমিক শাখার ছাত্রীদের জন্য একটি আবাসিক হোস্টেল চালু করেছে। সেঁজুতি সেই স্কুলেরই নবম শ্রেণির ছাত্রী। সেঁজুতির মাথার চুল কোঁকড়ানো, বেশ ঘন আর পিঠের প্রায় শেষ অব্দি দীর্ঘ অবশ্য ভিজা অবস্থায় তা কোমর পর্যন্ত যায়। সেঁজুতি এতদিন বাড়িতে থেকে স্কুলে যাওয়া আসা করত। কিন্তু সম্প্রতি তার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ দুই বান্ধবী রিদিমা ও শর্মি হোস্টেলে উঠবার প্ল্যান করছে তাই সেও তার বাবা-মায়ের কাছে বায়না করল সেও হোস্টেলে থেকেই পড়াশোনা করবে। তার মা প্রথমত রাজি না হলেও পরে তার গোঁ এর কাছে হার মানলেন। সেঁজুতিকে কখনোই তার নিজের চুলের পরিচর্যা করতে হয়নি; তার মা-ই তার চুলের যত্ন নিত। সেঁজুতি তার নিজের চুল খুব ভালোবাসত। সেঁজুতির মা অবশ্য চাইতেন না সেঁজুতি এই ছোট বয়সেই দীর্ঘ চুল রাখুক তাই তিনি প্রায়ই সেঁজুতিকে তার চুলে মিডিয়াম বব কাট দিতে বলতেন। কিন্তু সেঁজুতি রাজি হতো না তাই তার মা তাকে চুলের আগা হাল্কা কেটে নিতে পার্লার নিয়ে যেতেন।

বাবা-মাকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে সেঁজুতি সদ্যনির্মিত হোস্টেলে উঠল। হোস্টেলের কেবল নিচতলা কম্প্লিট হয়েছে। নবম শ্রেণি মাধ্যমিকের সবচেয়ে জুনিয়র তাই তাদের আগে রুম বরাদ্দ দেয়া হলো। আর সেঁজুতিও তার ৩ বান্ধবী সহ একটি জুৎসই কক্ষ হোস্টেল সুপার ম্যাডামের অনুমতি নিয়ে দখল করে নিলো। এভাবে হোস্টেলে এক মাস গত হলো এর মধ্যে প্রথম সাময়িক পরীক্ষা শেষ হয় এবং গ্রীষ্মকালীন ছুটি শুরু হয়। এসময় সেঁজুতির বান্ধবী শর্মি গরমের ছুটিতে তার মাসির বাসায় বেড়াতে যায়। শর্মির মাসি তার চুলের যত্নে গাফিলতি করত ফলস্বরূপ তার মাথায় উকুন বাসা বাঁধে। শর্মি তার সঙ্গে কিছুদিন বেড শেয়ার করায় শর্মির মাথায়ও উকুনের উপদ্রব আরম্ভ হয়। শর্মি তখনও তা আমলে নেয়নি। এদিকে গরমের ছুটি শেষে সবাই হোস্টেলে ফিরে আসে। শর্মিও ফিরে আসে কিন্তু মাথাভর্তি উকুন ও উকুনের ডিম নিয়ে। ক্লাসে সেঁজুতি, শর্মি ও রিদিমা একসঙ্গে এক বেঞ্চে বসত; ডাইনিংয়ে একসঙ্গে খেতো, এছাড়াও তারা একে অপরের বিছানায়ও মাঝেমধ্যে শুতো। ফলে যখ হবার তাই হলো শর্মির মাথার উকুন তার সকল রুমমেটের মাথায় পৌঁছে গেল। সেঁজুতিসহ সবাই মাথা চুলকে চুলকে অস্থির। তেল দিলে খানিকটা আরাম পায় কিন্তু তেল না দিলেই উশখুশ, অশান্তি। প্রতিদিন বিকেলে উপরনিচ করে বসে বসে উকুন বাছা তাদের নিত্যক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে‌‌। ক্লাসেও তারা উকুনের কামড়ে পড়ায় মনোযোগ দিতে পারছে না। এদিকে সহপাঠীদের সাথে দুষ্টুমির ছলে তারা নিজের মাথা থেকে উকুন নিয়ে ক্লাসের অন্যান্য ছাত্রীদের মাথায়ও দুয়েকটা উকুন ছেড়ে দিয়েছে। ব্যস আর যায় কোথায়! সারা হলের মেয়েদের মাথায় উকুনের ছড়াছড়ি। মেয়েরা আগে বিকাল হলেই ব্যাডমিন্টন, ভলিবল খেলতে স্কুলের মাঠে নামত। নতুবা কমনরুমে গিয়ে পত্রিকা, ম্যাগাজিন পড়ত কিংবা দাবা, লুডু বা ক্যারম খেলত। এখন তার বদলে বিকালে তারা হোস্টেলের সিঁড়িতে বসে উকুন বাছতে। হোস্টেল সুপার ম্যাডাম এবং সহকারী আবাসিক শিক্ষিকারা তা লক্ষ্য করলেন। এছাড়াও উকুনের কারণে ছাত্রীরা মাথা পরিষ্কার করতে প্রচুর পরিমাণে জল ব্যয় করছে। 


তাই হোস্টেল সুপার ও সব শিক্ষয়িত্রীরা হেডমিস্ট্রেসের কথায় মিটিংয়ে বসলেন। কেউ কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারছে না। কেউ বললেন হোস্টেলের মেয়েদের উকুন বিনাশী শ্যাম্পু সরবরাহ করা হোক তো কেউ বললেন নিমপাতা সরবরাহ করে তা বেটে স্নান করতে বলা হোক। এক শিক্ষিকা রাগের ভরে বলেই ফেললেন স্কুলে নাপিত ডেকে এনে ছাত্রীদের মাথার চুল কামিয়ে দেওয়া হোক। শেষমেশ স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা প্রস্তাব করলেন মেয়েদের চুল না কামিয়ে ছোট করে ছাঁট দেওয়া যেতে পারে। এতে উপস্থিত সবাই সম্মতি দিলেন।

অতঃপর সেদিন রাতে রাতের খাবার শেষ করে হোস্টেলে থাকা সকল ছাত্রীদের হোস্টেলের অতিথি কক্ষে হাজির থাকতে নির্দেশ দিলেন হোস্টেল সুপারিনটেনডেন্ট। তাই সেঁজুতিসহ সব মেয়েরা আগেভাগেই ভোজনপর্ব চুকিয়ে অতিথি কক্ষে প্রবেশ করল। তারপর সেখানে হোস্টেল সুপারিনটেনডেন্ট ও আবাসিক শিক্ষিকারা এলেন। তারা সব মেয়েদের উদ্দেশ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার গুরুত্ব, ধর্মীয় তাৎপর্য ও না থাকার অপকারিতা নিয়ে ছোটখাটো বক্তব্য দেন। তারপর তাদের এই উকুনের সমস্যা নিয়ে কিছুক্ষণ ভর্ৎসনা করলেন। সব শেষে হোস্টেল সুপার বললেন কালকে ক্লাস বন্ধ থাকবে এবং কাল সকালে হোস্টেলে ২ জন নাপিত আসবে তাদের সবার চুল ছাঁটানোর জন্য। হোস্টেলের সব মেয়েরা যেন তৈরি থাকে। এ কথার পর হোস্টেলের মেয়েরা কিছু সময়ের জন্য বাক্য হারিয়ে ফেলল। কিছুক্ষণ পর হৈ হই রব উঠল, কিছু মেয়ে প্রতিবাদ করল এবং শিক্ষিকাদের সঙ্গে তর্ক জুড়ে দিলো ও কিছু মেয়ে চিৎকার করে কেঁদে উঠল। যাই হোক হোস্টেল সুপার ও অন্যান্য শিক্ষিকারা কিছুতেই নমনীয় হলেন না। বাক-বিতন্ডা করা মেয়েরা কিছুতেই তাদের সঙ্গে পেরে উঠল না। উল্টে হোস্টেল সুপার ধমক দিলেন যে বা যারা কালকে তাদের চুল কাটানোর জন্য থাকবে না তারা যেন সকলে হোস্টেল ছেড়ে দেয়; তাদেরকে স্কুল থেকে রাসটিকেট করবেন। মেয়েরা সব দুঃখী মনে গেস্টরুম পরিত্যাগ করল। বাইরে বেরিয়ে তারা কেউ বিদ্রোহ ঘোষণা করল কোনোভাবেই নিজের চুল তো দূরে থাক একটা লোমও বাঁকা করতে দিবে না, কেউ বলল এই স্কুলেই আর পড়বে না, কেউ চুপচাপ হোস্টেল ছেড়ে দিবে ভাবল। তারপর হোস্টেলের সিঁড়ির গোড়ায় কিছুক্ষণ জটলা করে পরে যে যার যার রুমে চলে গেল। এদিকে সেঁজুতিরাও রুমে ফিরল। সেঁজুতির মন ভারাক্রান্ত। সে ভাবছে হোস্টেল সুপার ম্যাডাম কি কাল সত্যিই নাপিত ডেকে আনবেন তাদের চুল কাটানোর জন্য নাকি মজা করছেন। কিন্তু হোস্টেল সুপার ম্যাডাম মোটেও মজা করার পাত্রী নন। তিনি যা বলেন তাই করেন। এদিকে সেঁজুতির অপর দুই রুমমেট বান্ধবী শর্মিকে দুষছে আর শর্মি মাথা নিচু করে চুপচাপ খাটে বসে আছে তার চোখের কোণায় নোনতা জল শুকিয়ে আছে। তারপর সকাল হলো সব মেয়েরা ঘুম থেকে উঠে পরিপাটি হয়ে ব্রেকফাস্ট সারলো। সেঁজুতি দেখল কিছু মেয়ে ব্যাগ গুছিয়ে হোস্টেলের গেট দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। সে তাদের একজনকে ডাকল ‘সোনিয়া, কোথায় যাচ্ছিস?’ সোনিয়া বলল: বাড়ি যাই রে। এই ম্যাডামগুলো একদম ডাইনি! এদের বিশ্বাস নেই। সেঁজুতি ভাবল সেও বাড়ি চলে যাবে কিনা কিন্তু পরশু যে পরীক্ষা আর সে হোস্টেলে চলে আসায় বাবার অফিসের সুবিধার্থে পরিবারের সবাই তার অফিসের কাছে নতুন বাসায় শিফট হয়েছে। সেখানকার পথ নেহাত কম নয়। এই বলে সে রিডিং রুমের দিকে যেতে লাগল। এমন সময় হঠাৎ হোস্টেলের ঝাড়ুদার মাসি ঘণ্টায় বাড়ি দিলেন মানে হোস্টেল প্রাঙ্গণে সবাইকে জমায়েত হবার নির্দেশ। সে হোস্টেলের উঠানেই দাঁড়িয়ে থাকল আর সব মেয়েরাও যে যেখানে ছিল বেরিয়ে এলো। তারপর হোস্টেল সুপারিনটেনডেন্ট ম্যাম সেখানে হাজির হলেন। তারপর তারা কতজন আছে গুণে দেখলেন। ৪৪ জনের মধ্যে ১৩ জন নেই। তারা সকালে উঠেই বাড়ি রওনা দিয়েছে। হোস্টেল সুপার ম্যাম বললেন বেশ তবে এ কজনই থাক। যারা চলে গেছে তাদের বেডে অন্য ছাত্রীরা উঠবে। এরই মধ্যে তিনি একবার হাতঘড়ির দিকে তাকিয়ে পরক্ষণে হোস্টেলের গেটের দিকে তাকালেন। হোস্টেলের গেট দিয়ে একজন ডাইনিং বয়ের পিছু পিছু দুইজন লোক ঢুকল। তাদের কাঁধে ঝোলা আর তাতে চুল কাটবার সরঞ্জাম। তারপর স্কুলের মাঠে যেন কান্নার রোল পড়ে গেল। কিন্তু হোস্টেল সুপার ম্যামের হুঙ্কার ও অন্যান্য শিক্ষিকার ধমকে সব শান্ত নীরব হয়ে গেল। তারপর নাপিত দুইজন তাদের পিঁড়ি, চওড়া কাপড়ের টুকরা, চিরুনি, কাঁচি, ক্ষুর, ব্লেড ইত্যাদি বের করলেন। হোস্টেল সুপার ম্যাডাম আদেশ দিলেন দুজন দুজন করে গিয়ে নাপিতদের সামনে বসতে। ম্যাডামের কথা অমান্য করার সাহস আর কেউ দেখাতে পারল না। প্রথম জুটি গিয়ে নাপিতদ্বয়ের সামনে রাখা পিঁড়িতে বসল। অতঃপর নাপিতরা হোস্টেল সুপারের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল কেমন ধারা কাটব দিদিমণি? দিদিমণি বললেন সবার চুল কাঁধ পর্যন্ত কাটবেন। নাপিতরা বলল সবার মুখের গড়নের সাথে এমন স্টাইল মানাবে না। হোস্টেল সুপার ম্যাডাম তাদের যতটা সম্ভব মুখের গড়নের সঙ্গে মানানসই রেখে চুল কাটতে বললেন। নাপিতরা সম্মতি জানিয়ে তাদের কাজ শুরু করল।

মেয়েদের চুল ভালো করে আঁচড়ে পাট করে প্রথমে পনি বাঁধল, তারপর কাঁচি চলল ঘ্যাঁচ ঘ্যাঁচ; মেয়েগুলো ফুঁপিয়ে কাঁদায় তাদের শরীর কাঁপছিল। হোস্টেল সুপার ম্যাম গর্জন করে বললেন "এই কাঁদলে কিন্তু মাথা কামিয়ে দিতে বলব।" ভয়ে সব ঠাণ্ডা। এক এক করে জুটি বসতে লাগল আর নাপিতদের সামনে চুলের পাহাড় উঁচু হতে লাগল। স্নিপ স্নিপ শব্দে কাঁচি চলতে লাগল। আর মেয়েরা চোখ মুছতে মুছতে গোসলখানায় গেল। সেঁজুতিকে ম্যাডামরা বললেন নাপিতদের সামনে জমে ওঠা চুলের গোছাগুলো একটি প্লাস্টিক ব্যাগে পুরতে। সেঁজুতি তা করতে লাগল। ২ জন মেয়ে বাকি থাকতে একজন নাপিত বিদায় নিলেন। অপর জন কাঁচি চালাতে থাকলেন। সবার শেষে এলো সেঁজুতি। সেঁজুতি এমনিতে ভালো ছাত্রী কিন্তু দুষ্টুমিতে তার জুড়ি মেলা ভার। হোস্টেল সুপার ম্যাডাম বললেন সেঁজুতির চুলের ছাঁট যেন একটু অন্য রকম হয়। সেঁজুতির বুক কেঁপে উঠল। তবে সে কোনো শব্দ করল না। শেষ মেয়েটি উঠতেই সে চুপচাপ নাপিতের সামনের পিঁড়িতে বসে পড়ে। গণিত শিক্ষিকা সেঁজুতিকে খুব ভালোবাসতেন; সেঁজুতিরও সবচেয়ে প্রিয় বিষয় ছিল গণিত। সেঁজুতি নাপিতের সামনে বসলে যেই না নাপিত বললেন এর চুল কতটুকু খাটো করবো? গণিত শিক্ষিকা অমনি বলে উঠল মেয়েটি খুব ভালো ছাত্রী, আগামী সপ্তাহেই ওর পরীক্ষা আছে। এ ক'দিন উকুনের জ্বালায় পড়াশোনা বিশেষ করেছে বলে মনে হয় না। চুলের পিছনেই সময় দিয়েছে। এইটুকু মেয়ে অতটা চুল কি করে সামলাবে? নাপিত হাসিমুখে বলল তাহলে ববকাটেই চলবে? গণিত ম্যাডাম বললেন ওভাবে না; আমি চাই একদম ছোট আর মিষ্টি দেখতে চুলের ছাঁট। যাতে চিরুনির এক আঁচড়ই ওর চুলের জন্য যথেষ্ট হয়। নাপিত ওনার ইঙ্গিত বুঝতে পারলেন; সে বলল, আপনি বলতে চাচ্ছেন পিক্সিকাট? ম্যাডাম বললেন হ্যাঁ সেটাই। সেঁজুতি মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলো; তার কান্না পাচ্ছিল এই ভেবে যে গণিত ম্যাম তার সঙ্গে এমনটা করতে পারেন। গণিত ম্যাম বললেন-- সেঁজুতি যাও গিয়ে নিজের চুল কাটিয়ে নাও। সেঁজুতি ডুকরে কেঁদে বলল, ম্যাম প্লিজ অত ছোট না। ম্যাম কিছু শুনলেন বলে মনে হলো না। তিনি বললেন ওর পিছনের চুল যতটা সম্ভব ছোট করে দিবেন আর চিপগুলোও ছোট করে দিবেন। নাপিত চুল কাটা আরম্ভ করলো। প্রথমেই সে সেঁজুতির চুলে টাইট করে পনি করল। আর তারপর তার ধারালো কাঁচি পনির গোড়ায় বসিয়ে দিলো। সেঁজুতি কেবল কাঁচির স্নিক স্নিক শুনতে পেলো। কিছু বল প্রয়োগের পরই সেঁজুতির পনি নাপিতের হাতে চলে এলো। সেঁজুতির চুল এখন তার চিবুক অবধি অগোছালোভাবে কাটা। তারপর নাপিত তাকে ডানে-বাঁয়ে কাত করে সমানে চুল কাটতে লাগল। নাপিত জিজ্ঞেস করল তার চিপ ও ঘাড় কামাবে কি না? চিপ ও ঘাড়ে খুব মিহি চুল ছিল। ম্যাডামরা বললেন কামানোর দরকার নেই সমান করে দাও। নাপিত তাই করল। চুল কাটা শেষ হবার পর সেঁজুতি মুখ ঢেকে কাঁদতে কাঁদতে বাথরুমের দিকে ছুটল। বাথরুম থেকে সদ্য স্নান সেরে বেরিয়ে আসা রিদিমা ও আরো জনাকয়েক মেয়ে তা চেয়ে দেখল। পরদিন ক্লাসে অনাবাসিক মেয়েরা আবাসিক মেয়েদের দিকে কৌতূহলী দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখতে লাগল। আবাসিক মেয়েরা চুপ; তারা তাদের চুলের ব্যাপারে মুখ খুলল না।

Monday, December 23, 2019

বিয়ের শর্তে চুল কাটার গল্প

প্রীতি একজন স্কুল শিক্ষিকা ছিল। সে সবসময় লম্বা চুল রাখত এবং তার চুল নিয়ে খুব গর্ববোধ করত। প্রতি সপ্তাহান্তে সে চুলে শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার মাখিয়ে চুল ধৌত করে চুলে তেল দিয়ে সে তার চুলের যত্ন নিতো। তার বন্ধুরা এবং স্কুলের সহকর্মীরাও তার চুলের প্রশংসা করতেন।
তার এক অ্যাংলো ইন্ডিয়ান বন্ধুও ছিল যে একই স্কুলে ইংরেজির শিক্ষিকা ছিল; জেনিলিয়া, সে সর্বদা
 চুলে বয়কাট করে রাখতো। অনেক সময় এমনকি জেনিলিয়া প্রীতিকে তার চুলের জন্য প্রশংসা করতো এবং কিছু সময় মজা করার জন্য প্রীতিকে তার চুল কাটতে বলতো কিন্তু প্রীতি সবসময় বলতো সে তার চুল লম্বা রাখতেই পছন্দ করেছে এবং তারা এটা শুনে আমোদ পেতো।

যাই হোক প্রীতি একটি নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে তার বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান ছিল তাই তার পরিবারের আর্থিক সহায়তার জন্য তাকে চাকরি করতে হচ্ছিল; এখন সে বিবাহযোগ্যা হওয়ায় তার মা তার বিয়ের জন্য ভাল পাত্র সন্ধান করছিলেন কিন্তু পাচ্ছিলেন না। তারা খুব ঐতিহ্যবাহী পরিবার তাই বংশমর্যাদার মিলও প্রয়োজন ছিল এবং যদি তা ​​মিলেও যেত তবে পাত্রের পরিবার যৌতুক দাবি করতো। তাই প্রীতির পরিবার তার বিয়ের ব্যপারে এগুতে পারছিল না।

একদিন প্রীতির জন্য চৌধুরী পরিবার নামে সুপরিচিত এক ধনী পরিবারের পক্ষ থেকে একটি বিয়ের প্রস্তাব এসেছিল এবং তার বিয়ের জন্য কোনো প্রকার যৌতুক দাবি করবেনা শর্ত দেয়। তাই প্রীতির বাবা পাত্রপক্ষকে প্রীতিকে দেখতে তাদের বাড়িতে আসার আমন্ত্রণ জানান। এবং উভয়পক্ষের সম্মতিতে একটি ছুটির দিন ধার্য করেন।

সেদিন প্রীতি খুব তাড়াতাড়ি উঠে স্নান করল আর মা তার লম্বা চুলে খোঁপা বেঁধে দিলেন ও তাকে বললেন যে আজ খুব বড় ধনী পরিবার তোমাকে দেখতে আসছে; তাদের যদি তোমাকে দেখে পছন্দ হয় তাহলে বলতে হয় তুমি খুব ভাগ্যবতী।

তারপর ডোর বেল বেজে উঠল আর প্রীতিকে তার রুমে রেখে প্রীতির মা সামনের রুমে গিয়ে দরজা খুললেন এবং পাত্রের পরিবার ভিতরে প্রবেশ করল ও প্রীতির বাবা-মায়ের সাথে বিয়ের ব্যাপারে আলোচনা আরম্ভ করল। অতঃপর প্রীতির মা তাকে রান্নাঘর থেকে অতিথিদের জন্য চা-কফি এবং জলখাবার আনতে ডাকলেন। প্রীতির খুব লজ্জা করছিল এবং যথাসম্ভব সেই অভিব্যক্তি গোপন করে সে পাত্রপক্ষের সামনে টি-টেবিলের উপর ট্রে-তে করে চা-নাস্তা সার্ভ করে তার মায়ের পাশে সোফায় বসল। ধীরে ধীরে সে চোখ তুলে তাকিয়ে দেখলো যে মোট পাঁচ জন আগন্তুক তার সামনের সোফাগুলিতে বসা রয়েছেন। সবার মাঝখানে একজন হ্যান্ডসাম পুরুষ বসা ছিলেন যাকে সে তার হবু স্বামী বলে ধারণা করে এবং সে তার বাবা-মা, বড় ভাই এবং বৌদিকে নিয়ে এসেছিল; সে তার হবু বরের সাথে আসা স্ত্রীলোকদের মধ্যে অদ্ভুত কিছু লক্ষ্য করেছিল। তার হবু শাশুড়ি এবং তার হবু জা দুজনের চুলই ছেলেদের মত ছোট করে ছাঁটা। তবে তার লজ্জা কাটাতে পারছিল না বলে কিছু জিজ্ঞেস করল না। সবশেষে কথা পাকা করার পর প্রীতির হবু শ্বশুর তাকে জিজ্ঞেস করলেন, সে তাদের পারিবারিক ব্যবসায়ে যোগ দিতে আগ্রহী কিনা এবং কোম্পানির হিসাব বিভাগ পরিচালনা করতে রাজি কিনা? প্রীতি বলল সে রাজি আছে। ঠিক তখনি শাশুড়ি বলল, বেশ তবে আমাদের পক্ষ থেকে একটি শর্ত আছে- "যেহেতু আমরা কারখানার মালিক তাই আমাদের সর্বদা শ্রমিকদের থেকে আলাদা দেখানো উচিত এবং একবার যখন আমি আমার চুল ছোট করলাম তখন আমাদের ব্যবসায়ের বেশ উন্নতি ঘটল সেই তখন থেকে আমাদের পরিবার এটি আমাদের জন্য সৌভাগ্যচিহ্ন বলে বিশ্বাস করে; সেজন্য আমার বড় ছেলের বৌও বিয়ের পরে চুল ছোট করে ফেলেছে। অতএব আমি মনে করি তোমারও বিয়ের আগে চুল কেটে ফেলা উচিৎ।" এই কথা শুনে প্রীতি অবাক হলেও মুখ ফুটে কিছু বলল না এবং বরের পরিবাররা তাদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল।

প্রীতি মা খুব খুশি ছিল তবে প্রীতি ছিল না কারণ চুল কাটার শর্ত মেনে নিতে তার আপত্তি ছিল। দুজনের মধ্যে কিছু তর্ক হলো। প্রীতিকে তার মা বলেছিল যে এতদিনে তার বিয়ের জন্য একটি উপযুক্ত প্রস্তাব এসেছে এবং পাকা কথাও হয়ে গেছে সুতরাং তার সব শর্ত মেনে নেওয়া উচিত। কিন্তু প্রীতি মন থেকে মানতে পারছিল না তাই প্রীতি তার মায়ের কাছ থেকে কিছুদিন সময় চাইলো তার সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য।

কিছুদিন পর প্রীতি যখন পায়ে হেঁটে স্কুলে যাচ্ছিল তখন তার সামনে একটি বড় গাড়ি এসে থামল এবং গাড়ির জানালা দিয়ে মাথা বের করে একজন মহিলা তাকে নাম ধরে ডাকলেন। প্রথমে প্রীতি তাকে ঠিক চিনে উঠতে পারেনি তবে পরে সেই মহিলা তাকে তার পরিচয় খুলে বললে সে চিনতে পারে যে সে মহিলা হচ্ছে শায়লা, চৌধুরী পরিবারের বড় বৌ মানে তার হবু জা। সেদিন যখন প্রীতির শ্বশুর-শাশুড়ি তাকে দেখতে ও বিয়ের কথা পাকা করতে তার বাড়িতে এসেছিলেন সেদিন তিনিও গিয়েছিলেন। শায়লা প্রীতিকে তার গাড়ীতে উঠে বসতে বলল তবে প্রীতি প্রথমে না বললেও পরে তার অনুরোধ ফেলতে না পেরে গাড়ির ভিতরে ঢুকে বসলো। তারপর শায়লার ইশারাতে গাড়ি চলতে শুরু করলো। সে লক্ষ্য করলো তার একজন ড্রাইভার ছিল। শায়লা প্রীতিকে জিজ্ঞাসা করল- সে কোথায় যাচ্ছে? আর সে উত্তর দিলো স্কুলে বাচ্চাদের ক্লাস নিতে। শীঘ্রই তারা অন্তরঙ্গ কথোপকথন শুরু করে দিলো এবং শায়লা কথায় কথায় জানালো যে সে তার এই আরামদায়ক স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন নিয়ে খুব খুশি। সে এই মুহূর্তে তার ড্রাইভার সহ নিজের গাড়িতে চড়ে শপিং করতে যাচ্ছে।

তখন হঠাৎ শায়লা প্রীতিকে বলল শপিং মলের কাছে আমার পরিচিত বিউটি পার্লার আছে; আমি সেখানে যাচ্ছি আমার চুল ছাঁটাতে; চাইলে তুমিও আমার সাথে যেতে পারো। তাহলে আমি সেই বিউটিশিয়ানের সাথে তোমার পরিচয় করিয়ে দেবো। প্রীতি কিছুটা রাগতস্বরে বলল ‘সে আগ্রহী নয়’। শায়লা বলল, ওকে 'নো প্রবলেম ডিয়ার’ এবং তাকে বলল যে বিয়ের আগে তারও প্রীতির মতই লম্বা চুল ছিল এবং চুল কাটার কথা শুনলে লজ্জা পেতো। কিন্তু বিয়ের পরে এখন সে তার জীবনের সমস্ত স্বাচ্ছন্দ্যে খুশী; তখন প্রীতি নিজের জীবন নিয়ে ভাবতে শুরু করল কিন্তু হঠাৎ তার স্কুলের দালান চোখে পড়লো। সে শায়লাকে গাড়ি থামাতে বলে ও শায়লা ড্রাইভারকে থামতে বলল এবং সে গাড়ি থেকে নেমে হাত নেড়ে শায়লাকে বিদায় জানালো। যখন সে তার স্কুলে প্রবেশ করতে যাচ্ছিল তখন তার সহকর্মী বন্ধু জেনিলিয়াও সেখানে ছিল এবং সামনে এগিয়ে তার দু হাত নিজের হাতে নিয়ে মৃদু হেসে বলল, “ওয়াও, প্রীতি! ইউ আর সো লাকি। আজকাল তুমি গাড়িতে যাতায়াত করা শুরু করেছো।"

সে রাতে প্রীতি কি করবে তা নিয়ে ভাবতে থাকলো এবং অবশেষে সকালে তার মাকে জানালো যে সে চৌধুরী পরিবারের শর্ত মানতে রাজি আছে। প্রীতির মা হাসিমুখ করে তাকে বলল যে ছোট চুলেও তোমাকে দারুণ মানাবে।
তার শাশুড়ি বলেছিলেন যে, ‘বিয়ের আগেই তার চুল কাটাতে হবে’; প্রীতি তার বিয়ে পর্যন্ত লম্বা চুল রাখতে চেয়েছিল বলে তার খানিকটা মন খারাপ ছিল। তবে সে আর এ নিয়ে অমত করল না।
এর পরদিন সকালে শায়লা এসে প্রীতিকে বিউটি পার্লারে নিয়ে গেল। সেখানে সে বিউটিশিয়ানকে কানে কানে কিছু কথা বলল এবং প্রীতির সাথে তাকে পরিচয় করিয়ে দিলো। বিউটিশিয়ান প্রীতির দিকে তাকিয়ে মিষ্টি হাসি দিয়ে তাকে স্বাগত জানালো। এরপর তিনি প্রীতিকে চেয়ারে বসিয়ে লম্বা এক ফালি কাপড় দিয়ে তার সামনের আয়নাটা ঢেকে দিয়ে বললেন যে চুল কাটা শেষ হবার পরই প্রীতি আয়নায় নিজের মুখ দেখবে। প্রীতি নার্ভাস হয়ে শায়লার দিকে তাকালো আর এরই মধ্যে বিউটিশিয়ান তার চুলকে ঘাড়ের একটু নিচে পনিটেলে পরিণত করলেন এবং তাকে ঘাড় সোজা করতে বলে কাঁচি নিলেন। অতঃপর হঠাৎ প্রীতি তার ঘাড়ের পিছনে স্নিপ স্নিপ অনুভব করলো এবং দু'মিনিটের মধ্যে তার লম্বা চুলের গাছি বিউটিশিয়ানের হাতে চলে এলো। তখন তার চুল বব কাট হয়ে গেল। প্রীতি বিউটিশিয়ানকে জিজ্ঞেস করলো, তার চুল কাটা কি শেষ? বিউটিশিয়ান ও শায়লা দুজনেই হাসলো। এবং বিউটিশিয়ান মহিলাটি বলল এখনো আপনি বব কাট স্টাইলে আছেন তবে বয় কাট স্টাইল করা দরকার তাই এখন আমি আপনার চুল ধুয়ে নেবো। এই বলে প্রীতিকে ওয়াশ বেসিনের সামনে নিয়ে গেলেন এবং শ্যাম্পু দিয়ে ভাল করে চুল ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেললেন। এরপর আবার চুল স্তরে স্তরে সামনে পিছনে পাশ থেকে কাটতে লাগলেন। প্রীতি তার মাথার চারপাশে স্নিপ স্নিপ শব্দ শুনতে পাচ্ছিলো আর চিরুনির আঁচড় অনুভব করছিল; সেই সঙ্গে দেখে ছোট ছোট চুলের কুচি মেঝেতে ঝরে পড়ছে। কিছুক্ষণ পর বিউটিশিয়ান প্রীতিকে তার চুলের মধ্য দিয়ে নিজের আঙ্গুল চালাতে বললেন এবং চুলগুলো কতটা ছোট তা অনুভব করতে বললেন। প্রীতি বেশ নার্ভাস ফিল করছিল কিন্তু তবুও নিজের চুলে হাত ছোঁয়ালো ঠিক তখনি বিউটিশিয়ান আয়নায় উপর থেকে কাপড়টা সরিয়ে নিলেন আর প্রীতি নিজের চেহারা আয়নায় দেখতে পেল। প্রীতি বিশ্বাসই করতে পারছিল না যে আয়নায় এটা সে নিজের চেহারা দেখছে। তার চেহারা পুরো বদলে গিয়েছে। সে এখন বয়কাট স্টাইলে আছে।  শায়লা তার কাঁধে হাত রেখে বলল- “ডোন্ট ওয়ারি ডিয়ার, ইউ উইল গেট অ্যাডজাস্টেড টু ইট।” এবার তারা বিউটি পার্লার ছেড়ে বেরিয়ে এলো এবং গাড়িতে বসতে বসতে শায়লা বলল যে এখন থেকে নিয়মিত ট্রিমিং করার জন্য দুজনেই একসাথে এখানে আসবে। তারপর তারা প্রথমে নিজের শ্বশুর বাড়িতে গেলো, যেখানে শাশুড়ি প্রীতিকে দেখে হাসিমুখ করে তার চুলের ছাঁট পছন্দ হওয়ার ইঙ্গিত দেন। এমনকি প্রীতির হবু স্বামীও তার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসেন। তারপর শাশুড়ি তাকে উপহার স্বরূপ রত্নখচিত গয়না উপহার দিয়ে আশীর্বাদ করলেন।। প্রীতি উপহার পেয়ে বিস্মিত ও আনন্দিত হলো।

এরপরে প্রীতি স্কুলশিক্ষকতার চাকরি ছেড়ে দিলো এবং যথারীতি বিয়ের পিঁড়িতে বসলো। বিয়ে হয়ে যাবার পর সে পারিবারিক ব্যবসায়ের অফিসে হেড একাউন্টস অফিসার হিসেবে যোগদান করে। এখন সে সর্বদা বয়কাট স্টাইলে চুল রাখে এবং আস্তে আস্তে আধুনিক জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত হয়ে উঠছে; সাথে সাথে এও বুঝতে পেরেছে যে ছোট চুল সামলানো অনেক সোজা।

Wednesday, April 17, 2019

ভালবাসা নাকি অভিশাপ

ছােটো থেকেই রিয়ার বড় চুলের খুব শখ ছিল -ঠিক মায়ের মতাে। মা যখন কোমর ছাপানো চুলের বিনুনি বাঁধত, রিয়ার খুব ইচ্ছা হতাে তারও অমন চুল হবে। কিন্তু স্কুলে লম্বা চুল নিষেধ থাকায় প্রতি দু'মাস অন্তর মা ওর চুল কেটে দিত।
যেদিন চুল কাটা হতাে সেদিন রিয়া সারাদিন কান্নাকাটি করেই কাটাত। মা-বাবা অনেক বুঝিয়ে, আদর করে, গল্প বলে খাবার খাওয়াত। বাবা মেয়েদের মন ভােলাতে বেড়াতে নিয়ে যেত। এখন সেসব ছেলেমানুষির কথা মনে পড়লে রিয়ার হাসি পায়।
কলেজে ওঠার পর চুল লম্বা করার ছাড়প মিলেছিল। ঘন কালো এক আকাশ চুল নিয়ে রিয়া কলেজ যেত। সেই চুল যেমন অনেক মেয়ের মনে হিংসার উদ্রেক করত, তেমনি বহু ছেলের বুকে দোলাও লাগাত। 
বিকাশ একদিন আর থাকতে না পেরে প্রেম নিবেদন করে বসল রিয়াকে। কলেজে সেটা তাদের দ্বিতীয় বর্ষ। দিনটা আজও মনে আছে রিয়ার - পয়লা বৈশাখ ছিল সেদিন। মায়ের লাল পেড়ে ঢাকাই পরেছিল রিয়া, লম্বা চুল বিনুনি বেঁধে একটা গােলাপ লাগিয়েছিল।
বিকাশের কথায় রিয়া হেসে বলেছিল - "বিয়ের পর যদি চুল কেটে ফেলি, তখন কি করবি?”
বিকাশ একটুও না ভেবে ফাজলামো মিশিয়ে বলেছিল - তোকে ধরে রেখে দেব আর চুল বেড়ে ওঠার অপেক্ষা করব।
সেদিনের ফাজলামি গভীর অনুরাগে পরিণত হয়েছিল তৃতীয় বর্ষের শেষে এসে, যখন দুজনের রাস্তা আলাদা হয়ে গেল।
- "কখনো চুল কাটিসনা রিয়া। যখনই তুই চুল কাটবি, মনে করবি আমার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেটে যাচ্ছে। 
"আবার ফাজলামো করছিস! ভাল করে মন দিয়ে MBA করে আয়।”
"তুই কখনও আমাকে seriously নিলি না রিয়া। একদিন এর মর্ম বুঝবি।” ছদ্ম অভিমানে বলেছিল বিকাশ।
এতদিন বাদে রিয়া ভাবে, সত্যি কি সবটাই মিথ্যে ছিল!? কিছুই কি ছিল না বিকাশের মনে? আর রিয়ার মনে?
"ম্যাডাম, এরপর আপনি আসুন!” পার্লারের মহিলার গলার আওয়াজে বাস্তবে ফিরে আসে রিয়া।
ধীর পায়ে চেয়ারে গিয়ে বসল। সামনে বিশাল একটা আয়না, যেটা দিয়ে পিছনের আয়না দেখা যাচ্ছে - আর দেখা যাচ্ছে রিয়ার মেঘের মতাে চুল.… 
বিয়ের পর সন্দীপ বলতাে - প্রহর শেষের আলোয় রাঙা সেদিন চৈত্র মাস...তােমার চুলে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ
"যা:, রবিঠাকুরকে বিকৃত কোরাে না…!”
- বিকৃত কোথায় করলাম...এটাকে ধার করা বলে!" ফিচেল হাসি হেসেছিল সন্দীপ। 
ইতিহাসে মাস্টার্স করে একটা স্কুলে চাকরী নিয়েছিল রিয়া। সেই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা রিয়াকে পছন্দ করেন তার ভাইপাের জন্য। সন্দীপ software engineer, দেখতে-শুনতে ভালােই, বেশ মােটা অঙ্কের টাকা হাতে আসে মাস গেলে। উপরোন্ত সদ্য আমেরিকা থেকে ফিরেছে। রিয়া বা রিয়ার মা-বাবার আপত্তি করার কোনো কারণ তাে ছিলোই না, বরং মেয়ের জন্য এমন সােনার টুকরাে ছেলে পেয়ে তারা আর দ্বিতীয়বার ভাবেননি। এক মাসের মধ্যে বিয়ে হয়ে যায় রিয়া আর সন্দীপের।
নতুন সংসারে বেশ ভলােই মন বসছিল রিয়ার। বাড়িতে রিয়া, সন্দীপ, সন্দীপের মা আর কাজের মহিলা কমলা। রিয়া স্কুল সামলে টুকটাক রান্না শিখছিল শাশুড়ির কাছে। একদিন স্কুল থেকে ফিরে দেখল সন্দীপ ফিরে এসেছে, খুব টেনশনে। 
- কি হয়েছে সন্দীপ?
- এইতো তুমি এসে গেছ। ফোন ধরছিলে না কেন? কতবার ফোন করছি!

রিয়ার মনে পড়ল, ক্লাস নিতে যাওয়ার আগে ফোনটা silent করেছিল। তারপর বেরোনোর তাড়াহুড়ােতে আর ঠিক করা হয়নি।
- “যাকগে...আমার বস আসছেন। বিয়েতে আসতে পারেননি, তাই আজ সন্ধ্যায় তােমার সাথে দেখা করতে আসবেন।dinner করে যাবেন। উনি আবার বাঙালী রান্না খেতে ভালোবাসেন।” 
-"ও..আমি এখুনি মায়ের সাথে কথা বলছি...কি কি বানানাে যায় দেখি।”

সন্ধ্যা হতেই মি.শমিত গুপ্তা হাজির হলেন নিজের স্ত্রীকে নিয়ে। সন্ধ্যেটা ভালােই কাটল। মি. গুপ্তা রান্নার পাশাপাশি রিয়ার চুলের খুব প্রশংসা করলেন। এত সুন্দর চুল উনি নাকি কারোর দেখেননি। রিয়া সেদিন চুলটা খুলে রেখে একপাশে একগুচ্ছ রঙ্গন ফুল লাগিয়েছিল। একবার তাে মজা করে শমিত গুপ্তা বলেই ফেললেন, "সন্দীপ যদি রাজি থাকে তিনি বৌ পাল্টাপাল্টি করবেন।" রিয়া আরক্ত মুখে সন্দীপের দিকে তাকিয়েছিল - সন্দীপ খুব নির্বিকারভাবে বসের সাথে হাসছিল।

সেদিন রাতেই ঘটনাটা ঘটল। রিয়া কাজ সেরে আয়নার সামনে বসে চুল বাঁধছিল। সন্দীপ ঘরে ঢুকল - মদ্যপ অবস্থায়। বসকে সঙ্গ দিতে আজ একটু বেশী খেয়ে ফেলেছে। রিয়া কিছু বলেনি, কারণ ও জানে সন্দীপ খুব সংযত। এরকম আগেও এক-দুবার হয়েছে এবং সন্দীপ সােজা শুয়ে পড়েছে, রিয়াকে একটুও বিরক্ত না করে। কিন্তু যেদিন বিয়াকে অবাক করে দিয়ে অন্য এক সন্দীপ বেরিয়ে এসেছিল - “চুলের খুব বাহার হয়েছে না? দেখনদারি শুধু...আজ তােকে দেখাব ঐ চুল কি করে থাকে তোর!”

খুব নােংরা ভাষায় কথা বলছিল সন্দীপ আর তারপর রিয়ার চুল ধরে টেনে মাটিতে আছড়ে ফেলে দিয়েছিল ওকে। রিয়া চিৎকার করতে পারেনি - প্রচন্ড বিস্ময়ে বাকরুদ্ধ হয়ে গেছিল। এরপর থেকে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে থাকে, যখনই কেউ রিয়ার চুলের সুখ্যাতি করে। অথচ অন্য সময় সন্দীপ একদম অন্য মানুষ। দুবার ক্ষমাও চেয়েছে। রিয়ার কাছে। রিয়া বাড়িতে জানাবে জানাবে করেও কিছু বলতে পারেনি। শাশুড়ি সব জেনে বুঝেও চুপ করে থাকতেন। একদিন রিয়াকে ডেকে কিছু পূজোর ফুল দিয়ে বলেন:

- ‘আমি দীপের জন্য পূজো দিয়েছি; এই ফুলটা ওর বালিশের তলায় রেখাে, সব ঠিক হয়ে যাবে।’ একটু থেমে বললেন, 'আমি সবটা জানি...কিন্তু কি জানাে মা, সংসার সুখের হয় রমনীর গুণে।' 
রিয়া শাশুড়ির কথার তাৎপর্য বুঝতে পারেনা, এটাও বুঝতে পারে না এখানে রিয়ার কি দোষ! এরমধ্যেই রিয়ার গর্ভে আসে সন্দীপের সন্তান। সবাই খুব খুশী হয় এই সংবাদে। সন্দীপ নিজের আনন্দ ধরে রাখতে পারে না - চলো, কোথাও ঘুরে আসি। এইসময় মন ভালো থাকা খুব দরকার।

রিয়া একটু হলেও আশ্বস্ত হয়, হয়তো সন্তানের আগমন সন্দীপকে বদলে দেবে। বেশ ভালোই কাটছিল পুরীতে দিনগুলো। এক সপ্তাহ ছুটি নিয়ে গেলেও রিয়ার অনুরােধে আরও দুদিন থেকে যায় ওরা। সেদিনও সূর্যোদয় দেখে ফিরছিল…সন্দীপের হাত রিয়ার কোমরে জড়ানাে... দুজনেই দুজনের শরীরের ওম দিচ্ছিল…হঠাৎ

"আরে রিয়া না!! হ্যাঁ রিয়াই তো....” 
বিকাশকে প্রথমে চিনতে পারেনি রিয়া। চাপদাড়ি আর রিমলেস চশমায় একদম অন্যরকম লাগছিল ওকে।

- '‘ম্যাডাম, চুলটা শ্যাম্পু করতে হবে। প্লিজ একটু wash basin-এ আসুন।’'

ঘাড়ে তােয়ালে জড়িয়ে মাথা নামিয়ে দেয় রিয়া। ঠান্ডা জলের স্রোত ভিজিয়ে দিতে থাকে রিয়ার মনের মেঘ।

"চলো সন্দীপদা, সমুদ্রে গা-টা ভিজিয়ে আসি।

দেখা হওয়ার পর থেকেই বিকাশ ওদের সঙ্গী। সন্দীপ শুধু জেনেছে ওরা একসাথে কলেজে পড়ত। এতদিন বাদে বিকাশকে দেখে রিয়াও কলেজের দিনে ফিরে গেছিল। 
- "আমিও যাব।" রিয়ার আদুরে আবদার সন্দীপ ফেলতে পারে না। রিয়া খোঁপা বাঁধা চুলটা খুলে দেয়। পুরাে জলে না নেমে বসে পড়ে...সমুদ্র এসে ভেজাতে থাকে রিয়ার চুল।

- “চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা,
মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য; অতিদূর সমুদ্রের ’পর
হাল ভেঙে যে-নাবিক হারায়েছে দিশা
সবুজ ঘাসের দেশ যখন সে চোখে দেখে দারুচিনি দ্বীপের ভিতর,
তেমনি দেখেছি তারে অন্ধকারে; বলেছে সে, এতদিন কোথায় ছিলেন? 
পাখির নীড়ের মতাে চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন।

বিকাশের মুখে জীবনানন্দ শুনে রিয়া এবং সন্দীপ দুজনেই অবাক। পরিস্থিতি হালকা করে রিয়া নিজেই বলে উঠলাে -

- "ফাজলামো করা এবার বন্ধ কর।” সবাই হেসে ওঠে একসাথে।

কিন্তু সন্দীপ যে এটা এত সহজে মেনে নেয়নি সেটা বাড়ি ফিরে বুঝতে পারে রিয়া। আকন্ঠ মদ্য পান করে এসেছিল সেদিন। রিয়ার লম্বা, মােটা বেণীটা গলায় পেঁচিয়ে ধরেছিল সর্বশক্তি দিয়ে ততক্ষণ, যতক্ষণ না রিয়া অজ্ঞান হয়ে নেতিয়ে পড়েছিল।

জ্ঞান এসেছিল হাসপাতালের ঠান্ডা ঘরে, আর তখনই অনুভব করে পেটে অসহ্য ব্যথা। পাশে মা আর শাশুড়ি দাঁড়িয়ে - দুজনের চোখেই জল। 
- "ম্যাডাম, শুধু ট্রিম করব? নাকি length একটু ছােট করবেন?
- “ছােটো করব...”
দুদিন বাদে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরে রিয়া। সন্দীপ হাসপাতালে যায়নি। রিয়া যেদিন ফেরে, সেদিনও অনেক সকালে অফিস বেরিয়ে গেছিল। মাঝরাতে ফিরে ড্রয়িং রুমেই শুয়েছিল, রিয়ার ঘরে ঢােকেনি। সপ্তাহ খানেক পরে রিয়া কিছুটা সুস্থ বোধ করে...সন্দীপ ঘরে আসে - আমাকে ক্ষমা করাে রিয়া...আআআমি কিছু ভেবে...মানে.. আমি তাে বাচ্চা চেয়েছিলাম... কিন্তু ক্কি কি যে হলো...”
রিয়া মুখ ফিরিয়ে থাকে, জানলা দিয়ে রাস্তা দেখতে থাকে...
-"ম্যাডাম, আর কাটব?” 
-“হ‍্যাঁ" 
-"ম্যাম, এত সুন্দর চুল...সামনেটা layers কেটে নিতে পারেন
- "আপনাকে বললাম তো ছোট করে কাটতে
কাঁচি চলতে থাকে- রিয়ার চুলের সাথে মনেও। পার্লারের মেয়েটি অবিশ্বাস ভরা চোখ নিয়ে রিয়াকে দেখে "আরও ছােট করব ম্যাডাম?”
কোমর ছাপানাে চুল কাঁধে এসে দাঁড়িয়েছে।
- “আরও ছােট!” রিয়ার দৃষ্টি স্থির আয়নার দিকে।
আবার কাঁচি চলে। কাঁধের চুল ঘাড় অবধি। কাঁচি থামিয়ে রিয়ার দিকে তাকায় মেয়েটি “আরও ছােট!" রিয়ার দৃপ্ত কণ্ঠে পার্লারে থাকা বাকিরাও ঘুরে দেখে। মালিক ভদ্রমহিলা এগিয়ে আসেন “are you sure ma'am?” 
রিয়া মাথা ঝাঁকায়।
"ছােট করে দিন...যতটা ছােট করা যায়...ও যেন আর চুল ধরতে না পারে...আমার বাচ্চাকে কেড়ে নিতে না পারে…" ডুকরে কেঁদে ওঠে রিয়া....! 

কৃতজ্ঞতা স্বীকার:
কবিতা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং জীবনানন্দ দাশ।
গল্প অনুপ্রেরণা- টেলিভিশনে দেখা বিজ্ঞাপন। 

[মমস্প্রেসোতে ২০১৯ সালের ১৭ই এপ্রিলে একই শিরোনামে পাবলিশ করা সংগৃহীত গল্প। লেখিকা রিতা সিনহা]

Tuesday, September 19, 2017

মেন'স সেলুনে এক পরিদর্শন

এই পোস্টটা ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ সালে ডেইলি স্টারে প্রকাশিত একটি ইংরেজি প্রতিবেদনের বাংলা অনুবাদ। 
https://www.thedailystar.net/lifestyle/musings/visit-the-mens-salon-1464040
সোর্স : The Daily Star 


ধানমন্ডি রোড #২৮ বিএফসি ভবনের দ্বিতীয় তলায় একটি সেলুনে ঢোকাটা আবেগজনিত কাজ থেকেও বেশি ছিল, যার পেছনে ছিল বন্ধুদের উৎসাহ এবং এপ্রিলের উত্তপ্ত দিনে মাইগ্রেনের ব্যথার প্ররোচনা। আমি ভার্সিটির এক বান্ধবীকে ফোন করেছি, এটা জেনে যে সেও একটা মেন’স সেলুন থেকে চুল কাটিয়েছিল এবং সে ধানমন্ডিতে থাকত, তাই এটা তার বাসার কাছাকাছিই হবে। আসলে ছিলও।

আমার ঠান্ডা মালবেরি স্মুদিতে চুমুক দিতে দিতে আমি রোড #২৭ থেকে সেলুনে অভিমুখে হাঁটলাম। গরমে রিকশা নেয়াটাই ভাল হত, তবে ট্রাফিক উত্তাপের চেয়েও খারাপ ছিল। ভেতরে ঢুকতেই এসির শীতলতা আমাকে প্রথমে ধাক্কা দিল। এটি কোনও রাস্তার পাশের সেলুন ছিল না এবং এটি ছিল কোনো পুরুষের সেলুনে আমার প্রথমবারের অভিজ্ঞতা, আমি খরচ নিয়ে বিহ্বল ছিলাম কারণ বন্ধুদের কাছ থেকে গল্প শুনেছি যারা চুল কাটতে প্রায় ৬০০ টাকা চুকিয়েছিল, যখন নিয়মিত রেট ছিল প্রায় টাকা ৮০ থেকে ১০০ টাকা।

তদুপরি, আমি একটি লম্বা চুলের মেয়ে; তারা যদি আমাকে আরও চার্জ করবার সিদ্ধান্ত নেয়? এই চিন্তাগুলি আমার মনের মধ্যে চলার সাথে সাথে আমি সেলুনে সাঁটা একটি চিত্রকে রেফারেন্স হিসাবে ধরে জিজ্ঞাসা করি এর জন্য কত টাকা লাগবে। আমাকে স্বস্তি ও চমকে দিয়ে বলা হলো দাম পড়বে মাত্র দেড়শ টাকা I আমার ১৪ বছরে পা দেবার পর থেকে আমার চুল কাটাবার সর্বনিম্ন ব্যয় ছিল ৫০০ টাকা।

খুব আনন্দের সঙ্গে আমি হেয়ার প্রোডাক্ট ও শেভিং ক্রিমের গন্ধ নিতে নিতে বসে পড়ি। একটি ট্রিমারের গোঁ গোঁ শব্দ যা একটি ক্রিকেট ম্যাচের ভাষ্যকে ছাপিয়ে দিচ্ছিল। আমি শুনতে পেতাম এবং আমি হেয়ারস্টাইলিস্টদের এবং ক্যাশিয়ারদের জানাই যে আমি প্রথম মেন'স সেলুনে এসেছি ও তাই তারা আমার বন্ধুদের আমার আশেপাশে বসতে দেয়, বেশ কিছুটা ব্যস্ত এবং কোলাহলময় পার্লারদের থেকে আলাদা যেখানে কারো নাক ফোঁড়ানো বা নার্ভাসভাবে তাদের চুল কাটা বা আই-ব্রো প্লাকিংয়ের যন্ত্রণা সহ্য করবার সময় সঙ্গ দেবার জন্য কারও পক্ষে অপেক্ষা করার বা দাঁড়াবার মত পর্যাপ্ত জায়গা কখনো ছিল না।

সেদিনের জন্য আমার হেয়ারস্টাইলিস্টকে ধৈর্য ধরে আমি তাকে আমার ছবিগুলি দেখিয়েছিলাম এবং সে আমাকে মনোযোগ দিয়ে শুনেছিল যখন আমি ব্যাখ্যা করেছি যে আমি চুল ছোট করার বিষয়ে কোনো সংশয় নেই, তাই তার অবশ্যই এটি বেশ ছোট করা উচিত, এ সম্বন্ধে আলাদাভাবে উল্লেখ করতে আমার বন্ধুরা আমাকে পরামর্শ দিয়েছিল অন্যথায় তারা পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের চুল কিছুটা ভিন্ন ধাঁচে কাটে।

তারপরে তিনি শুরু করলেন, প্রথমে আমার ঘাড়ে কালো কাপড়টি সঠিকভাবে ফিট করে যা আমাকে আমার গোড়ালি পর্যন্ত ঢেকে রেখেছিল এবং আমার ঘাড় একটি কাগুজে তোয়ালে দিয়ে আবৃত করে দেন। দেখে মনে হচ্ছিল যে পুরোহিতরা পরেন এমন এক নামাবলীর মতো।

তিনি আমার চুলগুলি একটু একটু করে কাটছিলেন, যাতে আমার বন্ধুরা ক্যামেরার মাধ্যমে এই পরিবর্তনটির স্মৃতি সংরক্ষণ করতে পারে এবং ইতিমধ্যে আমি নিজেকে বদলাতে দেখি। আমি কিছুটা শরীর ছেড়ে বসলাম যখন স্টাইলিস্ট প্রথমে ডানে, এরপরে বামে ও তারপরে উপরে এবং পিছনটা কাটছিল ফেলতে পেরে , তা নিশ্চিত করার জন্য যে চুলের দৈর্ঘ্য চারদিকে একই থাকে।

আয়নাতে আমি আরো দু'জন লোককে দেখতে পেলাম, একজন তার চুল ও দাঁড়ি কাটা হয়ে যাওয়ার পরে ম্যাসেজ করছিল এবং অপর একজন ব্যক্তি তার চুল ছাঁটাইয়ের দৈর্ঘ্য নির্দেশ করছিলেন। আমি উজ্জ্বল সাদা লাইটের আলোয় এ সমস্ত দৃশ্য দেখছিলাম যা সেলুনের ভেতরটাকে একটি নীলাভ চেহারা দেয়, যা পার্লারগুলির আলোকসজ্জার একেবারে বিপরীত যেথায় উষ্ণ এবং ঈষৎ নিঃস্পন্দ হয়।

আমার স্টাইলিস্ট চুল কাটা শেষ করার পরে একটি ছোট ছেলেকে পাউডার কেস আনতে বললেন এবং আমি বুঝে উঠবার আগে তিনি চুলের ছোট ছোট কণাগুলি মুছতে সাদা বুরুশযুক্ত একটি মোটা প্রশস্ত ব্রাশ ব্যবহার করেছিল, যা আমার মুখমণ্ডলের ওপর পড়েছিল এবং আমার নাকে সুড়সুড়ি দিচ্ছিল। তিনি চুল গজানোর প্রান্তদেশে সুগন্ধি ট্যালকম পাউডার লাগালেন এবং মিনিটের মধ্যে আমার চুল কাটা সম্পূর্ণ হয়ে যায়।

ফিনিশিং টাচ বাকি ছিল — আমার চুল সেট করা এবং এর বেশিরভাগই উষ্কখুষ্ক ছিল এবং তিনি যখন আমার মাথার ত্বক ম্যাসাজ করেছিলেন এবং আমার চুলের গোড়া মুঠ করে করে হাল্কা টানলেন, আমি নিজেকে নিদ্রালু অনুভব করি!

চুল কাটার জন্য তাদের অর্থ প্রদান এবং ধন্যবাদ দেওয়ার পরে আমি দুটি জিনিস লক্ষ্য করলাম, যে আমার একই সঙ্গে চুলগুলো এখনও জায়গামত আছে এমন অনুভূতি হচ্ছিল সেই সাথে আমি আমার কাঁধে এবং ঘাড়ের পিছনে যেমন স্নিগ্ধ বাতাস অনুভব করতে পারি যেমনটা আমি আগে কখনও অনুভব করিনি যতদূর আমার মনে পড়ছে।

বড় হওয়ার পরে এই প্রথম আমি পুরুষদের সেলুনে চুল কাটতে পেরেছিলাম। আমাকে এ যাবৎকাল শেখানো হয়েছিল যে মহিলারা পার্লারে যাবে এবং পুরুষরা সেলুনে।

ছোটবেলায় আমি সবসময় ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের নিকটে নাপিতের দোকানে যেতাম গলির শেষে যেখানে আমাদের বাড়ি ছিল এবং আমার মা আমায় সঙ্গ দিতেন এবং তিনি আমাকে একটি মিমি চকলেট বা কিছু পটেটো ক্র্যাকার্স কিনে দিতেন আমার চুল কাটার হ্যাপা ভোলানোর জন্য।

যখন আমি কিছুটা বড় হলাম 'মহিলা হওয়ার' আদর্শের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে আমার চুলগুলি আরেকটু লম্বা রাখতে হয়েছিল। তখন আমার চুল ঘরে কাটা হতো, সমস্তটা জৌলুসহীন কাপড়, ধারালো কাঁচি ও ঘন দাঁতের চিরুনি এবং আমার মায়ের নিজস্ব দক্ষতার ওপর ভর করে; শেষ পর্যন্ত আমাকে পার্লারে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল যখন আমাকে যথেষ্ট বয়ঃপ্রাপ্ত বলে বিবেচনা করা হয়। আমি এখনও এগুলো মনে করে বোকার মত হাসি, যখন আমি পুরুষদের সেলুনে যাই, সাধারণ তবু কৌশলী হেয়ারকাট এবং বিনামূল্যে ম্যাসেজের প্রেমে। 

লিখেছেন : আয়েশা রহমান চৌধুরী

Friday, June 24, 2016

অর্থাভাবে উন্মুক্ত নাপিতের দোকানে মা-মেয়ের ক্ষৌরকর্ম সম্পাদন (১ম পর্ব)

১৭ বছর বয়সী টিনা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে তার চুল পরীক্ষা করছিল। অবশেষে তার চুলগুলি তার স্তনের দৈর্ঘ্যকে স্পর্শ করেছে দেখে সে খুবই উত্তেজিত হয়েছিল। তার চুল কাঁধ পর্যন্ত ছাঁটাই করা তার মায়ের জন্য মাসিক রুটিন ছিল, তবে গত কয়েকমাস ধরে তিনি তা করেননি। টিনা তার মায়ের কাছে গিয়ে মৃদুভাবে জিজ্ঞাসা করলেন, "মা, আমার মনে হয় আমার একটু চুল ছাঁটান দরকার" মা কোনও উত্তর দিলেন না। টিনা না থেমে বলে যায়, “মা, তুমি গত কয়মাসে ট্রিম করতে ভুলে গেছ, এটা খুব খানিকটা বেড়েছে"। তার মা, ৩৭ বৎসর বয়সী মাঝ পিঠ দৈর্ঘ্যের চুলের এক মহিলা তার দিকে ফিরে হেসে বললেন, "আমি ভুলিনি, তুমি এখন চুলের দৈর্ঘ্য বাড়ানোর জন্য যথেষ্ট বড় হয়েছ। তোমার বাবাও চাচ্ছেন এখন হতে তুমি চুল লম্বাই রাখ। বেশ তবে, তুমি যদি আবার শর্ট করাতে চাও, আমি আজ লাঞ্চের পরে এটা কাটতে পারি। সে জবাব দিল, ওহঃ না, না, আমিও এটি লম্বাই পছন্দ করি।
তার মা হেসে বলেন- তবুও এটার কিছু ট্রিমিংয়ের দরকার আছে। তুমি অবশ্য চাইলে পার্লারেও যেতে পারো।
টিনা আরো বেশি উত্তেজিত হয়ে বলে, সত্যি বলছ, এখন আমি আমার চুল স্টাইল করাতে পারি?
মা প্রত‍্যুত্তরে বলেন– অবশ্যই তোমার বাবারও সায় আছে তবে মাথায় রাখবে বেশি ট্রেন্ডি যাতে না হয়।
তার মা তাকে জিগ্গেস করলেন, তুমি কি আজই পার্লার যেতে চাও? টিনা মাথা নাড়িয়ে হ‍্যাঁ বলল।
কয়েক মিনিট পরে তারা পার্লারের দিকে যাচ্ছিল। পথে টিনাকে তার মা জিজ্ঞাস করল, তুমি কেমন স্টাইল করাতে চাও? টিনা জবাব দিল আমি শিওর নই আর তুমি? তার মা উত্তর দিলেন, “আমার মনে হয় পিক্সি বা বব দারুণ হবে" টিনা উত্তেজিত হয়ে উঠল, সত্যিই মা? তুমি তোমার চুল অতখানি ছোট করে ফেলবে? মা হতচকিত হয়ে গিয়েছিল, ‘নাহ, আমি পার্লারে কোনও চুল কাটতে যাচ্ছি না, আমি তো তোমায় পরামর্শ দিচ্ছিলাম।’ টিনা বলে:- তবে এখন সময় বদলানোর, তোমার বয়স বাড়ছে, তোমার চুলের আর তেমন জৌলুসও নেই। তার মা সহমত হয়ে বললেন, "হ্যাঁ… আমি জানি। আমি ইতিমধ্যে গত বছর মাঝ পিঠ পর্যন্ত এটি কাটিয়েছি, কি কাটাইনি?” টিনা জোর দিয়েছিল, "হ্যাঁ… বয়কাটের মতো কিছু দরকার" তার মা ফিরে তর্ক করেনি। তিনি তার চুলগুলিকে স্পর্শ করলেন যা বিনুনিতে ছিল এবং মৃদুভাবে বলেন, 'পার্লারে গিয়ে পরে দেখব'। পার্লারে কি পরিমাণ সেবামূল‍্য নিচ্ছে সেটা দেখে হতাশ হতেই যেন তারা পার্লারে গেল। এটি অযৌক্তিকভাবে বেশি ছিল। এছাড়াও অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করা ছিল। মন খারাপ আর দুঃখিত হয়ে তারা ঘর অভিমুখে হাঁটা শুরু করে।
টিনা জানত যে সে পার্লারে স্বল্পমূল্যে ভালো কোনও স্টাইল করাতে পারবে না, দর জানার পরে সে আর চায়ওনি। যদিও তার মা তাকে বলেছিল যে তারা আগামী রবিবার তার জন্য একটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করবে, কিন্তু টিনা তা প্রত্যাখ্যান করল। তারা দুজনে ফিরতি পথে হাঁটছে হঠাৎ টিনা বলল, মা… দেখো ওখানে একজন নাপিত বসা। তার মা অবাক হয়ে বলেন, “নাপিতের দোকান? তুমি কি সিরিয়াস?
(টিনা মুচকি হাসল)
–আমরা কি ওঁকে বাড়িতে ডাকতে পারি? এরা লোক খারাপ নয়। তার মা নাপিতকে বাড়িতে ডাকার প্রস্তাবেতে রাজি হন। বাস্তবে তিনি প্ল্যাকার্ডটি না পড়লে এটিকে নাপিতের দোকান হিসাবে বিশ্বাস করতে পারতেন না। ছাদ ছিল না। গাছের সাথে ঝুলানো একটি আয়না, তার নীচে একটি চেয়ার রাখা হয়েছে, যার উপরে একজন নাপিত বসে সংবাদপত্র পড়ছিলেন। দু'জনকেই তাঁর কাছে আসতে দেখে তিনি উঠে তাঁদের সালাম করলেন। টিনা সরাসরি জিজ্ঞেস করল, “আপনি কি আমাদের বাড়িতে আসতে পারবেন? আমাদের চুল কাটা দরকার।”
নাপিত বিনয়ের সাথে না বললেন, “আমি কেবল আমার দোকানেই সার্ভিস দিই। আমি আপনাদের দুজনের চুলই কাটব তবে এখানে বসেই কাটতে হবে।
টিনা মৃদু হাসল। তার মা বাধা দিয়ে বলেন, "ধন্যবাদ না, আমরা অন্য কোথাও কাটিয়ে নেব" টিনা বলল, “মা… এখানটা ভাল। এখানে এখন আর কেউ নেই। চলো এখানেই কাটিয়ে নিই।" মায়ের মুখ লাল হয়ে গেল। তিনি বললেন:– তুমি এখানে কাটাতে চাও, কাটাতে পারো। আমি এখানে খোলায় বসে চুল কাটাতে যাচ্ছি না টিনা মুখে হাসি নিয়ে আলতো করে ঠেলে তার মাকে চেয়ারে বসালো আর বলল হ্যাঁ তুমিও কাটাবে। তার মা শারীরিকভাবে প্রতিরোধ করেননি বটে তার প্রতি রাগী মুখে তাকালেন। টিনা তাড়াতাড়ি নাপিতকে অর্ডার দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল, ‘হুম ... এঁকে একটি সুন্দর বয়িশ কাট দিন' তার মা তার ইচ্ছার কাছে সমর্পণ করলেন কোনো প্রতিবাদ ছাড়াই। নাপিত তার চারপাশে একটি কেপ জড়ানোর সময় তিনি নাপিতটিকে নিজের বেণী তুলে ধরে সাহায্য করেছিলেন। তারপরে নাপিত লোকটি উভয় হাত দিয়ে বিনুনিটি ধরলেন ও এটিকে হালকাভাবে টেনে বললেন, ‘আমি এটি কাটতে যাচ্ছি’ টিনার মা কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি তবে হাসলেন। নাপিত তখন তার বাক্স থেকে সবচেয়ে বড় কাঁচিটি তুলে নেয় এবং এর ফলার মধ্যে বিনুনিটি ঢুকিয়ে নেয়। টিনার মা তার চোখ বন্ধ করে রেখেছিল অপরদিকে টিনা তার মায়ের কাঁচির মাঝে থাকা বিনুনিতে নিজের চোখ নিবদ্ধ করে। 


নাপিতটি কাঁচির আংটায় জোর লাগাচ্ছিল তবে কাঁচির ফলার জন্য পাকানো বেণী খুব পুরু ছিল। কেবলমাত্র কয়গাছি চুল কাটা পড়ে এবং বিনুনিটিকে একটি অস্পষ্ট চেহারা দেয়।
নাপিত হেসে বললেন:— এত লম্বা চুল কাটাতে আমি অভ্যস্ত নই এবং তারপরে একটি নতুন ব্লেড নিলেন। বাম হাতে বিনুনি আঁকড়ে ধরে তিনি ব্লেডটাকে ছুরির মতো চুলের ওপর চালাতে শুরু করলেন। টিনার মা তার চোখ বন্ধ করে রেখেছিলেন তবে তিনি অনুভব করলেন যে তার চুল কাটা পড়ছিল। কিছুক্ষণ চেষ্টার পরে, বিনুনি পুরোটা কেটে নাপিতের হাতে এলো। সে বেণীটা টিনার হাতে দিল এবং বাকি চুল ছড়িয়ে দিতে শুরু করল।
কাটা বিনুনি দেখে টিনার মার হাসি পেল। তার চুল এখন কাঁধের ওপরে উঠেছিল এবং ববকাটের কাছাকাছি দেখাচ্ছিল। তিনি তার চুল আয়নায় ভাল মত দেখবার আগেই, নাপিত দ্বারা তার মাথা নুইয়ে দিল। তিনি অনুভব করলেন ধাতব কিছু তার চুলের পশ্চাৎ স্পর্শ করেছে, উপরের দিকে যাচ্ছে। যেখান দিয়ে গেছে সেখানে চুলহীন এবং বাতাসের ছোঁয়া অনুভব করেছিলেন। জিজ্ঞাসা করতে তিনি টিনার দিকে তাকান। 

টিনা হাসল এবং ফিসফিস করে বলল, এটা কেবল ম্যানুয়াল ক্লিপার মা। নাপিত পিছনে ক্লিপিং করতে থাকে। তিনি যখন ক্লিপার চালাচ্ছিলেন, চুল মাটিতে ঝরে পড়ছিল। তার চুল পিছনে খুব ছোট হয়ে উঠছিল। পিছনের কাজটি সম্পূর্ণ হওয়ার পরে, তিনি তার মাথার উভয় পার্শ্বদেশ ক্লিপিং আরম্ভ করলেন ও সেগুলিও ক্লিপ করেন। টিনার মায়ের চুলগুলো এখন শ্রী ছন্দহীন দেখাচ্ছিল, পাশ এবং পিছনে এত ছোট করে ক্লিপ করা হয়েছিল যে তার মাথার ত্বক আংশিকভাবে দৃশ্যমান ছিল। তবে মাথার মাঝখানে এটি এখনো পূর্ববৎ বৃহদাকারই আছে।
নাপিতটি তখন চিরুনি এবং কাঁচি নিলো। নাপিত ক্লিপার সরিয়ে রাখাতে তাঁর মা স্বস্তি পেলেন। তিনি দুই পায়ের মাঝখানে নিচে দেখলেন। তার চুল সব জায়গায় ছিল। এমনকি তার কেপ ও কোল তার বিচ্ছিন্ন চুলে ঢাকা ছিল। নাপিত তার চুলের উপরে প্রচুর পরিমাণে পানি স্প্রে করতে শুরু করে যে এগুলি তার মুখের উপর দিয়ে ফোঁটা ফোঁটা পড়তে শুরু করে। তারপরে তিনি তার চুলগুলি দুপাশে ভাগ করে সিঁথি করলেন। তিনি সিঁথির বাম পার্শ্ব চিরুনি দিয়ে আঁচড়ে কাঁচিটি কানের কাছে রাখলেন এবং তার চুলের অংশগুলি কাটতে শুরু করলেন। একটি ঢাল না তৈরি হওয়া পর্যন্ত তিনি কাটতে থাকলেন। তারপরে তিনি অন‍্য পার্শ্বে গেলেন এবং চুলগাছি ডানদিকে আঁচড়ান ও একই রকম ভাবে কাটেন। তারপরে তিনি সামান্য পরিমাণে চুল আঁচড়ান যাতে তার চোখ ঢেকে যায়। কাঁচি কোণাকুণি করে ধরে তিনি তার চোখের সামান্য উপরে কাটা শুরু করে। টিনা ও তার মা তার নিজের নতুন চেহারা দেখে হাসল। তাকে সম্পূর্ণ অন্যরকম দেখাচ্ছে। তারা লক্ষ‍্য করল একটি রেজারে একই ব্লেড দ্বিখণ্ড করে প্রবেশ করালেন যেটি তার বিনুনি কাটতে ব‍্যবহার হয়েছিল। তারপরে পিছনে এবং পাশগুলি ভিজিয়ে নাপিত তার মাথা ঝুঁকিয়ে ও কাত করে সমস্ত পাতলা অস্পষ্ট চুল কামিয়ে ফেললেন। 
নাপিত অতঃপর তার ঘাড় ও মুখ ঝেড়ে ফেলল এবং কেপ সরিয়ে ফেলল। তিনি চেয়ার থেকে উঠতে উঠতেই চুল ছুঁয়ে দেখেন। তিনি তার চারপাশে বারবার দেখছিলেন এবং বিশ্বাস করতেই পারছিলেন না যে তিনি এই সমস্ত চুল কাটিয়ে ফেলেছেন। টিনাও তার চুলের প্রশংসা করল। সে তার মার দিকে তার বিচ্ছিন্ন হওয়া বেণীটা ছুঁড়ে দিল। তিনি তা হাত বাড়িয়ে লুফে নিলেন। এরপর আয়নার সামনে তা তিন আঙ্গুলে ঝুলিয়ে দেখলেন এবং শেষে নিজের ভ‍্যানিটি ব‍্যাগে পুরে নিলেন। 

[চলবে…] 

Translated from HC&S stories

Monday, March 14, 2016

ব্যাংকার বান্ধবীর মেকওভার

আমি জেনে খুব খুশি হয়েছিলাম যে আমার সহপাঠী ঋষিকা সম্প্রতি ব্যাংকের শাখা ম্যানেজার পদে পদোন্নতি পেয়ে আমার এলাকায় অবস্থিত শাখায় পোস্টেড হয়েছে। আমরা স্কুলে খুব বেশি ঘনিষ্ঠ ছিলাম না, তবে আমরা একই ক্লাসে ছিলাম। আমাদের ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড আসলে আমাদের মধ্যে পার্থক্য তৈরি করেছিল; আমি গ্রামের নাপিতের ছেলে, সে গ্রাম্য চিকিৎসকের মেয়ে, তবুও আমরা বন্ধু ছিলাম। আমি স্কুলটি ছেড়ে যাওয়ার সময় ৮ বছর আগে আমি তাকে সর্বশেষে দেখি। আমি তাকে স্মরণ করলাম, চিকন, খাটো মেয়েটি আর মাথার চুল সুন্দর, ছেলেদের মতন করে কাটা। সে ছিল আমার স্কুলে চুল ছোট রাখা একমাত্র মেয়ে। তার বয়কাট যদিও আমাদের বন্ধুত্বের একটি বিশেষ হেতু ছিল, কারণ সে কেবল আমার বাবার কাছেই তার চুল কাটাত। যখনই তার চুল কাটার দরকার পড়ত, সে আমাদের বাড়িতে আসত বা তাদের বাড়িতে বাবার ডাক পড়ত, কিন্তু ১৪ বছরে পা দেবার পর আর সে কখনই দোকানে ঢোকেনি। স্কুল ছেড়ে যাওয়ার পরে আমরা আলাদা হয়ে গেলাম। আমি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে রাজধানীতে চলে গেলাম আর সে গ্রামে থেকেই পাশের পৌরসভার কলেজে পড়া চালিয়ে গেল। 


সে নতুন পদে যোগদানের এক সপ্তাহ পর আমি তার ব্যাংকে তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম, কেবলমাত্র তাকে কিছু সময় সঙ্গ দেবার জন্য। সে এখন ২৭ বছরের একটি সুন্দরী মহিলা হিসাবে বিকশিত হয়েছেন, গৌরবর্ণা ও সুডৌল‌ গড়ন আর সে প্রায় নিতম্ব পর্যন্ত চুল বাড়িয়েছে। সুন্দর নীল সালোয়ার-কামিজে তাকে অপূর্ব দেখাচ্ছিল। তবে সেখানে তার অবস্থা দেখে আমার করুণা হলো। সেখানে তার কোনো কর্তৃত্ব নেই, দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে তাকে প্রাপ্য সম্মান দেয় না। সে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় দৌড়াচ্ছিল, যেন সে সেখানে চাকর। আমি তার সাথে দেখা করলাম না যাতে আমার উপস্থিতিতে সে বিব্রত না হয়। আমি চলে আসলাম তবে তার জন্য আমার বাড়িতে আসার একটি বার্তা রেখে গেলাম। আমি তার সমস্যাটি দ্রুত বুঝতে পারি, তার সমস্যা হল তার আজ্ঞাবহ ব্যক্তিত্ব এবং বিনয়ী আচরণ। 


সেদিন সন্ধ্যাবেলায় সে একই সালোয়ার-কামিজ পরে আমার বাড়িতে আসে। আমরা আমাদের স্কুল পরবর্তী জীবন ও বর্তমান অবস্থান সম্বন্ধে কিছু গালগল্প করলাম। আমি তখন বিষয়টিকে চুলের দিকে পরিবর্তন করেছি, "তুমি আমার বাবার কাছে আর যাও না?" 

সে হেসে বলল, “কেন যাব? আমার চুল কাটা দেখতে তুমিও তো আর দাঁড়াও না। 

আমি হাসলাম, সেও মৃদু হেসে বলল- তুমি হাসছ কেন? আমার চুল কাটার সময় তুমি সর্বদা সেখানে দাঁড়াতে, যখন আমি ১১শ শ্রেণিতে ন্যাড়া করেছিলাম তখনো। 

আমি জবাব দিলাম, হুম আমার মনে আছে, তুমি কাঁধ থেকে কিছুটা নিচ পর্যন্ত চুল বাড়িয়ে এসেছিলে এরপর ফাঁকা তকতকে মাথায় ওড়না দিয়ে বাড়ি ফিরেছিলে। 

সে হেসে বলল: হ্যাঁ, কাঁধ পর্যন্ত বড় হয়েছিল পরে কামিয়েছিলাম। এখন যে লম্বা চুল দেখছ এটা আমি কলেজ থেকে বাড়তে দিয়েছি। 

আমি ফট করে বললাম, "হয়ত তোমার এবার মেকওভার করা উচিত, চুল শর্ট করে ফেলো" 

সে কিছুটা ক্রুদ্ধ এবং অধিকারবোধক স্বরে নিজের পনি বাঁধা চুলগুলোকে ছোঁয় অতঃপর দুহাতের তালুবন্দি করে পাহারা দেবার ভঙ্গিতে বলে, আমি আমার চুল ভালোবাসি। 

আমি বললাম- এটা অনেক লম্বা। 

সে বলল: আমি এটি লম্বাই ভালোবাসি।

আমি তাকে চেয়ার থেকে টেনে এনে একটি স্টুলে বসালাম, তারপরে চিরুনি আনলাম। সে এবার শঙ্কিত হল। আমি বললাম, "আমাকে এটা আঁচড়ে দিতে দাও। আমি নাপিতের ছেলে, আমি সে পেশায় না গিয়েও চুল কাটতে জানি। তোমার কমপক্ষে পিঠের মাঝ অবধি কাটা উচিৎ " সে চেয়ার থেকে ওঠার চেষ্টা করেছিল কিন্তু আমি তাকে সেখানে ধরে বলেছিলাম, "কমপক্ষে ডগাচেরা থেকে মুক্তি পাবে, আমাকে এটি ট্রিমিং করতে দাও" সে এটা বুঝতে পেরে রাজি হয় যে, আমার কাঁচির মাঝে চুল না দিয়ে সে যেতে পারবে না। তাই আমি বসার ঘরের মাঝখানে দৈনিক পত্রিকা বিছিয়ে তার উপর চেয়ার রাখি ও পাশে টি-টেবিলে কাঁচি, চিরুনিসহ অন্যান্য জিনিসগুলিও সাজিয়েছি। তারপর আমি ডাকলে সে নিঃশব্দে এসে সেই চেয়ারে বসে চুল পিছনে ছড়িয়ে দিয়ে, আমার কাছে সমর্পণ করল। আমি তখন তাকে একটি তোয়ালে দিয়ে ঢেকে দিলাম যা তাকে ভয় পাইয়ে দিল। আমি তাকে আশ্বস্ত করলাম, “আমি ঠিক ১ ইঞ্চি ছাঁটব, নো টেনশন। আমি সামনের দিকে কিছু চুল স্টাইল করার কথা ভাবছি তাই আমি তোয়ালে জড়িয়ে দিয়েছি। ভেব না বেশি দৈর্ঘ্য কাটব না। " সে এখন মেরুদণ্ড সোজা করে বসে ছিল, তাকে খুব উদ্বিগ্ন দেখাচ্ছিল। আমি তার পুরো চুলের উপর থেকে নীচ পর্যন্ত জল স্প্রে করা শুরু করলাম। তারপরে চুলের মাঝে আমার আঙ্গুলগুলি ঢুকিয়ে আমি তার মাথা ম্যাসেজ করা শুরু করলাম যা তাকে সামান্য রিল্যাক্স করে। তারপরে আমি তার চুলগুলি চিরুনি দিয়ে কাঁচি নিলাম। তিনি কাঁচি দেখতে পেল না কিন্তু কাঁচির ফলাদ্বয়ের খোলা ও বন্ধ হবার ক্লিংক শব্দ শুনেছিল। আমি আরেকবার চিরুনি চালিয়ে যেই না, কাঁচি তুলে চুল কাটতে উদ্যত হলাম তখনই সে বলে উঠল 'উম্মম ... আমারও মনে হয় আমার চুল অনেক লম্বা হয়ে গেছে ... তুমি এটি অল্পখানিকটা কাটতে পারো’ আমি খুশি হয়ে বললাম, ‘কাঁধ পর্যন্ত?’ 



সে চিৎকার করে বলল, না! না! না! সর্বাধিক মাঝ পিঠ পর্যন্ত’' আমি বলেছিলাম, "রিল্যাক্স এটা আমার হাতে ছেড়ে দাও" আমি তার চুলটি সর্বশেষবার আঁচড়ে নিলাম, তার চুলের শেষপ্রান্ত থেকে ৬ ইঞ্চি উপরে কাঁচি রেখেছি। তার চুল টানটান করতে তার চুলের শেষটি আঁকড়ে ধরে। সে চোখ বন্ধ করে বলছিল, "খুব ছোট নয় ... খুব বেশি নয় ... ছোট নয়" আমি তার ঘাড় মেঝের দিকে বাঁকিয়ে দিলাম, যাতে তার চিবুকটি তার বুক স্পর্শ করে। আমি কাটতে প্রস্তুত ছিলাম। তাড়াতাড়ি আমি কাঁচিটি তার ঘাড়ের কাছে সরিয়ে নিলাম এবং সে কিছু করতে পারার আগেই, কাচচছ… ছছ। তার বেশিরভাগ কেশরই তখন আমার বাঁ হাতের মুঠিতে ঝুলছিল। পুরো চুল আমার হাতে না আসা পর্যন্ত আমি কাঁচি চালাতে থাকি। আমি চুলগুলো মেঝেতে বিছানো পত্রিকায় ফেলে দেওয়ার পর এক মূহুর্তের নিঃস্তব্ধতা ছিল। সে বেশ ধাক্কা খেয়েছিল। কয়েক মুহুর্ত পরে সে তার সম্বিৎ ফিরে পেল। সে তৎক্ষণাৎ চুলের সন্ধানে তার পিঠ হাতড়ে নিল, তারপরে ঘুরে দেখল এক গোছা লম্বা চুল মেঝেতে পড়ে আছে। সে আমার দিকে মুখ ঘোরায়, তার চোখ ভিজে উঠেছে এবং সে কিছু বলতে চেয়েছিল কিন্তু কোনও আওয়াজ আসেনি। তখন সে কাঁদতে লাগল, “আমার চুল! তুমি কেন এটা কাটলে? " আমি উত্তর দিলাম না। সে চেয়ার থেকে নেমে মেঝেতে হাঁটু গেড়ে বসে দুহাতে চুল তুলে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগল। আমি আস্তে করে তাকে কাঁধে চেপে ধরে চেয়ারে বসিয়ে দিলাম। সে ভীষণ কাঁদছিল ... আমি কিছু বলিনি। আমি কেবল চিরুনি তুলে তার চুল ছড়িয়ে দিতে শুরু করলাম। তারপরে আমি তার চুলে পানি স্প্রে করে আঁচড়ালাম। সে ফোঁপানি বন্ধ করবার পর আমি বললাম, ‘'এটা আবশ্যক ছিল, তোমার একটা মেকওভার দরকার, তুমি এখন একজন ব্যবস্থাপক, কিন্তু কেউ তোমাকে সম্মান করে না'’ 


আমি তার চুল নীচে আঁচড়ালাম ও ইলেক্ট্রিক ক্লিপার বের করে তার গার্ডটি ২য় পর্যায়ে উঁচু করলাম যাতে কাটা চুল কিছু বড় থাকে। তারপর আবারো তার ঘাড় বেঁকিয়ে দিয়ে আমি মাথার পিছনে এটি নিচে ঠেলে দিলাম, তার পিঠের উপর চুল বৃষ্টির মত পড়তে‌ লাগল। সে বাঁধা দেয়নি। পুরো ক্লিয়ার না হওয়া পর্যন্ত আমি পিছনে চালিয়ে যাচ্ছি। পিছনে এখন তীক্ষ্ণাগ্র কিন্তু কালো চুল, তার ঘন চুলের জন্য কোনো সাদা চামড়া দেখা যাচ্ছিল না। আমি তারপরে তার দুপাশের চুল শর্ট করে ক্লিপ করলাম। আমি অতঃপর পুনশ্চ চিরুনি দিয়ে তার চুলের সিঁথি মাঝখান থেকে বামে পরিবর্তন করে তার সামনের চুল ভিন্ন স্টাইলে আঁচড়ে দিলাম। এরপর একটি কাঁচি দিয়ে আমি বাড়তি চুল ছেঁটে ফেললাম। চুল যাতে বাতাসে উড়ে সারা ঘরময় না ছড়ায় তাই আমি ফ্যান বন্ধ করে রেখেছিলাম আর এতে তার মুখমণ্ডল ঘেমে যায় ফলে কাটা চুল তার মুখের আর্দ্রতার কারণে তার মুখের সাথে লেপ্টে থাকে। আমি তখন ক্ষুর হাতে নিলাম, কিন্তু পরে ভাবলাম যে তার ঘাড়ের গিঁটে ও চিপে বেশি চুল নেই তাই আমি আবার ক্লিপার অন করে গার্ড সরিয়ে আমি এটিকে কিনারায় চালালাম। চুল কাটা সম্পূর্ণ হল। আমি তাকে একটি আয়না এনে দিলাম। তাকে এখন একেবারে অন্যরকম দেখাচ্ছে। আমি তোয়ালে খুলে নিয়ে তার মুখ ও কাঁধ থেকে চুল মুছে দিলাম। তার পুরো সালোয়ার কামিজ তখন ছোট চুলের কণা দিয়ে ঢেকে গেল। আমি তখন তাকে গোসল করতে বললাম। সে আমার দিকে তাকিয়ে হেসে বলল, "আমি এখন কি পরতে পারি?" আমি জবাব দিই, "আমি একজন নাপিত, তোমার সুপার চুলের সাথে কি পরলে মানাবে তা আমাকে জিজ্ঞাসা করো না" সে মুচকি হেসে শাওয়ার নিতে গেল এবং আমি জায়গাটি সাফ করতে শুরু করি। তার সমস্ত চুল ঝাঁটা দিয়ে ঢিবি করে তা একটি পলিথিন বন্দী করলাম। 


Translated from HC&S stories

Wednesday, March 9, 2016

নারী দিবস কাট: বোন আসে নাপিতের কাছে

২১ বছর বয়সী শ্বেতা তাদের বাড়ির ঠিক উল্টোদিকে নাপিতের দোকানে ঝড়ো গতিতে ঢুকল। তার মাঝপিঠ দৈর্ঘ্যের চুলগুলো সব আলুথালু, এবং সে এমনকি তার পোষাকও পরিবর্তন করেনি বরং সে তার বাড়িতে যে সালোয়ার স্যুট পরেছিল সেই একই সালোয়ার স্যুট পরে এসেছে। 

ইতোমধ্যে তিন জন সেবাপ্রার্থীর সিরিয়াল পর্যবেক্ষণ করে যাদের মধ্যে তার ভাইও একজন; সে অপেক্ষার জায়গায় একটি আসনে বসল। সে আসা মাত্রই সবার মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠল কেননা সে আরামে বসার জন্য সমস্ত চুল সামনে এনেছিল, কিন্তু সে কোনও পাত্তা দেয়নি। তার চুল কুচকুচে কালো, এবং ঘন ছিল।

সে একটু গা ছেড়ে বসে সামনে তাকিয়ে দেখল নাপিতরা কেমন চেয়ারে বসা লোকগুলোর চুল বাজ করছে। সে চোখ সরিয়ে তার ভাইয়ের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে, তিন বছরের ছোট, একই ধরণের হেয়ারস্টাইলের জন্য অপেক্ষমান। সে তার চোখ বন্ধ করল। 

যখন দিন শুরু হয়েছিল, সে কখনই ভাবেনি যে সে দুপুরে একটি নাপিতের দোকানে যাবে, আসলে সে ১৬ বছর বয়সে পার্লারে যাওয়া শুরু করার পরে আর কখনো এ মুখো হবার কথা ভাবেইনি। তবে দিনটা ছিল অন‍্যরকম। এটি সব শুরু হয়েছিল যখন সে নারী দিবস উদযাপন করার জন্য একটি গার্লস ডে আউট করার কথা বলেছিল। তার মা তাকে সমর্থন করেছিলেন এই শর্তে যে সে তার চুল কমপক্ষে ২ ইঞ্চি ট্রিম করাবে যাতে শ্বেতা রাজি হয়েছিল। 

সবকিছু ঠিক ছিল, যতক্ষণ না তাদের মা তার ভাইকেও তার সঙ্গে গিয়ে চুল বাজ করানোর নির্দেশ দিলো। সে প্রথমে বাধ সাধলেও পরে মেনে নেয়, তবে সে শ্বেতার সঙ্গে বেরিয়ে কেবল একটি কথা বলেছিল যা শ্বেতাকে আঘাত করে, “ধন্যবাদ দি, তোমার জন্য কেবল ট্রিম, আর আমার জন্য বাজ” তার দুর্দশার জন্য তাকে অভিযুক্ত করে।

সে কিছু বলে না, তবে তার ভাই অবিরত বলে যায়, “বকোয়াস নারী দিবস, তোমরা সমস্ত মহিলারা সর্বত্র সমতার জন্য চিৎকার কর তবে তোমরা পার্লারে যাও যখন …তোমরা কেবল আগ্রহী…” শ্বেতা তাকে চুপ করানোর চেষ্টা করেছিল, “আরে…কি জ্বালা, আমি জানতাম না যে মা তোমাকে আজকের দিনেই চুল কাটাতে বলবে…এবং নাপিতের দোকানে মহিলাদের চুল কাটায় না তাই আমাকে তুমি নিরর্থক কথা শুনিয়ো না…” তার ভাই রাগ করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে বলে উঠে, "তুমি আসলে কখনও নাপিতের দোকানে চুল কাটানোর চেষ্টা করোনি, যদি তারা তোমার চুল না কাটে তবে নাপিতের দোকানে কেন তুমি সমান অধিকার দাবি করবে না যদি না থাকে?" 

কয়েক মিনিট পরে, সে চুল কাটার জন্য নাপিতের দোকানে তার ভাইয়ের পাশে বসে অপেক্ষা করছে। দোকানে কাজ খুব দ্রুত হচ্ছিল। কখন তার ভাই তার পাশ থেকে উঠে গিয়ে নাপিতের চেয়ারে বসল এবং তার চুল কাটা প্রায় অর্ধেক শেষ হয়ে গেল সে খেয়ালই করল না। অন্য নাপিত তার কাজ শেষ করতেই তার ডাক পড়ল। সে মন্থর গতিতে উঠে গিয়ে নাপিতের চেয়ারে বসল, এটি তার শরীরের মাপের তুলনায় বেশ বড়। 

নাপিত একজন মধ্যবয়স্ক পুরুষ, আলতো করে তার সমস্ত চুল একত্রে মুঠো করে উঁচুতে ধরলেন যখন তিনি একটি সাদা জর্জেটের কাপড় তার গায়ে জড়িয়ে দেন। অনন্তর নিজের মুষ্টি আলগা করে চুলের মুঠি ছেড়ে দিলেন। এরপর একটি চিরুনি হাতে জিজ্ঞাসা করলেন, "ম্যাডাম কী করাবেন?" 


শ্বেতা জবাব দিল, "উম্ম… আমাকে ঠিক ওর মতো করে চুল কেটে দিন" নিজের ভাইয়ের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করে সে বলল। নাপিত তাজ্জব হয়ে বলল, "আপনি নিশ্চিত ম্যাডাম? সে গ্রীষ্মকালের জন্য চুলে তেল কম ছাঁট দিচ্ছে... এটা খুব ছোট চুলের স্টাইল আপনি জানেন। মহিলাদের সাথে এটা একদম যায় না ” শ্বেতা জবাব দিয়েছিল, "হ্যাঁ আমি পুরোপুরি নিশ্চিত ... আপনি কি বিশ্বাস করেন যে আমি কেবল আমার চুলের কারণে একজন মহিলা?" নাপিত তোতলিয়ে বলে, "না… তবে, মহিলারা লম্বা চুল রাখে সাধারণত…" শ্বেতা বলেছিল, "পুরুষরা যদি তেল কম ছাঁট দিতে পারে তবে আমিও পারি" 

নাপিত আর কথা বাড়ায়নি। তিনি একটি কাঁচি নিয়েছিলেন এবং তার চুলে শেষবারের মত চিরুনি দিয়েছিলেন। তার হাতের কাঁচিটি তার ঘাড়ে রেখে তিনি আলতো করে তার মাথাটি সামনের দিকে নুইয়ে দিলেন। কাচ্চাছ ... ছচ্চছ ... ছ্যাচ তার গুচ্ছবদ্ধ চুল তার কাঁধ ঢাকা কাপড়ের ওপর দিয়ে গড়িয়ে মেঝেতে পড়তে শুরু করল। তিনি তার পিছনে ঝুলন্ত কেশর সম্পূর্ণ মাথা থেকে বিচ্ছিন্ন না হওয়া পর্যন্ত কাটতে থাকে। শ্বেতা সমস্তটা অনুভব করল, কাঁচির ধাতব ব্লেড ও তার মাথার নির্ভারতা। শ্বেতা মাথা উপরে তুলল, তার চুল এখন কেবল ঘাড়ের দৈর্ঘ্যে। সে এটি স্পর্শ করার চেষ্টা করেছিলেন, তবে পারল না কারণ তার হাত কেপের ভিতরে ছিল। 

নাপিত তখন একটি ক্লিপার নিয়ে তার চার্জার প্লাগ ইন করেন। তিনি গার্ড সরিয়ে এবার আরেকটি চিরুনি নেন। তিনি তার মাথার চারপাশে তার চুল ছড়িয়ে দিয়েছিলেন, তাকে একটি বব চুলের চেহারা দেয়। এরপরে কাঁচি দিয়ে তার লম্বা অলকদাম কেটে ফেলা শুরু করেন। তিনি তার চুল মুঠি দিয়ে ও আঙ্গুল দিয়ে চিমটার মত করে ধরে কাটা চালিয়ে যেতে থাকেন। 

তিনি সামনে থেকে চুলের বড় অংশ মুঠ করে ধরে টান দিলেন। তার মাথা পিছনে বেঁকে গেল। তারপরে কাচ্চাছ ... ছাছ… ছছ। কোলে চুল পড়তেই শ্বেতা চোখ বন্ধ করল। খানিকটা তার মুখে লেগে আছে। 

তিনি তারপর কাঁচি রেখেছিলেন এবং ক্লিপারটি তুলেছিলেন। তিনি এটিকে সামনের দিকে স্পর্শ করলেন ধীরে ধীরে এটি তার মাথার কেন্দ্রের দিকে চালান। চুলগুলো ওর কোলে এসে বৃষ্টির মত ঝরে পড়ল। তিনি ক্লিপারটি স্থানান্তরিত করলেন এবং আবার একই কাজ করলেন। অনন্তর তিনি ডান দিকে সরে যান, এবং তার ডান দিকে বাজ করলেন। তিনি বামদিককার চুলের সঙ্গে একই কাজ করেছেন। শ্বেতা এখন মাথায় ঠান্ডা হাওয়া অনুভব করতে পারছে। তার মাথা এখন কালোর বদলে ধূসর দেখা যাচ্ছে। ক্লিপারটি যাওয়ার সাথে সাথে মেঝেটি আরও বেশি ঢেকে যাচ্ছিল। 

শুধু তার পিছের চুল বাকি ছিল। তার মাথা সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে তিনি তার পিছনের চুলগুলোয় আঘাত হানলেন। শেষ অবশিষ্ট চুল কেটে ফেলা হয়েছিল। নাপিত অনন্তর কাঁচি নিয়ে তার পিঠে ও পাশে চুলের রেখা তৈরি করতে লাগলো। 

পরে উনি তার ঘাড়ের গাঁইটে এবং পাশে জল ছিটিয়ে একটি ক্ষুর বের করলেন। তার পিছে রেজার রেখে তিনি তাকে নড়াচড়া না করার জন্য সতর্ক করেছিলেন। শচ্...চ্চ্চ্‌। শ্বেতার একটু বেদনাদায়ক অথচ উত্তেজনাপূর্ণ অনুভূতি হয়েছিল। সচচক…চ সে আবার অনুভব করল। তার পিছনে গ্রীবার কাজ শেষ হওয়ার পর। নাপিত তার কানের পাতার পাশগুলোও করেছিল।

নাপিতের ক্ষুরের কারসাজি শেষ হবার পরে, সে নিজেকে দেখবার জন্য মাথা তুলে। সে প্রথম ঝলকে নিজেকে চিনতে পারল না। তার ঝাঁকড়া চুল আর নেই। তার মাথার আয়তন আগের তুলনায় অনেক ছোট মনে হলো। 

সে তার ভাইকে দেখতে তার পাশের চেয়ারটির দিকে তাকাল। পরন্তু বছর ৪০য়ের এক ব্যক্তি সেখানে বসা ছিলেন। নাপিত তার ঘাড়, গলা, মুখ ব্রাশ দিয়ে ঝেড়ে দেবার পরে আস্তে আস্তে জড়ানো কাপড় খুলল। তিনি তাকে বসে থাকতে ইঙ্গিত করলেন যেমনি তিনি আবার ক্ষুরটি তুলে নিলেন। তিনি আলতো করে তার পিছনে স্পর্শ করে তাকে সম্মুখপানে ঠেলে দিলেন অতঃপর তার পিঠের সামান্য চুলের বৃদ্ধি পরিষ্কার করলেন যা সালোয়ার থেকে উন্মুক্ত হয়েছিল। শ্বেতা খানিকটা লজ্জিত বোধ করলেও বাধা দেয়নি। সে এরপরে চেয়ার থেকে উঠে তার কামানো জায়গাটা ছুঁয়ে দেখতে থাকে। 

তার ভাই তাদের উভয়ের চুল কাটার জন্য অর্থ প্রদান করে এবং তারা একসাথে দোকান ছেড়ে চলে যায়। 

সে তার মাথা এবং এরপর তার ভাইয়ের মাথা স্পর্শ করেছিল এবং বলেছিল, "নারী ও পুরুষ সমান"।

নাপিতের দোকানে বলি (অতর্কিত)

সে তার ক্যামেরা ক্রু সাথে নিয়ে রাস্তায় হাঁটছিল, একজন উপযুক্ত শিকারের খোঁজে। সে হাঁটছিল ততক্ষণ পর্যন্ত যে সে ও তার সাথীরা ক্লান্ত হয়ে পড়ল...