Showing posts with label হেয়ার স্টাইল. Show all posts
Showing posts with label হেয়ার স্টাইল. Show all posts

Thursday, July 9, 2020

৬ ফুট লম্বা চুল, গিনেস বুকে নাম তুলল বাস্তবের ‘রাপুনজেল’ নীলাংশী

‘চুল তার কবেকার বিদিশার নিশা।’ বহুকাল আগে লিখেছিলেন জীবনানন্দ দাশ। কিন্তু আজও সেই সৌন্দর্য বঙ্গহৃদয়ে অমলিন। কেশবতী কন্যার সৌন্দর্য এই আধুনিক যুগেই হিল্লোল তোলে পুরুষ হৃদয়ে। শুধু বাংলা কেন? লম্বা কালো চুলের আকর্ষণ বাংলা ও ভারতের সীমান্ত ছাড়িয়ে পৌঁছে গিয়েছে বিদেশেও। তাই তো রাপুনজেল এত হিট। তবে এই রাপুনজেল কিন্তু শুধু রূপকথার পাতায় নেই। বাস্তবেও রয়েছে। আর রয়েছে এই ভারতেই। গুজরাটে থাকে সে। নাম নীলাংশী প্যাটেল।

নীলাংশীর বয়স ১৭ বছর। তাঁর চুলের দৈর্ঘ্য ১৯০ সেন্টিমিটার, অর্থাৎ ৬ ফুট ২.৮ ইঞ্চি। বাস্তবের রাপুনজেল বলতে যা বোঝায়, নীলাংশী ঠিক তাই। এই চুলের জন্যই গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান পেয়েছে সে। রেকর্ড অনুযায়ী, টিনএজারদের মধ্যে সবচেয়ে লম্বা চুলের অধিকারী নীলাংশী। কিন্তু হঠাৎ এভাবে চুল বাড়ানোর ইচ্ছা হল কেন তার? এর পিছনে রয়েছে এক চুল কাটার গল্প। সে জানিয়েছে, “আমার যখন ছ’বছর বয়স তখন একটি পার্লারে চুল কাটতে গিয়ে খুবই খারাপ অভিজ্ঞতা হয়৷ পার্লারের কর্মীরা অত্যন্ত বাজে ভাবে আমার চুল কেটে দিয়েছিলেন৷ হেয়ারকাট নিয়ে সমস্যায় পড়েছিলাম। এরপর থেকেই প্রতিজ্ঞা করি আর চুল কাটব না৷ গত দশ বছর ধরে সেই প্রতিজ্ঞা রক্ষা করে চলেছি৷ চুল কাটিনি৷”


তবে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে এর আগেও নাম উঠেছিল নীলাংশীর। বছর দুই আগে লম্বা চুলের কারণেই সে রেকর্ড করেছিল। তখন তার চুলের দৈর্ঘ্য ছিল ১৭০.৫ সেন্টিমিটার। তখনই তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়ছিল, এভাবে চুল বাড়াতে সমস্যা হয়নি? নীলাংশী বলেছিল, “আপনাদের মতোই অন্যান্যরাও ভাবে এত লম্বা চুলের জন্য আমার নিশ্চয়ই অনেক সমস্যা হবে৷ কিন্তু সত্যি কথা বলতে কি, আমার কোনও সমস্যাই হয় না। এই লম্বা চুল নিয়ে আমি খেলাধুলো করি এবং অন্যান্য কাজও করি। এই চুল আমার লাকি চার্ম বলতে পারেন।” লম্বা চুলে কী কী স্টাইল করেন? নীলাংশী জানান, “স্টাইল করতে আমার ভালই লাগে৷ এই চুলেই আমি লম্বা বিনুনি করি বা উঁচু করে খোঁপা বাঁধি। আমার পক্ষে আরামদায়ক হয়।”

[সংবাদ প্রতিদিন, ২০-০১-২০২০]

Sunday, June 28, 2020

শিশুর খাবার কিনতে নিজের চুল বিক্রি করে দিলেন মা

এলাকায় নতুন হওয়ার কারণে কারও সহায়তা পাননি বলে জানান ওই নারী


দুইদিন ধরে ঘরে কোনো খাবার নেই। ত্রাণের জন্য ঘুরেছেন অনেকের দরজায়। নিজের ক্ষুধা হয়ত সহ্য করা যায়, কিন্তু আঠারো মাসের শিশুর কান্না যেন মায়ের বুকে শেলের মতো ধাক্কা দেয়। তাই হকারের (চুল ক্রেতা) কাছে মাথার চুল বিক্রি করে সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিয়েছেন এক নারী।

ঢাকার সাভারের ব্যাংক কলোনি এলাকায় বসবাসরত ওই নারী সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে এমনটিই জানান।

সাথী বেগম নামে ওই নারী কাজের সন্ধানে ময়মনসিংহ থেকে মাস চারেক আগে রাজধানীর মিরপুর ও তার কিছুদিন পর সাভারের ব্যাংক কলোনি এলাকায় আসেন।

সাথী বলেন, কয়েকদিন ধরে দুই সন্তানকে নিয়ে না খেয়ে থেকে ত্রাণের জন্য দৌড়াদৌড়ি করেছি। কেউ কোনো সহায়তা করেনি। সম্প্রতি বাড়ি ফেরার পথে পরিচয় হয় এক হকারের (চুল ক্রেতা) সঙ্গে। সে চুল দেখে তিন-চারশ' টাকা দেওয়ার বললেও ১৮০ টাকা দিয়ে চলে যায়।

তিনি বলেন, এলাকায় নতুন হওয়ার কারণে তিনি কারও সহায়তাও পাননি।

সাথীর স্বামী মানিক পেশায় দিনমজুর, তিনি নিজেও বাসা-বাড়িতে কাজ করেন। করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হলে দু'জনেই বেকার হয়ে পড়েছেন। হকারের কাছ থেকে পাওয়া টাকা দিয়ে বাচ্চার জন্য সামান্য পরিমাণ দুধ ও এক কেজি চাল কিনেছেন।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সাভার উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। এমন হয়ে থাকলে তা অত্যন্ত দুখঃজনক। খুব দ্রুত ওই পরিবারকে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

কথা বলা হলে সাভার পৌর মেয়র আব্দুল গনি জানান, তিনি পৌর এলাকার অনেক হতদরিদ্রদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন। তবে বাচ্চার খাবারের জন্য কেউ চুল বিক্রি করেছেন, এমনটা তার জানা নেই।

{ঢাকা ট্রিবিউনে ২১ এপ্রিল, ২০২০ থেকে সংগৃহীত}

Wednesday, June 24, 2020

ভালোবাসার প্রবঞ্চনায় চুল কেটে ফেলা

আমার নাম রেহনুমা। বয়স ২৪। আজ আমাদের ৩য় বিবাহ বার্ষিকী। 
অবশ্য এবারই প্রথম বিবাহবার্ষিকী পালন করা হচ্ছে। কারন আমার স্বামীর মুড যে হঠাৎ চেঞ্জ হওয়া শুরু করেছে। আমার চুল কাঁধ পর্যন্ত পৌঁছানোর পর থেকেই আমাকে ছাড়া আর কিছু বুঝেনা।
তবে বিয়ের প্রথম প্রথম আমাকে একদমই ভালোবাসতনা। না জানি আগের মত হাঁটুর নিচ অব্দি চুল হলে কি অবস্থা হবে!
হ্যাঁ ঠিক পড়েছেন আমার হাঁটুর নিচ অব্দি চুল ছিল সেই গল্পই আপনাদের উদ্দেশ্যে লিখতে যাচ্ছি।
ছোটবেলায় আমাকে চুল বড় করতে দিতনা। প্রতি মাসেই সেলুনে নিয়ে যেত চুল ছাঁটাতে। মা বলতো রেহনুমার চুল এত দ্রুত বাড়ে প্রতি মাসে সেলুনে নিতে নিতে বিরক্ত হয়ে যাই।
সেলুনের নাপিত আংকেল আমার চুল ছাঁটাতে গেলেই বলত অনেক সিল্কি, শাইনি আর ঘন চুল। বলতো চুল লম্বা রাখলে একদম আকাশের পরীর মত লাগবে! তখনকার সেই ছোট চুলই কেমন জানি ন্যাচারালি রাউন্ড শেপ হয়ে এবং সুন্দর ভাবে কার্ল হয়ে থাকত।
চুল বড় রাখার পারমিশন পাই ক্লাস সিক্সের পর হতে। ক্লাস নাইন-টেনে পড়তে ততদিনে কোমড়ের নিচ পর্যন্ত চুল।
সবাই চুল দেখে বলত এত সুন্দর চুল আমি নিশ্চই কোন পার্লারে গিয়ে এমন চুল বানাইছি। অনেকে ত আবার নকল চুল বলত।
মাথাভরা এত ঘন লম্বা চুল বেধে রাখাও খুব কষ্টকর ছিল কারন চুল এত সিল্কি। আমার মা আমার চুল দেখলেই কেন জানি সহ্য করতে পারতনা। ভাবত আমি পড়ালেখা বাদ দিয়ে নাকি সারাক্ষণ চুল নিয়ে পড়ে থাকি। মা বলতেন– দেখবি একদিন তোর এত চুল সব ঝরে পড়ে যাবে।
আত্মীয়-মেহমান যখন আমার চুলের প্রশংসা করত তখন মা বাবা বলতো আমার চুলের পিছে নাকি অনেক টাকা খরচ হয়। অথচ অনেক টাকা দূরে থাক আমাকে নিয়মিত ২ টাকার শ‍্যাম্পু কিনবার টাকাও দিতনা। তাই গায়ে মাখাবার সাবান দিয়ে কখনো বা কাপড় কাচার সাবান দিয়ে কাজ চালাতে হত। মায়ের উকুনওলা পুরাতন চিরুনি ব‍্যবহার করতে হত।
তবে এত কিছুর পরও আমি আমার নিজের চুল অনেক ভালবাসতাম। কারণ এত সুন্দর স্টাইল হয়ে থাকতো চুল আয়নার সামনে নিজের চুল ছুড়ে মারতাম আর ভাবতাম নিজের ভালবাসার মানুষকে ছোঁয়াচ্ছি।
এত ঘন ছিল বিছানায় ছড়িয়ে রাখলে বিছানার অনেকখানি যায়গা ভরে যেত।
আম্মুর দাঁতভাঙা চিরুনি দিয়ে চুল আচড়ালে অনেক জট লাগতো তাও চুল পড়তনা এত মজবুত চুল।
এত সিল্কি, কোমল, মোলায়েম ছিল যে বারবার খালি মুখমন্ডলে ডলতাম আর চুমু দিতাম। জড়িয়ে ধরে থাকতাম।
যখন ইন্টারে পড়ি ততদিনে হাঁটুর নিচ অব্দি লম্বা হয়েছে। অনেকগুলো ক্লিপ ও কাঠি দিয়ে অনেক কষ্ট করে খোপা বেঁধে স্কার্ফ দিয়ে ঢেকে ক্লাসে যেতাম। কিন্তু খোঁপা অনেক বড় বুঝা যেত।
ক্লাসে বান্ধবীরা চুল খুলতে বললেও খুলতে চাইতাম না। (গার্লস কলেজ সেহেতু ছেলে ছিলনা ক্লাসে তবুও) কিন্তু বান্ধবীদের অনেক আবদারে খোঁপা খোলার পর উন্মুক্ত চুলে আমাকে দেখে সবাই অভিভূত।
আমার কিছু বান্ধবীদের চুলও অনেক সুন্দর কিন্তু তারা বলে আমার চুল নাকি ক্লাসে সবচেয়ে সুন্দর। কেউ কেউ বলল— এত লম্বা চুল দিয়ে কি করবি আমারে তোর থেকে অর্ধেক কেটে দে প্লিজ দোস্ত! পরচুলা বানিয়ে পড়ব।
তখন নকীব নামের এক ছেলেকে ভালবেসে ফেলেছি। কিন্তু বলতে পারতাম না লজ্জায়। আর তাছাড়া আমার চেহারা যেমন তেমন কিন্তু শরীর একটু মোটাসোটা। পরে একবার কয়জন বান্ধবী আমাকে ঠেলে দিয়ে ওর সাথে ধাক্কা দেয়ার মাধ্যমে প্রথম আলাপ হলো।
প্রথম প্রথম ও আমাকে তেমন পাত্তা দিতনা আবার ঐ টাইমে আবার মাছেল নামে আরেক ছেলে আমাকে পছন্দ করত আর আমার ক্লাসমেট বান্ধবীদের বলে আমি নাকি অনেক সুইট দেখতে। আমি ওকে এড়িয়ে যাওয়ায় একবার হাতও কাটছিল, বান্ধবীদের সামনে দুঃখে কেঁদেও ফেলছিল। কিন্তু আমি পাত্তা দিতাম না কিন্তু এখন বুঝি তার এই আবেগ মিথ্যা ছিল না। কিন্তু তখন আমার একমাত্র ভালবাসা ছিল শুধু নকীব।
পরে আস্তে আস্তে রিলেশন হয় নকীবের সঙ্গে। ছবি নিতে চাইত প্রথমে দিতে চাইতাম না। পরে ব্রেক-আপ করবে বলাতে দিতাম। এভাবে ভালই চলছিল।
এরপর কয়েক মাস পর থেকে আমার সাথে হতাত ব্রেক-আপ করতে চাচ্ছে। অনেক রাগারাগি খারাপ ভাষায় গালাগালি। আমার মাঝে কোন দোষ পেল সেটা জানতে চাইলাম; বললাম কি জন্য ব্রেক-আপ করতে চাচ্ছ? লাস্টে অনেক আবোলতাবোল কথা শেষে বলে আমার চুল বেশি লম্বা।
বান্ধবীদের বলাতে তারা বুদ্ধি দিল আমার জন্মদিন সেলিব্রেট করার জন্য কাছেই পার্কে যাব যেখানে নকীব প্রতিদিন সকালে গিয়ে আড্ডা দেয়। সেখানে গিয়ে হিজাব খুলে পরে মাথার সব ক্লিপ আর খোপার কাঠি খুলে আমার চুল নিয়ে খেলা করতে লাগলাম সব বান্ধবীরা দৌড়াদৌড়ি খুনসুটি একজন আরেকজনকে ধাক্কা দিতে থাকলাম।
ছেলে মেয়ে সবাই দেখি হা করে তাকিয়ে আছে। পার্কের বেঞ্চ দখল করা প্রেমিকরা তাদের প্রেমিকাকে ভুলে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আর বয়স্ক হাওয়া খেতে আসা লোকরা বিরক্তির দৃষ্টিতে দেখছে।
সবচেয়ে ভালো লাগল যখন দেখি নকীবও হাবাগোবার মত তাকিয়ে আছে। আমার কাছে আসলো। আমতা আমতা করে কি জানি বলতে চাচ্ছে। ও বলার জন্য মুখ হা করতেই এক পিস কেক ওর মুখে দিয়ে বললাম কি বলতে চাও বলে ফেল। তুমি তো ব্রেকআপ করতে চাইছিলা।
ও মুখস্থ বলে ফেলল- হ্যাঁ তা তো করবই তোমাকে আর ভালো লাগেনা "
আমিও সঙ্গে সঙ্গে আবেগে বলে ফেলি— প্লিজ আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি। সব কিছু ছাড়তে পারব কিন্তু তোমাকে না।
সে বললো ‘সত্যি সবকিছু ছাড়তে পারবে?’ আমি কোনো দ্বিধা না রেখে হ্যাঁ বললাম। –'তাহলে তোমার চুল সব কেটে ফেলতে পারবে?' 


আমি কিছুক্ষণ নীরবে থেকে ভাবার পর বললাম হ্যাঁ পারব। তৎক্ষণাৎ রওনা দিলাম  সেলুনের দিকে। বান্ধবীরা আমার পিছু পিছু আসছিল আর সমানে বলেই যাচ্ছিল ‘‘প্লিজ রে এমন পাগলামি করিস না!"
সেলুনে প্রথমে হেয়ার ওয়াশ করা হল। তারপর রাবার ব্যান্ড দিয়ে ঝুটি বানানো হল কাটার জন্য। অনেক মোটা ঝুটি তাই কাটতে অসুবিধা হচ্ছিল। তাই খোলা চুলেই একে একে চুল কাটছিল আর বাইরে দাঁড়ানো বান্ধবীদের কেউ কেউ কান্না শুরু করে দিয়েছিল।
আমার এত দিনের যত্ন, এতদিনের ভালবাসা সব আস্তে আস্তে মাথা থেকে আলাদা হয়ে ফ্লোরে পড়ছিল ভেবে কষ্টে বুকের ভেতরটা খানখান হয়ে যাচ্ছিল।
চুল সব কাটা হয়ার পর আর কান্না ধরে রাখতে পারিনি। বান্ধবীদের কেউ কেউ আর থাকতে না পেরে পার্লারের ভিতরে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে আরম্ভ করল আর বলল তুই এমনটা কেন করছিস। ওদের কান্না দেখে আমার চোখও বাঁধ মানল না।
এরপর নিজেকে সামলে নিয়ে ওদের সরিয়ে দিয়ে বললাম ইলেক্ট্রিক রেজর দিয়ে চুল ন্যাড়া করতে।
নাপিত নিচে পড়ে থাকা সিল্কি চুলের গোছা কুড়িয়ে আমার হাতে দিল।
আমি আর দেরি করিনি। নিজের শত ভালবাসার চুলগুলো নিয়ে ডাস্টবিনে ফেলে দিতে যাই কিন্তু পারলাম না তাই আমার এক বান্ধবী যে অনেক দিন আগে আমার চুল দিয়ে পরচুলা বানিয়ে পরবার বায়না করেছিল ওকে গিয়ে দিয়ে আসলাম। ও আমার হাত থেকে চুল  নিতে গিয়ে হতবাক হয়ে গেল। এবার আমার আশা ছিল এই স্যাক্রিফাইসের পুরষ্কার হিসাবে আমি নকীবের মন পাব।
পরে যখন নকীবের সাথে একাকী দেখা করে আমি হিজাব খুলে দেখাই নিজের ন্যাড়া মাথা। সে হাসতে হাসতে বলে “এই তো এইবার সেই লাগছে।” আমি জিগ্গেস করলাম ‘এখন থেকে ত তাহলে তুমি আর ব্রেকআপ করবে না।'
সে এবার হাসতে হাসতে বলল– "আমি কখন বললাম চুল কাটলে আমি আর ব্রেকআপ করবনা? আমি শুধু দেখতে চাইছিলাম তুমি আমার জন্য কত কি করতে পারো।”
‘'আর এই ভালবাসার আমার কোন দরকার নাই কারন এমন মেয়ে আমার পিছে আরো পাঁচ ছয়টা ঘুরে। তোমারে দেয়ার মত সময় আমার নাই” এইটা শুনবার পর কান্নায় বুক ভেঙ্গে পড়ে!
পরে জানতে পারি ও এইরকম অনেক মেয়ের সাথেই রিলেশন চালায় আর কয়দিন পর ব্রেকআপ করে ফেলে। এমনকি কারো কারো সঙ্গে ফিজিক্যাল রিলেশন করেছে। আমার শরীরের বাঁক এতটা সুন্দর না সেকারণে ও আমার সঙ্গে ফিজিক্যাল রিলেশনে যেতে চায়নি। এক্ষেত্রে বলা যায় আমি তুলনামূলক ভাগ‍্যবতী।
আমি আর এই কষ্ট ধরে রাখতে পারছিলামনা। আম্মু আব্বুকে তাই বিয়ের সম্বন্ধ খুঁজতে বলে দিই। উনারা ইন্টার পাশের পরপরই বিয়ে ঠিক করে বিয়ে করিয়ে দেয়।
পাত্র বয়স প্রায় আমার দ্বিগুণ, মাথায় টাক। একটা নামীদামী বেসরকারি ব্যাংকের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার তাই এই লোভনীয় অফার আর হাতছাড়া হয়নি।

প্রথম প্রথম স্বামী ভালো না বাসলেও যখন থেকে চুল বড় হওয়া শুরু হয়েছে পরিস্থিতি পাল্টে যাচ্ছে।
জানিনা নকীব এখন কি করছে হয়ত আরেক মেয়ের জীবন নিয়ে খেলছে। আমার কোন জানার ইচ্ছা নেই আমি শুধু এই নিষ্ঠুর অতীতকে ভুলে ভবিষ্যৎকে আঁকড়ে ধরে বাচতে চাই। 

[সংগৃহীত ও ঈষৎ পরিমার্জিত]

চুলের জন্য ভালোবাসা

দাদুর গ্রামে বেড়াতে এসেছি আমার দাদুর প্রায় ১০০ বছরের পুরানো বাংলো দেখার জন্য। সেখানে আমার পরদাদার বড় ভাই (আমারও পরদাদা) এর পার্সোনাল রুমে ঢুকলাম।
সেখানে কিছু জিনিস পত্র পেলাম যেগুলার মধ্যে আমার চোখ গেলো একটা সিন্দুকের দিকে।

সেই সিন্দুকের ভিতর দেখলাম প্রায় সাড়ে ৫ ফুট লম্বা খুব মোটা চুলের বেণী। খুব সুন্দর চুলের কালার, শাইনি আর ধরে এত কোমল লাগছিল মন চাচ্ছিল ধরে চুমু খাই, মুখের সাথে ধরি আর চুলের গন্ধ নিই।

কিন্তু তা করলাম না কারন সিন্দুকে প্রচুর ময়লা জমে ছিল মনে হয় ১০০ বছর ধরে পরিষ্কার করা হয়নি কিন্তু চুলের বেণীটা পরিষ্কারের পর দেখা গেল ১০০ বছরেও তার ঔজ্জ্বল্য, লাবণ্য একটুও ক্ষয় হয়নি।

আর পেলাম একটা ডায়রি আমার পরদাদার। এখানে হয়ত থাকতে পারে এই বেণীর রহস্য। যাক পরিষ্কার করে পড়া শুরু করলাম যেভাবে লেখা…

২৪ জানুয়ারি, ১৯১৬
আমার নাম সুব্রত গুহ বয়স ৩০। আমি এখন কোলকাতায় খুব ভাল একটা চাকরি (তখনকার ইংরেজ আমলে) করি তাই মা বাবা তোড়জোড় করছে বিয়ে করাতে।
সাহেবদের সাথে কাজ করার সুবাদে আমি যেকোন যুবতীকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে পারি তবে আমার অনেক দিনের স্বপ্ন এক বিধবাকে বিয়ে করব। বিধবার হারানো সংসার ফিরিয়ে দিব।

কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে বিধবা সম্বন্ধ পাওয়াও দুষ্কর হয়ে দাড়িয়েছে। মা দাদা-বৌদিরা বলছে এ জেদ বাদ দিতে। কিন্তু আমি ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করলাম আর অবশেষে পাওয়াও গেল।

২৮ বছরের মহিলা তার প্রায় ১১ বছরের ছেলেও আছে। মহিলা গায়ের রঙ তামাটে, কিছুটা স্থূল গড়ন, চেহারাও মায়াহীন কেমন যেন রাগী রাগী ভাব। তবে একটা জিনিস আমার চোখে পড়লো তার অনেক বড় খোঁপা। পুরো মাথা শাড়ির আচলে ঢাকা কিন্তু দেখে বুঝা যাচ্ছিল খোঁপা খুব বড়।

মহিলার নাকি দ্বিতীয় বিয়েতে একেবারেই ইচ্ছে নেই কিন্তু পরিবার জোর করছে খুব। ইনি তার স্বামীকে খুব ভালবাসতেন তার মৃত স্বামীকে ছাড়া আর কাউকে তার জায়গায় আসতে দিবেন না।

২০ আগস্ট, ১৯১৬
যাক বিয়ের পর আজ আমাদের ফুলশয্যা। তবে আমার সদ‍্যবিবাহিত স্ত্রী এতে রাজি নন তিনি নাকি আলাদা ঘরে একা ঘুমাবেন।
তার ঘরে গেলাম দেখি তাকে খোলা চুলে। প্রায় হাঁটুর নিচ পর্যন্ত এত সুন্দর চুল কখনো কল্পনাও করতে পারিনি। পাহাড়ি ঝর্ণার মত এত সুন্দর ভাবে ঢেউ খেলানো, এত ঘন ঝলমলে।
সে হঠাৎ আমায় দেখে ঘাবড়ে গেল। দেয়ালে তার হাঁটু অব্দি রেশমি চুলের পিঠ ঠেকালো যেন আমি দেখতে না পাই। তার সামনের চুলগুলো কেনো জানি এমন ভাবে বাকানো তার চেহারাটা অপরূপা লাগছে।
সে প্রতিনিয়ত মুখমণ্ডল থেকে চুল সরাচ্ছে আর রাগে লাল হয়ে বলছে “বের হন তাড়াতাড়ি এই ঘর থেকে নাহলে কিন্তু আমি লোকজন ডাকব, এক্ষুনি যান আমি আপনার কোন ক্ষতি করে ফেলব, শেষে একটা কাঁচের গেলাস ভেঙ্গে নিজের গলায় ধরে বলে নিজেকে শেষ করে ফেলব।"

সে এত রাগছে আর গালিগালাজ করছে তবুও তার সামনের চুলের জন্য তাকে এত সুন্দরী লাগছে যে মন চাচ্ছে জড়িয়ে ধরে চুমু খাই কিন্তু সে বিরক্ত হচ্ছে ভেবে চলে আসলাম।
রুম থেকে বের হওয়ার সাথে সাথে দ্রাম করে দরজা লাগিয়ে দিলো। আজ বুঝতে পারছি নারীর আসল সৌন্দর্য তার চুলে। না হলে যেই মহিলাকে দেখতে আহামরি সুন্দর না তাকে আজ খোলা চুলে দেখে আমি অদ্ভুত আকর্ষণ অনুভব করছি।

২১ আগস্ট,১৯১৬
সেদিনের কথা আর ভুলতে পারছিনা। তার এত সুন্দর দেখতে পা অব্দি লম্বা ঘন রেশমি খোলা চুল। তার সামনের চুলের জন্য তার চেহারা কিভাবে। কিভাবে চুল খুললেই এক নারির চেহারা পুরো পরিবর্তন হয়ে যায়। কিভাবে চুল খুললেই এক সুদর্শনা অপ্সরা তে পরিনত হয়ে যায়। এমন জাদুকরী চুল তার।
তার ১১ বছরের ছেলের থেকে জানতে পারি তার বাবার খুব প্রিয় ছিল তার মার চুল তাই চুল কাটেনি। কিন্তু তার বাবার মৃত্যুর পর থেকে চুল একেবারেই যত্ন নেয়া বন্ধ করে দিয়েছে। আঁচড়ায়না, তেলও দেয়না। গোসলের সময় মাথা ভেজায় না যেন চুল না ভিজে। খোঁপা খুলতে সচরাচর দেখা যায়না। বিভিন্ন ভাবে অবহেলা করে যেন চুলের লাবণ্য শেষ হয়ে যায় আর কোন পুরুষ যেন তার চুল দেখে পাগল না হয়ে যায়।

আমি তো পাগল হয়ে গেছি। আর প্রায় ১০ বছর ধরে অযত্নের পরও এত সুন্দর চুল ভেবেই আরো পাগল হই। না জানি প্রথম স্বামীর সময় কত লাবণ্যময়ী ছিল তাহার কেশ। তার ছেলেও নাকি তার মায়ের চুলের পাগল। তার মাকে খোলা চুলে দেখলেই চুলে চুমু খায় আর মুখমন্ডলে নিয়ে মাখে। এসব কখনো পুরান লাগেনা তার কাছে।

২৩ সেপ্টেম্বর, ১৯১৯
প্রায় ৩ বছর হয়ে গেলো আজো তার সাথে একটা রাত ও কাটানো হয়নি। সেই প্রথম যে তাকে খোলা চুলে দেখা আর এত বছর ধরে তার চুলের দেখা পাইনা। সব সময় মাথা আচলে ঢেকে রাখে। তার উপর প্রতিনিয়ত নানান খারাপ ব্যবহার করে সবার সাথে। সংসারের সব কাজ হয় আমার মা, বৌদিদের অথবা আমাকে করতে হচ্ছে। কাল তো সে আমার মায়ের গায়ে হাত তুলেছে! কেউ আমার মাকে কিছু বললে আমি সহ্য করতে পারিনা তার উপর গায়ে হাত তুলল! তবুও তার প্রতি আমার ভালবাসা কেন?
সে সেদিন বললো, "যতদিন আমাকে ঘরের বউ করে রাখবেন এসব সহ্য করে যেতে হবে!"

২০ সেপ্টেম্বর,১৯২০
নাহ! আর পারা যাচ্ছেনা। এভাবে আর কতদিন পারা যায়। আমরা গেলাম ডিভোর্স নিতে কোর্টে।
অফিসার বললো অমুক অমুক জায়গায় সাইন করতে এরপর বলল বাইরে গিয়ে অপেক্ষা করতে।

আমরা বসে আছি হঠাৎ হালকা বাতাস আসল; আমার বউ এর কিছু চুল বাতাসে উড়ছিল আর খেলা করছিল। আমার দেখে আবার প্রেম জেগে উঠলো মনে। কিছুক্ষন পর মাথা থেকে শাড়ির আচল সরে গেলো। তার এত সুন্দর খোপা দেখে আমি আবার যেন পাগল হয়ে গেলাম হারানো সেই অতীত অনুভুতিতে।

তার কাছে গিয়ে বললাম “শুনছো, ডিভোর্সটা না নিলে হয়না"। সে কিছুক্ষণ আমতা আমতা করার পর বলল– মাথা থেকে ভূত এখনও যায়নি? আমি বললাম একটু বুঝার চেষ্টা করো আমি তোমার ওই চুলের পাগল! যেদিন থেকে তোমাকে খোলা চুলে দেখেছি। তুমি এখন থেকে যত খুশি আমাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করো তবুও আমাকে ছেড়ে চলে যেয়োনা আমি তোমায় ছাড়া বাঁচবো না।

সে কিছুক্ষণ ভাবার পর বলল: চলুন আমার সঙ্গে। আমাকে নিয়ে গেল কলকাতা শহরের বাইরের এক নাপিত বাড়িতে। সেখানে গিয়ে নাপিতবৌ বলে হাঁক পাড়তেই একজন মহিলা বেরিয়ে এসে; আ লো গিন্নিমা বলে গড় করে প্রণাম ঠুকে বলল আহা কদ্দিন পর পায়ের ধুলো দিতে এলেন? নাপিত বৌয়ের মাথায়ও একটা বড় সুন্দর দেখতে খোঁপা। গায়ের রঙ উজ্জ্বল শ্যামলা চিকন গড়ন চেহারা সুন্দর। আমাদের দুজনকে প্রণাম শেষে ঘরের ভিতর থেকে দুটো জলচৌকি এনে আমাদের বসতে বলল। বলল গিন্নিমা-বাবুমশাই আপনারা বসুন। আমি কিছু ফলারের যোগাড়জন্তর করি। কিন্তু আমার স্ত্রী বলেন— বসতে আসিনিরে ক্ষেমী। ক্ষেমী কিছুটা অবাক হয়ে উত্তর দেয়: এতদিন পর আমাদের ভিটায় এলেন একটু বসুন; সেবা করার সুযোগ দিন। আমার স্ত্রী এবার বলল- যে সেবা তোর পেশা তাই নিতে এসেছি। সে এর মানে বুঝল, আমিও বুঝলাম তবু মুখ ফুটে কিছু বললাম না। আমার স্ত্রী আমাকে সরে বসতে বলল আর নাপিতবৌ আমার স্ত্রীর ঘন চুলের থেকে অনেকগুলো চুলের কাঁটা সরিয়ে আর বিশাল সেই খোপাটি থেকে কাঠের চিরুনি সরিয়ে তার চুল খুলল।
তাকে আবার খোলা চুলে দেখে মন চাচ্ছে জড়িয়ে ধরি। আশেপাশে হঠাৎ চোখ পড়লে দেখি কটা ছোট ছোট ছেলেমেয়ে একটু দূরে দাঁড়ানো। সবাই হা করে তার চুলের দিকে তাকিয়ে দেখছে।
–তাহলে এদ্দিন বাদে আপনি চুল কাটবেন। কিন্তু আপনি না আবার বিয়ে কল্লেন। শ্বশুরঘরের নোকে কি বলবে? এত সুন্দর চুল কেটে ফেলবেন। কতটা কাটবেন?
–আমার সব চুল কেটে উনাকে দিয়ে দে।
–কি বলছেন গো গিন্নিমা! সবটা কাটবেন? এমন নির্দয় হলেন কি করে?
–আমি বললাম না সব চুল কেটে ফেলতে। এক বার বললে কানে যায় না? তোকে যা করতে বলি তাই কর।
ক্ষেমী একদৌড়ে ঘরে ঢুকে পিছনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে শ‍্যামা নামের আরেকজন মহিলাকে ডাকল। তারা যখন আবার আমাদের সামনে এলো তখন তাদের হাতে একখানা ময়লা চাদর, একজোড়া কাঁচি আর চিরুনি, একখানা ক্ষুর আর আরো কি যেন ছিল।
কিছুক্ষণ রাশি রাশি চুল আঁচড়ে অতঃপর বড় একটা কাঁচি দিয়ে একে একে সব চুল কেটে ফেলতে থাকলো আর আমার মনে হলো আমার হৃদপিণ্ডেও কে যেন ছুরি কাঁচি চালাচ্ছিল। তার ঘন চুলগুলি এমন ভাবে ঢেউ খেলছিল যেন কাঁচির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করছে। মাথা ভরা চুল ক্ষেমী আর শ‍্যামা পালা করে কাটছিল।

সবশেষে পড়ে রইল এক বিশাল রেশমি ঝলমলে চুলের সমুদ্র। ওরা দুইজনে মিলে সেসব চুল সংগ্রহ করে বেণী বেঁধে আমার হাতে দিলো। কষ্ট ও হচ্ছে আবার এত কোমল চুল হাতে নিতে পেরে মন উতলা লাগছে।

সে এবার আমার দিকে তাকিয়ে বলল:- এখন তো আর কোন ভালবাসা অবশিষ্ট নেই আমার জন্য? এবার দয়া করে আমার জীবন থেকে চলে যান। আমার পাগল করা সেই চুল আপনাকে দিয়ে দিয়েছি। আমি বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম। আজ তাকে চুল কাটানোর পরও কেন যেন মায়াবী অপরূপা লাগছে কিন্তু তাকে আটকানোর কোনো অধিকারই আমার আর নেই। পুরুষের মত ছোট করা চুল সে ঘোমটা তুলে ঢেকে নিলো। আমিও সেই বেণীটা ক্ষেমীদের দেয়া একটা থলেতে পুরে তার পিছু পিছু বেরিয়ে নাপিতবাড়ি থেকে বেরিয়ে এলাম। 


ডায়েরিতে এইটুকুই লেখা। এরপর আমি যতদূর জানি পরদাদার বড় ভাই অবিবাহিতই থেকে যান এবং বাকী জীবন তার প্রাক্তন স্ত্রীর চুলের ভালবাসায় কাটিয়ে দেন।

আমি আরেকবার আমার পরদাদীর সেই বেণীর দিকে তাকালাম। প্রায় শত বছর শরীর থেকে আলাদা হয়ে থাকার পরও অর্থাৎ শরীরের পুষ্টি উপাদান না পাওয়ার পর তার উপর এত বছর বদ্ধ ট্রাঙ্কে অযত্নে ময়লার মধ্যে থাকার পর এখনো এত লাবণ্যময়ী সেই চুল। না জানি তার মাথায় থাকলে আর তিনি এতদিন বেঁচে থাকলে কেমন দেখতে লাগত ভেবে আমিও যেন পাগল হয়ে যাই। অবশ্য মনে পড়ল এতদিন বেঁচে থাকলে তিনি বুড়ি হওয়াতে তার এই চুলগুলি সাদা হয়ে যেত নিশ্চয়। ভাল হয়েছে উনি এগুলো কেটে ফেলেছিলেন।

পাগল হয়ে তার সেই মোটা বেণী খুলতেই এত সুন্দর ঝলমলে ঘন মেঘের মত ঢেউ খেলানো চুল দিয়ে যেন পুরো বিছানা ভরে যাওয়ার মত অবস্থা। নিজে আর তর সইতে পারি না পরদাদীর চুলগুলো হাতে নিয়ে সারা শরীরে জড়িয়ে ধরে চুমু খাই। এখনও এত সুগন্ধ। পরে অবশ্য নিজেকে সামলে নিয়ে এগুলো আবার গুছিয়ে যত্ন করে একটা রিবন দিয়ে বেঁধে আমার ব‍্যাগে রাখলাম। এখন এটা আমার সঙ্গে নিয়ে যাব।

[সংগৃহীত ও ঈষৎ পরিমার্জিত]

Tuesday, June 23, 2020

এই চুল সৌভাগ্য নাকি শাপ

সেলুনে লাইনে বসে আছি। নিজের অতীত স্মৃতিগুলো মনে ভাসছে।
ছোটবেলা থেকেই আমার অনেক লম্বা ঘন চুল ছিল প্রায় হাঁটু পর্যন্ত পৌঁছাত। চুল আঁচড়াতে হত দুইটা খোঁপা করে একটা খোঁপা খুললেই পুরো শরীর ঢেকে যেত। আমার মায়ের খুব পছন্দের ছিল আমার চুল তাই রোজ মাথায় তেল দিত আর বলতো “তোর চুলগুলো এত সুন্দর একদম মেঘের মত এত কোমল মায়াবী"। আমার চুল দেখতেও অনেক সুন্দর ছিল চুল খুলা থাকলে মুখমন্ডল দুপাশ ঢেকে যেত। নাইন টেন ইন্টারে পড়া আপুরা বলত “তোর এত সুন্দর চুল গুলা কেটে আমাকে দিয়ে দে আমি পরচুলা বানিয়ে পড়ব এই বয়সে এত বড় চুল দিয়ে কি করবি।”
‘আচ্ছা তাহলে অন্তত অর্ধেক কেটে দে তাও চলবে'। কিন্তু মা মানা করত 'কোনদিন চুল কাটবিনা!’
শৈশব কেটেছে গ্রামেই। মাঠে ভাই-বোনদের সাথে খেলতাম। তারা কেন জানি অন্যরকম ভাবে দেখতো। মাঝে মাঝেই খোপা খুলে যেত আর রফিক বলতো 'এইভাবে তোকে একদম ডাইনির মত লাগে' তাই ওরা আমার চুল নিয়ে নানাভাবে খেলতো মাঠের মাটিতে রেখে চুলের উপর লাফালাফি করত নানা ভাবে ময়লা করত টানাটানি করত। মা তাই রাগ করত আবার খুশিও হত এত কিছুর পরও চুল ড্যামেজ হয়না।
স্কুলে যে বয়সে আমার বান্ধবীদের প্রায় সবার ছোট চুল কারো কারো সর্বোচ্চ পিঠ পর্যন্ত পৌছায় সেই বয়সে আমার প্রায় পা পর্যন্ত চুল। তাই মা শক্ত করে খোপা বেধে দিত ক্লিপ দিয়ে আর মাথায় পিন লাগাতে হত বিভিন্ন স্থানে। আমি স্কার্ফ দিয়ে মাথা পুরা ঢেকে রাখতাম তাও সবার কৌতুহল জাগতো কারন খোপা এত বড় হত। একদিন বান্ধবীদের অনেক জোরাজুরিতে স্কার্ফ খুলতে বাধ্য হলাম তারা বলল এত সুন্দর খোপা এত সুন্দর চুলের কালার রোদের আলোয় যেন ঝলমল করছে তাই আমাকে বাধ্য করলো খোপা খুলতে। এরপর থেকে আমার চুল সবার মধ্যমনি। সবাই চুলে চুমু খেতে মুখের সাথে ঘষতে লাগলো বলে এত কোমল চুল না ছুঁয়ে থাকা যায়না।
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার দিন পরীক্ষক স্কার্ফের ভিতরে এত ফোলা দেখে জিজ্ঞাসা করল স্কার্ফের ভিতরে নকল নাকি? সেটা দেখবার জন্য অন‍্য রুমে নিয়ে আসে; এরপর চুল খুলে পুরুষ পরীক্ষক সমস্ত চুলে চুমু দিতে লাগল, পরে সারা শরীর জড়িয়ে ধরে মুখে চুমু দিতে লাগল তার মুখ আমার চুলের ভিতর ডুবিয়ে রাখল বলে এত সুন্দর চুল কখনো কল্পনা করেনি। আমার এত খারাপ লাগছিল কষ্টের কথা মা বাবাকে বলাতে তারা চুল ন্যাড়া করে দিলো। ইন্টারের এক বড় আপু আফসোস করে বললো 'এত সুন্দর চুল ডাস্টবিনে ফেলে না দিয়ে আমাকে দিতি’
ক্লাস টেনে পড়ার সময় চুল আবার হাটুর নিচ পর্যন্ত এখন। এই চুলের জন্য বান্ধবিদের কারো কাছে ঈর্ষার পাত্রী তো কেউ কেউ আমার চুলের পাগল। বারবার আমার খোপ খুলতে চায় যা আমার ভালো লাগেনা।
তখন হোম টিউটরের প্রেমে পড়ে যাই যদিও আমি গায়েগতরের দিক থেকে দেখতে তেমন সুন্দর না। গায়ের রং শ্যামলা কিছুটা মোটা গড়নের। বান্ধবীরা বলত খোলা চুলে তোকে দেখলে এমনিই প্রেমে পড়ে যাবে। কিন্তু আমার ইচ্ছা করত না এমন করতে। সেই রফিক স্যার আমাকে একদম পাত্তা দিতনা কথায় কথায় পড়া না পাড়লেই রাগতো পানিশমেন্ট দিতো তাই একদিন উপায় না পেয়ে খোলা চুলে পড়তে বসলাম। স্যার এর চোখ সরাতে পারছেনা সেইদিন খুব ভাল ব্যাবহার করলো। পানিশমেন্ট দিতে চাইলে লম্বা চুল তার দিকে মারতাম শরিরে ছোয়াতাম সে বললো "দে-দেখো এ-এসব কিন্তু ঠিক হচ্ছেনা"। তখন থেকে পড়াতে এসে শুধু আমার খোঁপা খুলতে চাইত। গোসল করে আসার পর আমার চুলের গন্ধ দিতে চাচ্ছে আমি গামছা দিয়ে চুলের ঝাপ্টা মারলাম। 

এবার আচমকা স‍্যারের মোহভঙ্গ হল। ‘'নাহ্ এসব ঠিক হচ্ছেনা। আমি এসব কি করছি ছাত্রীর সঙ্গে!’' আমি তোমার চুল সব কেটে ফেলব এক্ষুনি বড় একটা কাঁচি আনো।
তার মন জয়ের জন্য আমি যেকোন কিছু করতে পারতাম। তাই যেমন বলা তেমনি করা। প্রায় দু'হাত চুল ধরল কাটবার জন্য। আমি বললাম আরো বেশি করে কাটেন। অনেকখানি কাটার পর অনেকট লম্বা তাই স্যার কে বললাম আপনার প্রাণে যতখানি চায় কাটেন। স্যারের হাত কাঁপা শুরু করল। তারপর থেকে স্যার আমার চুলের পাগল।
তবে বাবা মা এত আহ্লাদ পছন্দ করেনি। ইন্টার পাশের পর বিয়ে দিয়ে দেয়। তখন চুল আবার আমার চুল হাঁটু ছুঁই ছুঁই।
হঠাৎ আওয়াজ এলো "ম্যাম আপনার সিরিয়াল এসেছে চলুন" চোখ ঘোরাতেই দেখি সেলুনের এক কর্মী। চেয়ারে গিয়ে বসলাম। নাপিত খোঁপার পেন্সিল আর মাথার পিন গুলো খুলার পর বেরিয়ে আসলো এক মেঘ চুল। চেয়ার আর উচু করা যাচ্ছেনা বলে নাপিত।
আমার কি কপাল! আমার মত সুকেশার কপালে জুটল কিনা এমন এক স্বামী যে লম্বা চুল ঘৃণা করে। বিয়ের পর আমার মাথা ভরা চুল দেখার পর রাগে আগুন। কিন্তু শাশুড়ি ও মায়ের মত লম্বা চুল কেটে ছোট করতে একদম মানা। এদিকে শ‍ শ্যালিকা আমাকে দেখতেই পারেনা বলে: “দেখব কতদিন তোমার এই চুল থাকে।"
আমার স্বামী সবসময় হয়ত ইচ্ছে করেই ডেট ওভার হওয়া শ‍্যাম্পু, তেল আনতো আমার জন্য। আমি এগুলো হাসিমুখে ব‍্যবহার করতাম। আলাদা বাসা নেয়ার পর থেকে আরও অনেক কিছু শুরু হয়। যেমন ময়লা কাপড়ের পরিবর্তে আমার লম্বা চুল দিয়ে ঘর মুছাতো। এত জোড়ে টান দিয়ে মোচড়াতো যে খুব ব্যাথা হত আর বলত ‘যতদিন তোর এই চুল থাকবে ততদিন তোর প্রতি আমার কোন ভালবাসা নাই।’ শাশুড়ি কেবলই বলে "সমস্যা নেই একদিন তোর চুলে পাগল হয়ে যাবে আমার ছেলে দেখিস।"
যাক এসবের মাধ্যমে একবার চুল পড়া শুরু হলে আর এই সৌন্দর্য থাকবেনা তখন মা শাশুড়ি কে মানাতে পারব চুল কাটতে। কিন্তু আমার কি কপাল। এত কিছুর পর ও একটা চুলও পড়েনা। চুলের শাইন আর লাবণ্য একটুও কমেনা। কেন যে এমন চুল নিয়ে জন্মালাম।
৭ বছর পর, আজও সে আগের মতই ডেট এক্সপায়ার্ড শ‍্যাম্পু আর চুল দিয়ে ঘর মোছা জারি আছে। অন্য মেয়ের সাথে সম্পর্ক চলে তার। আজও সন্তানের মুখ দেখলাম না। তবে এখন অনেক চুল পড়া শুরু হয়েছে। চুলে আর আগের লাবণ্য নেই। তবে এখন কি মানাতে পারবো তাদের।
বাবার বাড়ি যাবার পর মা এসেছি দেখেই আগে আমার খোঁপা খুলে দেখলেন— বাহ! এখনো কি সুন্দর আমার মেয়ের চুল। আমার মুখে হতাশার ছাপ দেখে হয়ত মায়ের মুখের হাসিও ম্লান হয়ে গেল।
তার পরের দিন স্বামী মদ্যপ অবস্থায় বাসায় এসে আমার মোটা বেণী দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে বলছিল:– দেখি তোর এই চুল আজকে কিভাবে থাকে! আমার দম বন্ধ হয়ে আসছিল আর চোখ দিয়ে পানি বেয়ে পড়ছিল।
নাহ! এসব আর কতকাল সহ্য করব! ভেবে ভেবে রান্নাঘরে কাঁদছিলাম তখন চোখ গেল চুলায় ফুটন্ত গরম পানির দিকে। তাকিয়ে রইলাম সেদিকে। এরপর খোপার কলম আর পিন গুলো খুললাম আর সমস্ত চুল ফুটন্ত পানিতে ডুবালাম আর ভাবতে থাকলাম সেই দিনগুলির কথা। সেই মাঠে একসঙ্গে খেলা, জুনিয়র বৃত্তি পরিক্ষার পরীক্ষকের সেই নোংরামি সব স্মৃতিগুলি ফুটন্ত পানিতে ভেসে আসছিল তাই চেয়েই থাকলাম সেই দিকে।
ম্যাডাম কতটুকু কাটব? আপনার চুল মারাত্মক ড্যামেজড কিন্তু চুলের ঘনত্ব, লেংথ, শাইন সবকিছুই সুন্দর। আমি বললাম- কাটতে থাকুন যতক্ষণ না এই সব চুল শেষ হয়ে যায় এই সব কস্টের মূল শেষ হয়ে যায়! "
–ওকে ম্যাম তাহলে আপনাকে বয়কাট দেই কারন মাথার কাছের চুলগুলো একটুও ড্যামেজ হয়নি; খুব সুন্দর দেখতে।
বয়কাট দেয়ার পর কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলাম এরপর মাটিতে পড়ে থাকা চুলের সমুদ্রের দিকে তাকালাম। তারপর হঠাৎ আয়নার দিকে তাকিয়ে বললাম ‘‘এবার মাথা পুরো ন্যাড়া করে দিন আর মেডিসিন দিয়ে দিন যেন আর চুল না গজায়।’’

আজ হয়ত বড় আপুরা নেই যে বলবে চুলগুলি ফেলে না দিয়ে তাদের দিয়ে দিতে। আজ হয়ত সেই স্যারও নেই যে এই চুল কাটতে দেখে মায়া লাগবে। 

[সংগৃহীত]

Monday, May 18, 2020

এক স্ত্রীর আত্মকথন

রিকশা থেকে নেমে লিফট এর ৫ চেপে পার্লারে ঢুকলাম। ভিড় আছে ভালোই।
আচ্ছা, এখন তো সামনে ঈদ নাই তাহলে এতো ভিড় কেন কি জানি!
-এক্সকিউজমি ম্যাম,কি করবেন?
-চুল কাটব।
-কি কাট?
-একদম ফেলে দিব।
-বয় কাট?
-না, একদম ফেলে দিব সব চুল।
রিসিপশনের মেয়ে টা আমার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে রিসিপ্ট কেটে দিয়ে দিল।
দশ পনেরো মিনিট পরে আমার সময় এলো।
যে মেয়েটি চুল কাটছে, সে বারবার জিজ্ঞেস করছে আমার কি কোনো অসুখ আছে নাকি এভাবে এতো সুন্দর সব চুল কেন কাটছি। আমি শুধু মুচকি হেসে বলছি, একদম মাথা মুড়িয়ে দাও আপু।
চুল কাটা শেষে মাথায় কোনোভাবে হিজাব বেধে বাসায় চলে এলাম।
বাসায় ঢুকতেই মা বকা দিচ্ছে কেন আজ এই সময় বাইরে গেলাম। তাড়াতাড়ি রুমে ঢুকে দরজা লাগিয়ে ড্রেসিংটেবিল এর সামনে দাঁড়িয়ে হিজাব খুলে একটা ছবি তুললাম। ছবিটা হোয়াটসএ‌্যাপ এ শুভ্র কে পাঠিয়ে দিলাম। শুভ্র সিন করে হাসির ইমোজি দিলো আর বলল- এখন আর কেউ বিয়ে করবে না তোমায়, নিশ্চিন্তে ঘুমাও।
গোসল করে বের হয়ে মাথায় হাল্কা ওরনা দিয়ে ডাইনিং রুমে যেতেই মা চিৎকার দিয়ে উঠলো- এ কি করেছিস নীরা!? আজ তোকে রাতে দেখতে আসবে ছেলেপক্ষ, আর তুই এ কি করলি? কেন করলি এমন?
কি হলো, কথা বলছিস না কেন?
খুব গরম লাগছিল মা তাই ফেলে দিলাম সব চুল।
চুল বড় হতে অনেকদিন লাগছে,৬মাস হলো এখনো ছোট চুল।
বিয়ে ভেঙে যেতে লাগলো একের পর এক।
এর ভিতর শুভ্রের চাকরী হয়ে গেলো,আর এক মাস পর জয়েনিং।
খুব খুশি লাগছিল,আমাদের ৪ বছরের সম্পর্ক অবশেষে বুঝি বিয়েতে রূপ নেবে।
দিনক্ষণ ঠিক করে শুভ্রের মা বাবা আমায় দেখতে এলো, ওর মা আমার চুল দেখে একদম বেঁকে বসল।
উনি নাকি স্বপ্নে দেখেছেন এই বংশে এক ছোটো চুলের বউ আসবে যে এই সম্পূর্ণ পরিবার কে নষ্ট করে দিবে।
উনি এখন কোনোভাবেই আমাকে মেনে নিতে রাজি না।
শুভ্র আমায় বললো,কিছু মাস অপেক্ষা করে চুল একটু বড় করতে।
আরো ৬ মাস চলে গেলো, চুল বড় হলো কিছুটা।
কিন্তু শুভ্রের মা কোনোভাবেই আমাকে ঘরের বউ করবেন না।
শুভ্রও নাছোড়বান্দা, আমাকে ছাড়া সে বিয়ে করবে না বলে দিয়েছে আরো আগেই।
অবশেষে শুভ্র আমায় কাজী অফিসে বিয়ে করে ঘরে নিয়ে গেলো, তার মা আমায় বরণও করলো না।
আমি নতুন পরিবেশে কোনোভাবে মানিয়ে নিতে পারছিলাম না। ধীরে ধীরে আমার শ্বাশুড়ি আরো ভয়ংকর রূপ নিতে লাগলেন।
আমি কখনো চুলার আঁচ কমিয়ে ভাত, তরকারি কিছু বসিয়ে গেলে উনি জোড়ে বাড়িয়ে দিয়ে পুড়ে ফেলতেন, তারপর সারা বাসা চিল্লাচিল্লি করতেন বউ অলক্ষ্মী। ছোট চুলের বউ।
একদিন অনেক বৃষ্টি,কোনো কাপড় শুকাচ্ছিল না তাই আমি চুলার উপর দড়ি বেঁধে শুভ্রের একটা প্যান্ট শুকাতে দিয়েছিলাম।
দুপুরে একটু ঘুমাতেই পোড়া গন্ধে ঘুম ভাঙল, সারা ঘরে ধোঁয়া আর ধোঁয়া।
রান্নাঘর এ আগুন লেগেছে,সেই ধোঁয়া রুমে চলে এসেছে।
এভাবে নানানভাবে উনি আমার পিছু লাগলেন অলক্ষ্মী প্রমাণ করতে।
মাঝে মাঝে খুব কান্না পায়,লুকিয়ে লুকিয়ে কাঁদি।
কিন্তু দিন শেষে ক্লান্ত শুভ্র যখন মুখে একরাস হাসি নিয়ে এসে জড়িয়ে ধরে নীরু বলে ডাকে তখন সব কষ্ট ভুলে যাই।
কখনো বা বেলী ফুলের মালা,কখনো কাঠ গোলাপ,সাদা গোলাপ,লাল গোলাপ নিয়ে এসে আমার ছোটো চুলে পড়িয়ে দেয় তখন আমার নিজেকে সবচেয়ে সুখী মানুষ মনে হয়, ভুলে যাই অলক্ষ্মী নাম টা।


Wednesday, April 8, 2020

যে ৭টি কারণে চুল ছোট রাখাটাই সবদিক দিয়ে ‘ভালো’

আজকালকার আধুনিকারা অনেকেই চুল ছোট রাখতেই ভালোবাসেন। হ্যাঁ, লম্বা চুলের আবেদন অস্বীকারের কোন উপায় নেই। তবে ছোট চুলের স্টাইলিশ আকর্ষণটাও কিন্তু অনেক। হাজার রকমের হেয়ার কাট বেরিয়েছে, আজকাল, অনেক নারীই সেসব দিয়ে পাল্টে ফেলতে ভালোবাসেন নিজের লুক। ফলে বলাই বাহুল্য যে ছোট চুলটাকেই নিজের স্টাইল বানিয়ে ফেলেন। চলুন, আজ জেনে নিই কেন এই ছোট চুলের ফ্যাশন আসলে আপনার জন্য ভালো!

১) কর্মজীবী নারীদের জন্য ছোট চুল একটা আশীর্বাদ। চুলের যত্নে কিংবা চুল সজ্জায় সময় দিতে হয় না বলে বাড়তি সময়টা দিতে পারেন নিজের কাজে ও জীবনে। কতটা যে আরাম হয়, সেটা কেবল নারীরাই জানেন।

২) সকালে যাদের খুব তাড়াহুড়ায় অফিস, ক্লাস বা বাচ্চাদের স্কুলে যেতে হয় তাঁদের জন্যও ছোট চুল খুবই আরামের। সময় নিয়ে আঁচড়ানোর বা বাঁধার কোন প্রয়োজন নেই। একটু চিরুনি বুলিয়ে নিলেই আপনি তৈরি।


৩) চুল ছোট থাকলে চুল পড়ে কম। ছোট চুল চিরুনির সাথে ভাঙে না, জট পড়ে ছেঁড়ে না, ছোট চুলে পুষ্টির সরবরাহটাও বেশিই মেলে। সব মিলিয়ে চুল থাকে ঝলমলে ও সুন্দর।

৪) একটা জিনিস ভুলে যাবেন না, ছোট চুলে কিন্তু আপনাকে বেশ তরুণী দেখায়। কষ্ট করে বয়স লুকাবার আয়োজন করার চাইতে ছোট চুলের স্টাইল ধরে ফেলুন।, এমনিতেই তরুণী দেখাবে।

৫) ছোট চুলের পেছনে যে কোন হেয়ার কেয়ার প্রোডাক্টের খরচই অনেক কমে যায়।

৬) স্টাইলিশ করে চুল ছোট করে কাটলে না চাইতেও আপনাকে দেখায় সুপার স্মার্ট। লম্বা চুল ঠিক মত মেইনটেইন করতে না পারলে আপনার লুক নষ্ট হতে বিন্দুমাত্র সময় লাগে না।

৭) ছোট চুলের বলতে গেলে কোন পার্লার খরচ নেই। আপনি চুলে রঙ করান বা হেয়ার ট্রিটমেন্ট নিন, ছোট চুলের কারণে কিন্তু খরচ কমে যায় অনেকটাই।

(বিউটি মান্ত্রা অবলম্বনে)

Tuesday, March 31, 2020

নারীরা চুল ছোট করলে যেসব কথা শুনতে হয়

মেয়ে মানেই যেন লম্বা চুল, কাজল টানা চোখ আর লাজুক হাসি। মেয়েদের এমন চেহারাই যেন ঠিক করে দিয়েছে সমাজ। ছোট চুলে আবার স্টাইল হয় নাকি? ওরা আবার মেয়ে নাকি? ছোট চুল মানেই তো টম বয়। ছোট চুলের মেয়েদের আজও শুনতে হয় নানা হাস্যকর মন্তব্য। জেনে নিন তেমনই কিছু।

১. একি! চুলের কী হল?

২. কী ছোট চুল তোমার!


৩. আমি এত ছোট করে কাটতেই পারবো না চুল।

৪. তোমাকে কিন্তু বড় চুলে খুব সুন্দর লাগবে।


৫. আমাকে এত ছোট করে কাটলে পুরো ছেলেদের মতো লাগবে।

৬. লম্বা চুলের যা ঝক্কি তুমি আর কী বুঝবে!


৭. একটু লম্বা চুল না হলে শাড়ি পরলে মানাবে কী করে?

৮. এই চুল নিয়েই বিয়ে করবে?


৯. তোমাকে ছেলেদের মতো দেখাচ্ছে!

১০. ছেলেদের মতো চুল কেটেছো কেন?

[সংগৃহীত]

Monday, March 30, 2020

ছোট চুল রাখার উপকারিতা

১. সময় সাশ্রয়
ছোট চুলে ঝামেলা কম। ছোট চুল রাখার উপকারিতা হল সময় সাশ্রয়। ব্যস্তময় জীবনে চুলের যত্ন নেওয়া একটু মুশকিল হয়ে ওঠে। বড় চুল ঠিকমতো খেয়াল রাখা হয় না যার ফলে চুল অকালে ঝরে পড়ে। তাই কর্মরত মহিলাদের জন্য ছোট চুল রাখা একটি সুবিধা সময় সাশ্রয়। ছোট চুল খুব সহজেই আঁচড়ানো যায় আর সময়ও কম লাগে।

২. অর্থ সাশ্রয়
লম্বা চুল পরিপাটি ও ভালো রাখার জন্য বিভিন্ন প্রসাধনী ব্যবহার করতে হয়, যা খানিকটা ব্যয়বহুল। আপনি চুল ছোট করে ফেললে আপনার চুলের পিছনে খরচ হওয়া প্রসাধনী কেনার বাড়তি টাকা বাঁচাতে পারেন।

৩. গরমকালে ছোট চুলের উপকারিতা
গরম কালে ছোট চুল রাখার একটা সুবিধা আছে ভেবে দেখেছেন কখনো? গরমে ছোট চুল রাখলে গরম কম লাগে। এছাড়াও গরমে ধুলো বালি, দূষণের হাত থেকে চুল রক্ষা করা সম্ভব হয়। তাই বুঝতেই পারছেন গরমকালে চুল সুরক্ষিত রাখার সহজ বিকল্প ছোট চুল।

৪. ছোট চুলের রক্ষণাবেক্ষণ
ছোট চুল রক্ষণাবেক্ষণ করতে সুবিধাজনক। বিশেষ করে অফিসের কর্মরত মহিলাদের সময়ের অভাবে বড় চুল পরিষ্কার করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। তাই তাদের জন্য ছোট চুল রাখা ভালো বিকল্প। কারণ ছোট চুল রাখলে ওয়াশ করা সম্ভব এবং তাড়াতাড়ি শুকিয়ে নেওয়া যায়। তাই আপনি যদি অফিসে কাজ করেন এবং একইরকম সমস্যার মুখোমুখি হন, তাহলে চুল ছোট রাখতে পারেন।

৫. ধুলোবালির হাত থেকে রেহাই মেলে
বড় চুল রাখলে রাস্তার ধুলোবালিতে চুল নষ্ট হয়ে যায়। চুলের মারাত্মক ক্ষতি হয়, চুল পড়তে শুরু করে এবং খুব তাড়াতাড়ি ড্রাই হয়ে যায়। তাই এইসব ঝামেলা থেকে মুক্তির একমাত্র পথ ছোট চুল। তাই চুল ভালো রাখতে হলে মাঝে মাঝে চুল কেটে ছোট করে নিন।

৬. রোগ মুক্ত থাকা
লম্বা চুলের যত্ন না নেওয়া হলে অনেক রোগ হতে পারে। বিশেষ করে মাথাব্যথা ও বিভিন্ন চর্ম রোগ হতে পারে। এ ছাড়া চুল শরীর থেকে অনেক পুষ্টি শোষণ করে। তার মানে এ নয় ছোট চুলে যত্ন নিতে হয় না। একটু কম লাগে আর কি!

[সংগৃহীত]

Sunday, March 29, 2020

ছোট ভাইয়ের দুষ্টামির ফল


রোশান ও রোশনি দুই ভাইবোন। রোশনি বড়, তার বয়স প্রায় ১৯ সে একটি গার্লস কলেজে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ছে। তার ভাই রোশানের বয়স ৭ সে একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে ২য় শ্রেণিতে পড়ছে। তাদের বাবা-মা দু'জনেই চাকরিজীবী তাই তাদের তেমন সময় দিতে পারেন না। যাই হোক লোকে বলে পিঠাপিঠি ভাইবোনদের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি ও মারামারি বেশি হয়। কিন্তু রোশান ও রোশনির বয়সে বিরাট ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও তাদের মধ্যেও প্রচুর ঝগড়াঝাটি, হাতাহাতি হয়। দুজন দুজনকে প্রায় সহ্যই করতে পারে না। অবশ্য এর পিছনে রোশানের দুষ্টুমির অবদানই বেশি। রোশান সবসময়ই সুযোগ খুঁজে তার বড় বোনকে বাবা-মায়ের হাতে মার খাওয়াতে। কিন্তু রোশনি তার বাবা-মায়ের একমাত্র মেয়ে হওয়ায় এবং রোশানের দুষ্টুমির মাত্রা সম্বন্ধে অবগত থাকায় তারা রোশনিকে সামান্য বকাঝকা ছাড়া অন্য শাস্তি দেন না। 

একদিন রোশান তার বোন যখন বাড়িতে ছিল না তখন তার রুমে ঢুকে তার ড্রেসিং রুমে মেকআপের সামগ্রী বের করে তার রুমের দেয়ালে আঁকিবুকি করে। তারপর রোশনি কয়েকদিন আগে একটি কমিক্স বই এনে তার রুমে রাখে। রোশানের তখন পরীক্ষা থাকায় তাকে তার বোন সেটা পড়তে দেয়নি। রোশান সেটা খুঁজতে গিয়ে রোশনির পুরো রুম অগোছালো করে ফেলে। বাইরে থেকে এসে রোশনি তার রুমে ঢুকে এই অবস্থা দেখে ভীষণ খেপে যায় তাই সে তার বাবা-মায়ের রুমে গিয়ে রোশানকে খাট থেকে টেনেহিঁচড়ে তার রুমে নিয়ে এসে তার রুম গুছিয়ে দিতে বলে। রোশান রাজি হয় না তাই রোশনি তার পিঠে দুমদাম কয়েকটা কিল বসিয়ে দিলো। রোশানও পাল্টা তার বোনকে আঁচড়ে ও কামড়ে দেয় এবং সন্ধ্যানাগাদ তাদের মা ফিরে আসলে বোনের নামে মায়ের কাছে নালিশ করে। তাদের মা তাদের দুজনকেই বকুনি দিয়ে রোশানকে রোশনির রুম গুছাতে বলেন। রোশান এতে মনঃক্ষুণ্ণ হয় এবং রোশনির রুমে গিয়ে জিনিসপত্র ছোঁড়াছুঁড়ি করে। রোশনি তাদের মাকে ডেকে দেখালে তাদের মা ধৈর্য হারিয়ে রোশানের গালে চড় দেন। রোশান কাঁদতে কাঁদতে তাদের রুমে যায়। আর রোশনি নিজেই তার রুম গোছানো শুরু করে। 

এর কিছুদিন পর তাদের বাবা অফিস থেকে ফেরার পথে কিছু চকলেট ও চাটনি এনে তা রোশনির হাতে দিয়ে বলেন দুই ভাইবোনে ভাগ করে খেতে। কিন্তু রোশান যেহেতু সেদিন রোশনির রুমে দুইবার গিয়ে সব তছনছ করেছিল তাই রোশানকে শাস্তি দিতে রোশনি ঠিক করে সে রোশানকে এসব চকলেট ও চাটনির ভাগ দেবে না। যাই হউক রোশান তার বাবার কাছে শুনে রোশনির কাছে তার নিজের চকলেট ও চাটনির ভাগ চায় কিন্তু রোশনি ততক্ষণে সব সাবাড় করে দিয়েছে। রোশান তার বাবার কাছে অভিযোগ দেয় কিন্তু তাদের বাবা তাকে এই বলে সান্ত্বনা দেয় যে তাকে পরে আলাদা করে চকলেট ও চাটনি কিনে এনে দিবেন। কিন্তু রোশান সন্তুষ্ট হয় না; সে রোশনির উপর বদলা নিতে চায়। সে একা তার পড়ার টেবিলে বসে আনমনে ড্রয়িং বুকে আঁকাআঁকি করতে করতে ভাবে কি করলে রোশনিকে উপযুক্ত শিক্ষা দেয়া হবে। অবশেষে তার ছোট মাথায় বুদ্ধি খেলে গেল। সে দেখেছে রোশনি তার চুলের পিছনে বেশ সময় ব্যয় করে। সে ঠিক করে সে রোশনির চুল কেটে দিবে। দুষ্ট হাসি হেসে সে তার মায়ের ড্রেসিং রুমের ড্রয়ার থেকে বড় একটা কাঁচি বের করে। তারপর সে কাঁচিটা তার ও তার বাবা-মায়ের শোবার ঘরে খাটের তলায় লুকিয়ে রাখল। দিনের বেলায় কোনভাবেই রোশনির চুল কাটা সম্ভব নয় তাই সে রাতে যখন সবাই ঘুমাবে তখন চুপিচুপি রোশনির চুল কেটে আসবে ঠিক করে। যেই ভাবা সেই কাজ, রাতে সবাই খেয়ে যার যার ঘরে ঘুমোতে গেল। রোশনি আধাঘণ্টা পড়ার টেবিলে বসে বাতি নিভিয়ে শুয়ে পড়ল। 


রোশনির ঘুম হয় খুব গভীর। আরো আধাঘণ্টা পর যখন রোশান নিশ্চিত হয় যে তার বাবা-মাও ঘুমে আচ্ছন্ন তখন সে তাদের মাঝখানে থেকে উঠে সন্তর্পনে খাট থেকে নেমে খাটের তলা থেকে কাঁচিটা বের করে আস্তে করে দরজা খুলে রোশনির রুমের সামনে যায়। রোশনির রুমের দরজা খোলাই ছিল। সে যখন ঢুকতে যায় তখন রোশনি হঠাৎ পাশ ফিরে শোয়ায় রোশান ভয় পেয়ে দরজার সামনে থেকে সরে আসে। পরে উঁকি দিয়ে গুটিগুটি পায়ে রোশনির খাটে এসে বসে পড়ে। রোশনির চুল পাতলা, স্ট্রেইট করা ও বেশ সিল্কি এবং পিঠের মধ্যভাগের খানিকটা ওপর পর্যন্ত দীর্ঘ। রোশান ৫ মিনিট অপেক্ষা করে রোশনি ঘুমিয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করে তারপর রোশনির কিছু চুল আলগা করে মুঠি করল তারপর তাতে কাঁচি চালালো। সে কয়েকবার এরকম করে তারপর নিজেদের ঘরে গিয়ে দরজা আটকে কাঁচিটা লুকিয়ে বাবা-মায়ের মাঝে শুয়ে ঘুমিয়ে পড়ল। 

সকালবেলা তার ঘুম ভাঙ্গে রোশনির চিৎকারে। ঘুম থেকে উঠেই রোশনি এসে তার বাবা-মায়ের দরজায় জোরে কড়া নাড়ে আর চিৎকার করে বলে রোশানকে আজ আমি মেরেই ফেলব। তাদের বাবা-মা লাফিয়ে ঘুম থেকে উঠে দরজা খুলে দেখে রোশনি তার হাতে একগাছি চুল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে; রোশনির মাথার চুল এলোমেলো করে কাটা। সে ঢুকেই রোশানের দিকে তেড়ে যেতে লাগল কিন্তু তাদের বাবা-মা তাকে নিরস্ত করল। প্রত্যেকেই বুঝতে পারে যে কাজটা রোশানই করেছে কারণ তার পায়ে রোশনির চুল লেপ্টে ছিল। রোশানও ততক্ষণে ঘুম থেকে উঠে গেছে কিন্তু তার আনন্দের জায়গায় ভয় লাগছে। অতঃপর তাদের বাবা-মা রোশনিকে শান্ত করে হাত-মুখ ধুয়ে নাস্তা সেরে তৈরি হতে বললেন। 

সকলে হাত-মুখ ধুয়ে নাস্তা খেলেন তারপর রোশনিদের মা তাদের ২ ভাইবোনকে নিয়ে গাড়িতে করে পরিচিত পার্লার অভিমুখে যাত্রা করলেন। পার্লারের মালকিন রোশনির চুলের অবস্থা দেখে সে সম্পর্কে জানতে চাইলে তাদের মা সব খুলে বলেন। মালকিন হেসে রোশানের গাল টেনে দিয়ে তাদের ৫ মিনিট বসতে বলেন। ৫ মিনিট পর একটা চেয়ার খালি হলে রোশনি সেখানে বসে। রোশনির মা বিউটিশিয়ানকে বয়কাট দিতে বলেন কিন্তু বয়কাট রোশনির মুখের গড়ন আর চুলের পুরুত্বের সঙ্গে মানানসই হবে না বলে বিউটিশিয়ান চিনলেংথ ববকাট দিলে ভালো হবে বলে জানান। অতঃপর রোশনির গলায় কেপ বেঁধে প্রথমে তার চুল শ্যাম্পু করা হয়। এরপর মাথা ধুয়ে তার অসমান চুল কেটে সমান করে দেন। তারপর কপালের সামনে কিছু ঝুলানো চুল (Bangs) রেখে কাটা শেষ করেন। তারপর তার মা ও বসেন চুল কিছুটা ট্রিম করাতে। সবশেষে বিউটিশিয়ানদের পারিশ্রমিক দিয়ে রোশনি-রোশান ও তাদের মা গাড়ি করে বাড়ি ফিরে আসেন। রোশান অবশেষে বুঝল তার শোধ নেওয়াটা খুব বেশি কার্যকরী হয় নাই।

Saturday, March 28, 2020

অপমানের প্রতিবাদ

মিঃ শরীফ একজন চাকরিজীবী। স্ত্রী ও এক মেয়ে নিয়ে তাদের একটি ছোট সুখী পরিবার। তার ১২ বছর বয়স্ক মেয়ে একটি গার্লস স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। আর তিনি একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে সহকারী ব্যবস্থাপক পদে কর্মরত আছেন। তার বাসা তার অফিসের নিকটে হওয়ায় প্রতিদিন দুপুরে লাঞ্চ ব্রেকে তিনি তার নিজের বাসায় দুপুরের খাবার খেতে আসেন। একদিন তিনি বাসায় খেতে আসলেন তবে কিছুটা রুক্ষ মেজাজ নিয়ে কারণ তার সহকর্মীদের সঙ্গে সেদিন তার বাকবিতণ্ডা হয়েছিল। সম্প্রতি তার অফিসে একজন সিনিয়র ব্যবস্থাপক অবসরে যাওয়ায় অফিসে ব্যবস্থাপকের একটি পদ খালি হয়। মিঃ শরীফসহ মোট ৮ জন সহকারী ব্যবস্থাপক সেই পদে পদোন্নতি পেতে প্রতিযোগিতা করছেন। প্রত্যেকেই চাইছেন তাকেই যেন পদোন্নয়ন করা হয়। সেদিন মিঃ শরীফের ডেস্ক থেকে একটি হিসাবের খাতা স্বাক্ষরিত হয়ে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কাছে দেবার কথা ছিল কিন্তু তা ঠিক সময়ে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার টেবিলে না পৌঁছানোয় হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা একজন ব্যবস্থাপকের কাছে মিঃ শরীফের নামে নালিশ করেন। এই সুযোগে অন্য সব সহকারী ব্যবস্থাপক একযোগে মিঃ শরীফকে চেপে ধরে। মিঃ শরীফ সবার সঙ্গে তর্কাতর্কি করে মেজাজ গরম করে বাসায় আসেন।

মিঃশরীফ বাসায় এসেই খাবারের জন্য চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে দেন। তার স্ত্রী জলদি করতে গিয়ে থালাবাসন ফেলে দেন। মিঃ শরীফ তৈজসপত্র পড়বার আওয়াজ শুনে আরো ক্ষিপ্ত হন। তিনি তার স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল দেন। তার স্ত্রী কোনো উত্তর না দিয়ে মিঃ শরীফকে খাবার বেড়ে দেন। মিঃ শরীফ তরকারি দিয়ে ভাত মেখে গোগ্রাসে গলাধঃকরণ করছেন হঠাৎ তার গলায় কি যেন পেঁচিয়ে গেল আর তিনি গিলে ফেলা ভাত উগড়ে দিলেন। মিঃ শরীফ উগড়ে ফেলা ভাত থেকে আঙ্গুল দিয়ে একটা লম্বা চুল বের করেন। তারপর তিনি তার স্ত্রীর দিকে পুনশ্চ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। মিঃ শরীফের সঙ্গে তার একমাত্র মেয়েটিও খেতে বসেছিল। মেয়েটি মাথা নিচু করে সব শুনছিল। এদিকে মিঃ শরীফের মুখে গালাগাল শুনে তার স্ত্রী ভীষণ দু্ঃখ পেয়ে কেঁদে ফেললেন। মিঃ শরীফ একপর্যায়ে খাবার টেবিল ছেড়ে উঠে যান ও তার স্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন “তোর ঐ চুল কাইটা ফেলাইস” এবং দরজা খুলে তা সজোরে টেনে বন্ধ করে বাসা থেকে বেরিয়ে যান। মিঃ শরীফের স্ত্রী মিঃ শরীফের উগড়ে দেয়া খাবার ও খাবারের থালা টেবিল থেকে সরিয়ে টেবিল পরিষ্কার করেন। তার চোখে তখনও পানি টলমল করছে। মিঃ শরীফের মেয়েও কোনমতে খাবার শেষ করে উঠে হাতমুখ ধুয়ে নিজের রুমে গিয়ে ভাতঘুম দেয়। বিকালে তার মা তাকে ডেকে তুলে বলে চল তো আমার সঙ্গে। মিঃ শরীফের মেয়ে বলে- কেন মা? মিঃ শরীফের স্ত্রী বলেন: বাইরে বের হব, তুইও চল আমার সঙ্গে। মিঃ শরীফের মেয়ে কথা না বাড়িয়ে অন্য সেট থ্রিপিস পরে নেয়। তারপর মিঃ শরীফের স্ত্রী বাসায় তালা দিয়ে দুজনে একসাথে বের হয়ে হাঁটতে আরম্ভ করেন। কিছুদূর যাওয়ার পর মিঃ শরীফের মেয়ে তার মাকে প্রশ্ন করল:-
: আমরা কোথায় যাচ্ছি মা?
: পার্লারে
: কেন মা?
: গেলেই বুঝতে পারবি।
মিঃ শরীফের মেয়ে চুপ করে তার মায়ের সাথে পায়ে পা মিলিয়ে হাঁটতে থাকেন। ২০ মিনিট পর তারা এলাকার নাম করা পার্লারের দরজায় হাজির হয়। দরজা ঠেলে ঢুঁ মারতেই ৩টি মহিলা কণ্ঠস্বর একসঙ্গে তাদের ভিতরে এসে বসতে বলল। ভিতরে ঢুকে মিঃ শরীফের স্ত্রী ও তার মেয়ে দেখল ৪টি চেয়ারের মধ্যে ১টি খালি পড়ে আছে আর বাকি ৩টিতেই কেউ না কেউ সার্ভিস নিচ্ছে। একজন ভ্রু প্লাক করাচ্ছে, একজন মেকআপ করাচ্ছে আরেকজন পেডিকিউর ও ম্যানিকিউর করাচ্ছে। অল্প কিছুক্ষণ পর ভ্রু প্লাক করাতে আসা মেয়েটি উঠে গেলেই মিঃ শরীফের স্ত্রী তার মেয়েকে বেঞ্চিতে বসতে বলে নিজে সেই খালি চেয়ারে গিয়ে বসলেন। 



বিউটিশিয়ান ভ্রু প্লাক করা মেয়েটির থেকে পেমেন্ট বুঝে নিয়ে মিঃ শরীফের স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করল কি করাবেন ভাবী? মিঃ শরীফের স্ত্রী জবাব দিলেন চুল ছোট করাবো। বিউটিশিয়ান জানতে চাইলো কতটুকু ছোট করাবেন? মিসেস শরীফ বললেন- একদম ছোট। ঐ ছেলেদের মত কি স্টাইল বলে যেন সেটাকে?
 বিউটিশিয়ান : পিক্সিকাট।
মিসেস  শরীফ: হ্যাঁ সেটাই
বিউটিশিয়ান : আপনি কি শিওর। আপনার চুল তো দেখছি বেশ হৃষ্টপুষ্ট। স্কাল্পে কোনো খুশকি বা চর্মরোগও দেখছি না। তবুও কেটে ফেলতে চান এতটা চুল?
মিসেস শরীফ : (গম্ভীর গলায়) হ্যাঁ।
বিউটিশিয়ান অগত্যা চুল কাটা শুরু করলো। গলায় কাপড় বাঁধল। মিসেস শরীফ দেখলেন কাপড়ে অল্পস্বল্প চুল দেখা যাচ্ছে যেগুলো প্রায় ২/২.৫ ইঞ্চি। বিউটিশিয়ান মিসেস শরীফের চুল ভালো করে আঁচড়ে নিয়ে মাথার দুপাশে দুটো ঢিলেঢালা পনিটেল বাঁধলেন। তারপর এক এক করে দুটো পনিটেল কেটে সেগুলো দোকানের কোণে একটা ঝুড়িতে ফেললেন। এরপর মিসেস শরীফের মাথার চুল পানির ছিটা দিয়ে ভিজিয়ে সামনে খানিকটা ঝুলপি রেখে মিডিয়াম বয়কাট দিলেন। ২০ মিনিটের মধ্যে চুল কাটা শেষ। মিসেস শরীফকে দেখলে এখন অল্পবয়সী কিশোর মনে হচ্ছে। মিসেস শরীফ তবুও বলেন আরেকটু ছোট করা যেত না? বিউটিশিয়ান বলেন আপনার চেহারার সঙ্গে বেমানান হবে। এবার মিসেস শরীফ দাম দিয়ে বেরিয়ে যাবেন এমন সময় মেয়ে বলে ওঠে মা আমিও চুল কাটাবো। মিসেস শরীফ না বলতে চাইলেন কিন্তু বললেন না। তিনি মাথা নেড়ে হ্যাঁ বললেন। মিসেস শরীফের মেয়েও চুল কাটাতে বসল। একই ভঙ্গিতে তার চুলের কুচিতেও কাপড় ভর্তি হলো। এভাবে চুল কাটানো শেষে মা-মেয়ে বাড়ি‌ ফিরল। রাতে মিঃ শরীফ যখন বাসার দরজায় টোকা দেবার পর মিসেস শরীফ দরজা খুলে মিঃ শরীফ তাজ্জব হয়ে গেলেন। তিনি প্রথমে ভাবলেন তিনি ভুল বাসায় ঢুকে পড়লেন কিনা কিন্তু কিছুক্ষণ মিসেস শরীফের দিকে তাকিয়ে তিনি বুঝলেন তিনি নিজের বাসাতেই ঢুকেছেন। মিঃ শরীফ এরপর ফ্রেশ হয়ে খেতে বসে মিসেস শরীফকে জিজ্ঞেস করেন “তুমি চুল কাটালে কেন?” মিসেস শরীফ বলেন, “তুমি বলেছিলে বলেই কাটিয়ে ফেললাম”। মিঃ শরীফ তার মেয়েকে আর জিজ্ঞাসা করতে সাহস করলেন না। মিঃ শরীফ এরপর খাবারে আর চুল পান না আর পেলেও বুঝতে পারেন না এটা আসলে কার চুল?

Thursday, March 26, 2020

সেলুনে গিয়ে মায়ের চুল কাটানো (শেষ পর্ব)

মুহিত দেখল তার বহুদিনের লালিত আকাঙ্ক্ষা পূরণ হতে গিয়েও হচ্ছে না। সে তড়িঘড়ি বলল চল মা আমার এক পরিচিত সেলুন আছে ওখান থেকে চুল কাটিয়ে নিয়ো।
মিসেস নওশিন : ধুর ওরা কি মেয়েদের চুল কাটতে পারবে নাকি? বাদ দে। ফিরে চল। মুহিত নাছোড়বান্দা; সে বলল ধ্যাৎ মা কি যে বল না। চুল কাটা নিয়ে কথা। যে কাটতে জানে সে সবারটাই কাটতে পারে। তুমি চল তো এই বলে মুহিত তার মায়ের হাত ধরে টেনে নিয়ে চলল। হরতালের দরুণ রাস্তায় যানবাহন তেমন ছিল না তবুও সৌভাগ্যক্রমে তারা একটা রিক্সা পেয়ে তাতে চড়ে বসল এবং ১০ মিনিটের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছলো। মিসেস নওশিন ভাড়া চুকিয়ে মুহিতের পিছু পিছু রোড ক্রস করে ওপারে অর্ধেক শাটার নামানো দোকানের বারান্দায় পা রাখলেন।

মুহিত শাটারে দু-তিনবার টোকা দিতেই একজন খোঁচা খোঁচা দাড়িগোঁফওয়ালা পঞ্চাশোর্ধ্ব এক ভদ্রলোক শাটার তুলে হাসিমুখে বললেন এসো মুহিত বাবা ভেতরে এসো। মুহিত তার মা'র দিকে তাকিয়ে ইশারা করে ভেতরে আসতে বলল। মুহিত ঐ লোকটিকে জিজ্ঞেস করল দোকান কি আজ বন্ধ চাচা? চাচা উত্তর দেন- না বাবা দোকান তো খোলাই তবে সকাল থেকে কাস্টমার নাই আর কর্মচারীরাও হরতাল মাথায় করে আসে নাই। তো বাবা বলো কি সার্ভিস নেবা? মুহিত বলে আমি না চাচা আমার মা। চাচা খেয়াল করলেন মুহিতের পিছনে একজন মহিলা দাঁড়ানো। চাচা বলেন বসেন আপা বসেন। আজকে কি দুর্দিনে আপনি আসলেন। মুহিত তো দোকানে আসলেই আপনার কথা বলে। আজকে দেখা হইলো অথচ মেহমানদারি করতে পারতেছি না। মিসেস নওশিন হেসে উত্তর দেন ব্যাপার না। চাচা মুহিতকে জিজ্ঞেস করেন কি করাবেন তোমার মা? মুহিত বলল মাথার চুল ছাঁটাতে এসেছেন। চাচা মিসেস নওশিনকে চেয়ারে বসতে বললেন। মিসেস নওশিন মুহিতের কাছে হ্যান্ডব্যাগ দিয়ে চেয়ারে বসলেন। মুহিত তার মায়ের পিছনে আড়াআড়ি একটা চেয়ারে বসল যাতে চুল কাটা দেখবার সময় নাপিতের আড়াল না পড়ে। 

আর চাচা একটা পরিষ্কার গোলাপী রঙের কাপড় বের করে মিসেস নওশিনের গলায় বাঁধলেন। তারপর কানের কাছে মুখ নিয়ে বললেন কতটুকু কাটব চুল? মিসেস নওশিন প্রথমে অস্ফুট স্বরে বললেন কাঁধ পর্যন্ত পরে মুখ তুলে আয়নার দিকে তাকিয়ে মুহিতকে জিজ্ঞেস করলেন কতটুকু কাটলে ঠিক হবে রে মুহিত? মুহিত বলল তুমি কতটুকু কাটাবে বললে? মিসেস নওশিন বলেন- কাঁধ পর্যন্ত কাটলেই তো চলবে, তোর কি মত? মুহিত বলল- উঁহু কাঁধ পর্যন্ত কাটলে একমাস না পেরোতেই আবার ট্রিম করার দরকার পড়বে। মুহিত চাচার দিকে তাকিয়ে বলল ঘাড় পর্যন্ত কাটেন চাচা, মিডিয়াম বয়কাট দেন, ইলেক্ট্রিক ট্রিমার আর ক্ষুর ব্যবহার করবেন না। 

চাচা : মাথার চারপাশের চুল ১.৫ ইঞ্চি আর মাথার তালুতে ২ ইঞ্চি আর কপালের সামনে ২.৫ ইঞ্চি লম্বা রেখে কাটলাম তবে। মিসেস নওশিন মাথা নেড়ে সায় দিলেন। তারপর চাচা বাটি থেকে পানি নিয়ে মাথায় ছেটাতে লাগলেন আর মাথা ম্যাসেজ করতে লাগলেন। মাথার চুল ভালো মত ভিজে গেলে কোঁকড়া চুল আঁচড়ে সোজা করলেন। এরপর চুল একটু আলগা মুঠি করে ধরে রবার ব্যান্ড দিয়ে ঘাড়ের পিছনে হাল্কা ঢিলা দিয়ে পনিটেল বাঁধলেন। এরপর রবার ব্যান্ডের ঠিক উপরে কাঁচি দিয়ে পনিটেল কাটলেন। পনিটেল কাটা হলে সেটা নিয়ে মিসেস নওশিনের কোলে দিলেন। মিসেস নওশিন তার বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া চুল হাত দিয়ে ধরে দেখলেন। তারপর ঘাড় ধরে নুইয়ে দিয়ে মাথার পিছনের চুল কাটতে লাগলেন। ৫ মিনিটের মধ্যে মাথার পিছনের চুল কাটা শেষ করলেন। তারপর ডানে-বাঁয়ে কাত করে মাথার দুপাশের চুল কাটলেন। সবশেষে মাথার তালু ও সামনে কপালের ওপরের চুল কাটলেন। তারপর ভালো করে একনজর দেখে নিয়ে বললেন উঠেন আপা চুল কাটা‌ ফিনিশ। মিসেস নওশিন আয়নার দিকে তাকিয়ে একবার দেখলেন। ১ ঘণ্টা আগের নিজের চেহারার সঙ্গে আয়নায় দৃশ্যমান চেহারার মিল খুঁজে পেলেন না। কেপ খোলার পর মিসেস নওশিন উঠে দাঁড়িয়ে শরীর থেকে গুড়ো চুল ঝাড়লেন। তারপর মুহিতকে ডেকে হ্যান্ডব্যাগে হাত ঢুকিয়ে বললেন কত দেবো? চাচা বললেন আরে রাখেন মুহিত বাবা আমার ছেলের মত। আজকে এই অবেলায় আপনি আমার এখানে আসলেন। একটু মেহমানদারিও করতে পারলাম না। টাকা লাগবে না আপনি বাড়িতে যান। মিসেস নওশিন আর মুহিত তবুও জোর করতে লাগলেন। শেষে মাত্র ৫০ টাকা নিতে রাজি হলেন চাচা। আর বললেন সময় পেলে আমার বাড়িতে আসবেন আপা। মিসেস নওশিন ও মুহিত সেলুন থেকে বেরিয়ে রিক্সা না দেখে হেঁটেই বাড়ি ফিরল। পরদিন মিসেস নওশিন কলেজে গেলে সবাই তার নতুন হেয়ারস্টাইল দেখে আশ্চর্য হলো। তার কলিগেরা বলল আপনার বয়স যেন ১০ বছর কমে গেছে। মিসেস নওশিন সবার এই প্রশংসা উপভোগ করলেন। তিনি ঠিক করলেন এখন থেকে তিনি আর চুল বাড়াবেন না। মিসেস নওশিন এখন ৩ মাস অন্তর তার চুল কাঁধ ছুঁই ছুঁই করলেই চুল কাটিয়ে ফেলেন।

সেলুনে গিয়ে মায়ের চুল কাটানো (১ম পর্ব)

৪৪ বছর বয়সী মিসেস নওশিন একটি সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপিকা। তার ১ ছেলে ও ১ মেয়ে। বড় ছেলে মুহিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় বর্ষের ছাত্র আর ছোট মেয়ে সায়রা ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজে ৮ম শ্রেণির ছাত্রী, বোর্ডিংয়ে থেকে পড়াশোনা করে। তার স্বামী জাহাজের ক্যাপ্টেন তাই তিনি ৬ মাস পর পর বাড়ি আসেন। এই বয়সেও তিনি বেশ সুশ্রী ও কমনীয় দেহের অধিকারী। তার মাথা ভর্তি পুষ্ট কোঁকড়ানো চুল যা প্রায় পিঠের মধ্যভাগ অতিক্রম করেছে।

এবার আসি অন্য প্রসঙ্গে; তার ছেলে মুহিতের একটি অদ্ভুত বাসনা আছে। তা হলো তার মাকে ছোট চুলে দেখা। সে জানে না তার এই ইচ্ছা আদৌ পূরণ হবে কিনা। তবুও সে মনে মনে প্রার্থনা করে যেন তার মনোবাসনা পূর্ণ হয়। অবশেষে একদিন তার স্বপ্ন সত্যি হয়। সে গল্পই লিখছি আজ।

গ্রীষ্মকাল চলছে। মুহিতের ক্লাস শুরু হয় প্রত্যহ সকালে আর দুপুরের মধ্যেই তা শেষ হয়ে যায়। সেদিন ছিল বৃহস্পতিবার তাই মিসেস নওশিনের কলেজও অর্ধদিবস ক্লাস হয়ে ছুটি হয়ে যায়। বাসায় এসে গোসল সেরে মুহিতকে ডেকে খাবার দিয়ে নিজেও খেতে বসলেন। খেতে খেতে বললেন যা গরম পড়ছে এই কয় সপ্তাহ ধরে। উফ আর সহ্য করা যায় না।
মুহিত : হ্যাঁ মা ভীষণ গরম; মাঝেমধ্যে ক্লাসের সময় কারেন্ট চলে গেলে পুরো গোসল হয়ে যায়। মুহিতের মা বলে যান- হ্যাঁ রে গরমে ঘেমে চুল ভিজে যায় আর শুকালে পুরো আঠা আঠা। তার উপর বৃষ্টি হয় না কতদিন। রাস্তার সব ধুলাবালিছাই ঝাড়ুদারের ঝাঁটা আর গাড়ি ঘোড়ার চাকার সঙ্গে ঘুরে ঘুরে উপরে উঠে মাথা আর মুখ ভরিয়ে দেয়।
মুহিত খাবার খেতে খেতে বলল হ্যাঁ তোমার কলেজের রাস্তায় তো আবার কাজ হচ্ছে দেখেছি। ওদিকে ধুলাবালি আরো বেশি।
মিসেস নওশিন : আর বলিস না এই ধুলাবালির জন্য মাথায় খুশকি হয়ে গেছে। মাথায় ঘাম হলে তৎক্ষণাৎ মাথা ধুতে পারি না। কে জানে এর পর কোনো চর্মরোগ হয় কিনা চুলের মধ্যে।
মুহিত : তবে চুলে শ্যাম্পু করো না কেন মা?
মিসেস নওশিন : আরে এমনিতেই তো আমি সপ্তাহে তিনদিন শ্যাম্পু করি। সপ্তাহে ছয়দিন শ্যাম্পু করাটা আরো ঝামেলার। তারপর চুলের গোড়া পর্যন্ত শ্যাম্পু করতেও তো সময় লাগে। না চুলগাছির মায়া এবার ছেড়ে দিলেই ভালো। এই গরমে লম্বা চুল রাখা ব্যাপক ঝামেলার।
এ কথা শুনে মুহিতের চোখ চকচক করে ওঠে। তার মনে দীর্ঘদিনের লালিত ইচ্ছা পূরণ হবার সম্ভাবনায় তার মন উদ্বেলিত হয়। মুহিত বলে তুমি সত্যিই চুল কাটানোর কথা ভাবছ মা!
মিসেস নওশিন : হ্যাঁ কি আর হবে লম্বা চুল রেখে। অনেক দিন তো রাখলাম চুল। এবার বরং ছোট করেই দেখি। তুই কি বলিস মুহিত?
মুহিত মনের চাপা উল্লাস চেপে রেখেই বলল- হ্যাঁ মা কাটিয়ে ফেলো। এই গরমে এত লম্বা চুল কি সামলানো যায়। চারদিকে দেখছি অনেক মহিলাই গরমের জন্য চুল ছাঁটাচ্ছে। আমার কিছু ক্লাসমেট মেয়েও চুল ছাঁটিয়েছে দেখলাম।
মিসেস নওশিন : পরশু শনিবার তোরও ভার্সিটি ছুটি। তাহলে চল শপিং মলে গিয়ে হালকা কিছু শপিং করব। তারপর আমার দুইটা পরিচিত পার্লার আছে ওখান থেকে যেকোন একটায় চুল কাটিয়ে নেব।
মুহিত : আচ্ছা। 


সেদিন মুহিত রাতে ঘুমাতে পারল না। পরদিন শুক্রবার মুহিতের সময় যেন কাটতেই চায় না। জুম্মার নামাজ পড়ে বাড়িতে এসে খেয়েদেয়ে কিছুক্ষণ বিছানায় গড়াগড়ি করল। বিকালবেলা পার্কে গিয়ে হাঁটাহাঁটি করে সন্ধ্যায় হালকা নাস্তা করে পড়ার টেবিলে বসল। কিন্তু পড়ায় আর মন বসে না। রাতের খাবার খেয়ে সে নিজের ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়ল। ঘুম তো আসতেই চায় না। অবশেষে ঘুম এলো সাথে তার প্রিয় স্বপ্নও। স্বপ্নে দেখল তার মায়ের চুলের গোছা মেঝেতে গড়াগড়ি খাচ্ছে। আয়নার দিকে তাকিয়ে দেখে তার মায়ের গলায় জড়ানো সাদা কেপের সর্বত্র চুলের কণা, কোলে আরো কিছু চুল। স্বপ্নটা শেষ হবার আগেই তার ঘুম ভাঙল মায়ের ডাকে। বালিশের পাশ থেকে মোবাইল নিয়ে সে দেখল সকাল ৯টা বেজে গেছে। ইস দেরি করে ফেলেছি মনে মনে বলল মুহিত। টুথব্রাশে পেস্ট লাগিয়ে সে ওয়াশরুমে ছুট দেয়। মাঝখানে ডাইনিং রুমে দেখে তার মা নাস্তা সাজিয়ে বসে আছে। সে তাড়াতাড়ি ব্রাশ করে চোখমুখ ধুয়ে নাস্তা সাবাড় করল। তারপর ঝটপট আলমারি থেকে একটা টি-শার্ট আর একটা প্যান্ট পরে তৈরি হয়ে নিলো। মিসেস নওশিন ইতিমধ্যেই তৈরি হয়ে আছেন। তারপর দুজনে বেরোলেন শপিং মলের উদ্দেশ্যে। গিয়ে দেখেন এ মা! শপিং মল বন্ধ। প্রধান দরজায় নোটিশ ঝুলছে "আগামী ২ দিন শপিং মল খুলবে না।” নিচতলায় কিছু দোকান খোলা আছে। মুহিতের মনে পড়ল আজ বিরোধী রাজনৈতিক দল হরতাল ৪৮ ঘণ্টার হরতাল ডেকেছে। মুহিতের মা বললেন : শপিংই আজ হবে না, শপিং মলের পার্লারে চুল কাটানো তো দূর। চলত মুহিত দেখি পার্কের অপোজিটের পার্লার খোলা আছে কিনা। ৭/৮ মিনিট হেঁটে সেখানে গিয়ে দেখল ঐ পার্লারও তালাবদ্ধ। মুহিতের মা নিরাশ হয়ে বিড়বিড় করে বললেন : যা বাবা চুলটাও কাটানো যাবে না আর এই সপ্তাহে। কি আর করা। চল মুহিত বাড়ি ফিরে যাই।
(চলবে...)

Wednesday, March 25, 2020

দাদের জন্য মাথা–মুড়োনো

বর্ণিতা একাদশ শ্রেণিতে পড়াশুনা করত। তার কোমর পর্যন্ত দীর্ঘ চুল ছিল। তার মা-বাবা গ্রামে নিজ বাড়িতে বসবাস করত আর সেখানে ভালো স্কুল ছিল না তাই ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই বর্ণিতা শহরে তার মেসো-মাসির বাসায় থাকত।

বর্ণিতার চুল বেশ ঘন ছিল তবে বর্ণিতা ঠিকঠাক মত চুলের যত্ন নিতে পারত না। তার মাসিও দিনভর নিজের আপিসের ও গেরস্থালীর কাজে ব‍্যস্ত থাকায় তার পিছনে খুব একটা সময় দিতে পারত না। অপরিষ্কার থাকায়, গোসল করে চুল ঠিকঠাক না শুকানোয় ও ভিজা তোয়ালে মাথায় জড়িয়ে রাখায় বর্ণিতা একসময় ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়ল। সেরে উঠলেও তার মাথায় শেষ পর্যন্ত দাদ হয়। দাদের কারণে তার মাথার চুল পড়তে শুরু করে। বর্ণিতার মাসি তাকে নিয়ে একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে যান। ডাক্তার ব্যবস্থাপত্রে লিখেন যে এ থেকে মুক্তি পেতে প্রথমে মাথা ন্যাড়া করে সেলিসাইলিক এসিড ঘটিত মলম দিনে ২ বার লাগাতে হবে, যত দিন চুল গজিয়ে বড় না হয় এবং কিছু ট্যাবলেট খাওয়ার জন্য দিয়েছিলেন।

যেহেতু মাথার ত্বকে মলম লাগাতে হলে বর্ণিতার মাথা ন্যাড়া করতে হবে তার মাসি তাকে এজন্য কয়েক বার তাকে পার্লারে চুল কামাতে যেতে বলেছিলেন। তবে সে কখনই এই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি কারণ সে প্রতিবেশী ও সহপাঠীদের ঠাট্টা-মস্করা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল। তার মাসি হাল না ছেড়ে প্রতিদিন তাকে মাথা ন্যাড়া করতে বলতেন। দিনকে দিন তার চুলগুলি আরো বেশি পরিমাণে ঝরে পড়তে শুরু করে। এভাবে কয়েক সপ্তাহ পর শরৎকালে পুজোর ছুটিতে সে বাসায় ছিল। সকাল ১০টা আন্দাজ তার মাসির ফ্ল্যাটের কলিং বেলটি বেজে উঠল। তার মাসি দরজাটি খুলতেই একজন শ্যামবর্ণের মাঝারি উচ্চতার বছর তিরিশের এক ব্যক্তি একটি ছোট ব্যাগ কাঁধে প্রবেশ করলেন। তার মাসি লোকটিকে ফ্ল্যাটের পিছন দিকে ঝুলবারান্দার দিকে যেতে নির্দেশ দিলেন। বর্ণিতার মাসি তাকে এককাপ চা এবং কিছু নাশতা দিতে বললেন এবং সে ঐ আগন্তুকের হাতে তা দিয়ে ভিতরে আসে। বর্ণিতা গোলাপী চুড়িদার পড়া ছিল; তার মাসি তাকে কোন পুরানো পোশাক পরে আসতে বললেন এবং সে জিজ্ঞাসা করল কেন তিনি তাকে এই নির্দেশ করলেন। মাসি নিরুত্তর থাকলেন। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে উত্তর না পেয়ে বর্ণিতা তার মাসির কথামত একটা পুরাতন জামা পরে আসে।


ঠিক সেই মুহূর্তে সে সেই আগন্তুককে দেখল যে মাথা মুড়ানোর জন্য তার সরঞ্জাম প্রস্তুত করছিল। এ দেখে সে আঁতকে উঠল। এই সম্পর্কে সে তার মাসিকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, তোমার মাথা দাদে ভরে গেছে; এখনই এর প্রতিকার করতে হবে; দাদ ছোঁয়াচে রোগ কে জানে কখন আমার শরীরেও সংক্রমণ হয়। তাই এই রোগ যাতে আর না ছড়ায় ও তোমার মাথার চুল যাতে আর না ঝরে সেজন্য তোমাকে ন্যাড়া হতে হবে। বর্ণিতা এ কথা শুনে কান্নাকাটি শুরু করে এবং এটি না করার জন্য তার মাসির কাছে মিনতি করে তবে তিনি ইতিমধ্যে ঠিক করে ফেলেছেন। বর্ণিতা কাঁদছিল কিন্তু তিনি তার হাতটি ধরে নাপিতের সামনের টুলে বসিয়ে দিলেন ও তাকে তার কাজ করতে বলে কাঁচাবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হলেন। নাপিত লোকটি বারবার তাকে তার চুলের কবরী খুলতে বলেন কিন্তু বর্ণিতা তাকে অনুরোধ করল যাতে তার চুলের সঙ্গে কিছু না করা হয়। তিনি বলেন- দিদি আমার কিছুই করার নেই; আমাকে যা করতে বলে গেছে আমি তাই করতে বাধ্য। নাপিত বর্ণিতার চুলের বিনুনি খুলতে লাগল কিন্তু সে কাঁদতেই থাকল। এরপর নাপিত পানিভর্তি মগ থেকে হাতের তালুতে পানি নিয়ে তার চুল ভেজাতে আরম্ভ করল। বর্ণিতার কপাল বেয়ে ফোঁটা ফোঁটা পানি মেঝেতে পড়তে শুরু করে তখন নাপিত লোকটি তার চুল পাট করে চুলের গোড়া পর্যন্ত ভেজাতে আরও কিছু পানি ছেটায়। এরপর তিনি তার সঙ্গে আনা ক্ষুরে একটি অর্ধেক ব্লেড ঢুকালেন। এবার তিনি বর্ণিতাকে তার মাথা নোয়াতে বললেন তবে বর্ণিতা তা না করে কেঁদেই চলছে তাই তিনি বর্ণিতার মাথাটি জোর করে নোয়ালেন এবং তার চিবুক তার বুক স্পর্শ করল। তখন তিনি বর্ণিতার মাঝের মাথায় ক্ষুর রেখে ঘাড়ের দিকে টানা শুরু করলেন আর বিপুল পরিমাণ চুল তার পিঠে গড়িয়ে পড়তে লাগল। ৫ মিনিটের মধ্যে তার মাথার পেছনটা সম্পূর্ণ চুলশূণ্য হয়ে গেল এবং তিনি বর্ণিতার মাথার সামনের অংশটি কামাতে শুরু করে আর তার চুল বৃষ্টির মতো তার কোলে পড়তে শুরু করে। অতঃপর তিনি বর্ণিতার মাথা ডানদিকে কাত করে তার মাথার বাম পাশ ২ মিনিটের মধ্যে কামিয়ে আবার মাথা বামদিকে কাত করে ডান পাশ কামিয়ে দেন। বর্ণিতার মাথা তখন পুরোপুরি টাক কেবল কিছু খোঁচা খোঁচা চুল ছাড়া। সবশেষে নাপিত তার মাথায় মিনিপ্যাক শ্যাম্পু প্রয়োগ করলেন এবং তার মাথার বিপরীত দিক থেকে ক্ষুর টানলেন যাতে তার মাথার ত্বক এক্সট্রা মসৃণ হয়।

এরই মধ্যে বর্ণিতার মাসি বাজার থেকে ফিরে এসে বর্ণিতার দিকে হাসিমুখে তাকালেন। বর্ণিতা মাথা উঠিয়ে তার দিকে একবার তাকিয়ে আবার মাথা নিচু করে কাঁদতে লাগল। তারপর বর্ণিতার মাসি নাপিতকে তার পারিশ্রমিক দিলেন এবং টানা ৪ মাস প্রতি সপ্তাহ অন্তর এসে বর্ণিতার মাথা মুড়িয়ে যেতে বললেন। এরপর চার মাস ধরে বর্ণিতার মাথায় চুলের অস্তিত্ব ছিল না বললেই চলে। ৪ মাস পুরোপুরি টাক থাকার পর অবশেষে বর্ণিতার মাথার দাদ দূর হলো। আর বর্ণিতাও কিছু স্বস্তি পেল। তারপর বর্ণিতা দ্বাদশ শ্রেণিতে যখন প্রমোশন পেল তখন তার চুল কাঁধ ছুঁয়েছে।

Friday, March 20, 2020

স্কুল হোস্টেলে উকুনের উপদ্রবে চুল ছাঁটানো

নূরবিলা বালিকা বিদ্যালয় নূরবিলা থানার স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে মাধ্যমিক শাখার ছাত্রীদের জন্য একটি আবাসিক হোস্টেল চালু করেছে। সেঁজুতি সেই স্কুলেরই নবম শ্রেণির ছাত্রী। সেঁজুতির মাথার চুল কোঁকড়ানো, বেশ ঘন আর পিঠের প্রায় শেষ অব্দি দীর্ঘ অবশ্য ভিজা অবস্থায় তা কোমর পর্যন্ত যায়। সেঁজুতি এতদিন বাড়িতে থেকে স্কুলে যাওয়া আসা করত। কিন্তু সম্প্রতি তার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ দুই বান্ধবী রিদিমা ও শর্মি হোস্টেলে উঠবার প্ল্যান করছে তাই সেও তার বাবা-মায়ের কাছে বায়না করল সেও হোস্টেলে থেকেই পড়াশোনা করবে। তার মা প্রথমত রাজি না হলেও পরে তার গোঁ এর কাছে হার মানলেন। সেঁজুতিকে কখনোই তার নিজের চুলের পরিচর্যা করতে হয়নি; তার মা-ই তার চুলের যত্ন নিত। সেঁজুতি তার নিজের চুল খুব ভালোবাসত। সেঁজুতির মা অবশ্য চাইতেন না সেঁজুতি এই ছোট বয়সেই দীর্ঘ চুল রাখুক তাই তিনি প্রায়ই সেঁজুতিকে তার চুলে মিডিয়াম বব কাট দিতে বলতেন। কিন্তু সেঁজুতি রাজি হতো না তাই তার মা তাকে চুলের আগা হাল্কা কেটে নিতে পার্লার নিয়ে যেতেন।

বাবা-মাকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে সেঁজুতি সদ্যনির্মিত হোস্টেলে উঠল। হোস্টেলের কেবল নিচতলা কম্প্লিট হয়েছে। নবম শ্রেণি মাধ্যমিকের সবচেয়ে জুনিয়র তাই তাদের আগে রুম বরাদ্দ দেয়া হলো। আর সেঁজুতিও তার ৩ বান্ধবী সহ একটি জুৎসই কক্ষ হোস্টেল সুপার ম্যাডামের অনুমতি নিয়ে দখল করে নিলো। এভাবে হোস্টেলে এক মাস গত হলো এর মধ্যে প্রথম সাময়িক পরীক্ষা শেষ হয় এবং গ্রীষ্মকালীন ছুটি শুরু হয়। এসময় সেঁজুতির বান্ধবী শর্মি গরমের ছুটিতে তার মাসির বাসায় বেড়াতে যায়। শর্মির মাসি তার চুলের যত্নে গাফিলতি করত ফলস্বরূপ তার মাথায় উকুন বাসা বাঁধে। শর্মি তার সঙ্গে কিছুদিন বেড শেয়ার করায় শর্মির মাথায়ও উকুনের উপদ্রব আরম্ভ হয়। শর্মি তখনও তা আমলে নেয়নি। এদিকে গরমের ছুটি শেষে সবাই হোস্টেলে ফিরে আসে। শর্মিও ফিরে আসে কিন্তু মাথাভর্তি উকুন ও উকুনের ডিম নিয়ে। ক্লাসে সেঁজুতি, শর্মি ও রিদিমা একসঙ্গে এক বেঞ্চে বসত; ডাইনিংয়ে একসঙ্গে খেতো, এছাড়াও তারা একে অপরের বিছানায়ও মাঝেমধ্যে শুতো। ফলে যখ হবার তাই হলো শর্মির মাথার উকুন তার সকল রুমমেটের মাথায় পৌঁছে গেল। সেঁজুতিসহ সবাই মাথা চুলকে চুলকে অস্থির। তেল দিলে খানিকটা আরাম পায় কিন্তু তেল না দিলেই উশখুশ, অশান্তি। প্রতিদিন বিকেলে উপরনিচ করে বসে বসে উকুন বাছা তাদের নিত্যক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে‌‌। ক্লাসেও তারা উকুনের কামড়ে পড়ায় মনোযোগ দিতে পারছে না। এদিকে সহপাঠীদের সাথে দুষ্টুমির ছলে তারা নিজের মাথা থেকে উকুন নিয়ে ক্লাসের অন্যান্য ছাত্রীদের মাথায়ও দুয়েকটা উকুন ছেড়ে দিয়েছে। ব্যস আর যায় কোথায়! সারা হলের মেয়েদের মাথায় উকুনের ছড়াছড়ি। মেয়েরা আগে বিকাল হলেই ব্যাডমিন্টন, ভলিবল খেলতে স্কুলের মাঠে নামত। নতুবা কমনরুমে গিয়ে পত্রিকা, ম্যাগাজিন পড়ত কিংবা দাবা, লুডু বা ক্যারম খেলত। এখন তার বদলে বিকালে তারা হোস্টেলের সিঁড়িতে বসে উকুন বাছতে। হোস্টেল সুপার ম্যাডাম এবং সহকারী আবাসিক শিক্ষিকারা তা লক্ষ্য করলেন। এছাড়াও উকুনের কারণে ছাত্রীরা মাথা পরিষ্কার করতে প্রচুর পরিমাণে জল ব্যয় করছে। 


তাই হোস্টেল সুপার ও সব শিক্ষয়িত্রীরা হেডমিস্ট্রেসের কথায় মিটিংয়ে বসলেন। কেউ কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারছে না। কেউ বললেন হোস্টেলের মেয়েদের উকুন বিনাশী শ্যাম্পু সরবরাহ করা হোক তো কেউ বললেন নিমপাতা সরবরাহ করে তা বেটে স্নান করতে বলা হোক। এক শিক্ষিকা রাগের ভরে বলেই ফেললেন স্কুলে নাপিত ডেকে এনে ছাত্রীদের মাথার চুল কামিয়ে দেওয়া হোক। শেষমেশ স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা প্রস্তাব করলেন মেয়েদের চুল না কামিয়ে ছোট করে ছাঁট দেওয়া যেতে পারে। এতে উপস্থিত সবাই সম্মতি দিলেন।

অতঃপর সেদিন রাতে রাতের খাবার শেষ করে হোস্টেলে থাকা সকল ছাত্রীদের হোস্টেলের অতিথি কক্ষে হাজির থাকতে নির্দেশ দিলেন হোস্টেল সুপারিনটেনডেন্ট। তাই সেঁজুতিসহ সব মেয়েরা আগেভাগেই ভোজনপর্ব চুকিয়ে অতিথি কক্ষে প্রবেশ করল। তারপর সেখানে হোস্টেল সুপারিনটেনডেন্ট ও আবাসিক শিক্ষিকারা এলেন। তারা সব মেয়েদের উদ্দেশ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার গুরুত্ব, ধর্মীয় তাৎপর্য ও না থাকার অপকারিতা নিয়ে ছোটখাটো বক্তব্য দেন। তারপর তাদের এই উকুনের সমস্যা নিয়ে কিছুক্ষণ ভর্ৎসনা করলেন। সব শেষে হোস্টেল সুপার বললেন কালকে ক্লাস বন্ধ থাকবে এবং কাল সকালে হোস্টেলে ২ জন নাপিত আসবে তাদের সবার চুল ছাঁটানোর জন্য। হোস্টেলের সব মেয়েরা যেন তৈরি থাকে। এ কথার পর হোস্টেলের মেয়েরা কিছু সময়ের জন্য বাক্য হারিয়ে ফেলল। কিছুক্ষণ পর হৈ হই রব উঠল, কিছু মেয়ে প্রতিবাদ করল এবং শিক্ষিকাদের সঙ্গে তর্ক জুড়ে দিলো ও কিছু মেয়ে চিৎকার করে কেঁদে উঠল। যাই হোক হোস্টেল সুপার ও অন্যান্য শিক্ষিকারা কিছুতেই নমনীয় হলেন না। বাক-বিতন্ডা করা মেয়েরা কিছুতেই তাদের সঙ্গে পেরে উঠল না। উল্টে হোস্টেল সুপার ধমক দিলেন যে বা যারা কালকে তাদের চুল কাটানোর জন্য থাকবে না তারা যেন সকলে হোস্টেল ছেড়ে দেয়; তাদেরকে স্কুল থেকে রাসটিকেট করবেন। মেয়েরা সব দুঃখী মনে গেস্টরুম পরিত্যাগ করল। বাইরে বেরিয়ে তারা কেউ বিদ্রোহ ঘোষণা করল কোনোভাবেই নিজের চুল তো দূরে থাক একটা লোমও বাঁকা করতে দিবে না, কেউ বলল এই স্কুলেই আর পড়বে না, কেউ চুপচাপ হোস্টেল ছেড়ে দিবে ভাবল। তারপর হোস্টেলের সিঁড়ির গোড়ায় কিছুক্ষণ জটলা করে পরে যে যার যার রুমে চলে গেল। এদিকে সেঁজুতিরাও রুমে ফিরল। সেঁজুতির মন ভারাক্রান্ত। সে ভাবছে হোস্টেল সুপার ম্যাডাম কি কাল সত্যিই নাপিত ডেকে আনবেন তাদের চুল কাটানোর জন্য নাকি মজা করছেন। কিন্তু হোস্টেল সুপার ম্যাডাম মোটেও মজা করার পাত্রী নন। তিনি যা বলেন তাই করেন। এদিকে সেঁজুতির অপর দুই রুমমেট বান্ধবী শর্মিকে দুষছে আর শর্মি মাথা নিচু করে চুপচাপ খাটে বসে আছে তার চোখের কোণায় নোনতা জল শুকিয়ে আছে। তারপর সকাল হলো সব মেয়েরা ঘুম থেকে উঠে পরিপাটি হয়ে ব্রেকফাস্ট সারলো। সেঁজুতি দেখল কিছু মেয়ে ব্যাগ গুছিয়ে হোস্টেলের গেট দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। সে তাদের একজনকে ডাকল ‘সোনিয়া, কোথায় যাচ্ছিস?’ সোনিয়া বলল: বাড়ি যাই রে। এই ম্যাডামগুলো একদম ডাইনি! এদের বিশ্বাস নেই। সেঁজুতি ভাবল সেও বাড়ি চলে যাবে কিনা কিন্তু পরশু যে পরীক্ষা আর সে হোস্টেলে চলে আসায় বাবার অফিসের সুবিধার্থে পরিবারের সবাই তার অফিসের কাছে নতুন বাসায় শিফট হয়েছে। সেখানকার পথ নেহাত কম নয়। এই বলে সে রিডিং রুমের দিকে যেতে লাগল। এমন সময় হঠাৎ হোস্টেলের ঝাড়ুদার মাসি ঘণ্টায় বাড়ি দিলেন মানে হোস্টেল প্রাঙ্গণে সবাইকে জমায়েত হবার নির্দেশ। সে হোস্টেলের উঠানেই দাঁড়িয়ে থাকল আর সব মেয়েরাও যে যেখানে ছিল বেরিয়ে এলো। তারপর হোস্টেল সুপারিনটেনডেন্ট ম্যাম সেখানে হাজির হলেন। তারপর তারা কতজন আছে গুণে দেখলেন। ৪৪ জনের মধ্যে ১৩ জন নেই। তারা সকালে উঠেই বাড়ি রওনা দিয়েছে। হোস্টেল সুপার ম্যাম বললেন বেশ তবে এ কজনই থাক। যারা চলে গেছে তাদের বেডে অন্য ছাত্রীরা উঠবে। এরই মধ্যে তিনি একবার হাতঘড়ির দিকে তাকিয়ে পরক্ষণে হোস্টেলের গেটের দিকে তাকালেন। হোস্টেলের গেট দিয়ে একজন ডাইনিং বয়ের পিছু পিছু দুইজন লোক ঢুকল। তাদের কাঁধে ঝোলা আর তাতে চুল কাটবার সরঞ্জাম। তারপর স্কুলের মাঠে যেন কান্নার রোল পড়ে গেল। কিন্তু হোস্টেল সুপার ম্যামের হুঙ্কার ও অন্যান্য শিক্ষিকার ধমকে সব শান্ত নীরব হয়ে গেল। তারপর নাপিত দুইজন তাদের পিঁড়ি, চওড়া কাপড়ের টুকরা, চিরুনি, কাঁচি, ক্ষুর, ব্লেড ইত্যাদি বের করলেন। হোস্টেল সুপার ম্যাডাম আদেশ দিলেন দুজন দুজন করে গিয়ে নাপিতদের সামনে বসতে। ম্যাডামের কথা অমান্য করার সাহস আর কেউ দেখাতে পারল না। প্রথম জুটি গিয়ে নাপিতদ্বয়ের সামনে রাখা পিঁড়িতে বসল। অতঃপর নাপিতরা হোস্টেল সুপারের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল কেমন ধারা কাটব দিদিমণি? দিদিমণি বললেন সবার চুল কাঁধ পর্যন্ত কাটবেন। নাপিতরা বলল সবার মুখের গড়নের সাথে এমন স্টাইল মানাবে না। হোস্টেল সুপার ম্যাডাম তাদের যতটা সম্ভব মুখের গড়নের সঙ্গে মানানসই রেখে চুল কাটতে বললেন। নাপিতরা সম্মতি জানিয়ে তাদের কাজ শুরু করল।

মেয়েদের চুল ভালো করে আঁচড়ে পাট করে প্রথমে পনি বাঁধল, তারপর কাঁচি চলল ঘ্যাঁচ ঘ্যাঁচ; মেয়েগুলো ফুঁপিয়ে কাঁদায় তাদের শরীর কাঁপছিল। হোস্টেল সুপার ম্যাম গর্জন করে বললেন "এই কাঁদলে কিন্তু মাথা কামিয়ে দিতে বলব।" ভয়ে সব ঠাণ্ডা। এক এক করে জুটি বসতে লাগল আর নাপিতদের সামনে চুলের পাহাড় উঁচু হতে লাগল। স্নিপ স্নিপ শব্দে কাঁচি চলতে লাগল। আর মেয়েরা চোখ মুছতে মুছতে গোসলখানায় গেল। সেঁজুতিকে ম্যাডামরা বললেন নাপিতদের সামনে জমে ওঠা চুলের গোছাগুলো একটি প্লাস্টিক ব্যাগে পুরতে। সেঁজুতি তা করতে লাগল। ২ জন মেয়ে বাকি থাকতে একজন নাপিত বিদায় নিলেন। অপর জন কাঁচি চালাতে থাকলেন। সবার শেষে এলো সেঁজুতি। সেঁজুতি এমনিতে ভালো ছাত্রী কিন্তু দুষ্টুমিতে তার জুড়ি মেলা ভার। হোস্টেল সুপার ম্যাডাম বললেন সেঁজুতির চুলের ছাঁট যেন একটু অন্য রকম হয়। সেঁজুতির বুক কেঁপে উঠল। তবে সে কোনো শব্দ করল না। শেষ মেয়েটি উঠতেই সে চুপচাপ নাপিতের সামনের পিঁড়িতে বসে পড়ে। গণিত শিক্ষিকা সেঁজুতিকে খুব ভালোবাসতেন; সেঁজুতিরও সবচেয়ে প্রিয় বিষয় ছিল গণিত। সেঁজুতি নাপিতের সামনে বসলে যেই না নাপিত বললেন এর চুল কতটুকু খাটো করবো? গণিত শিক্ষিকা অমনি বলে উঠল মেয়েটি খুব ভালো ছাত্রী, আগামী সপ্তাহেই ওর পরীক্ষা আছে। এ ক'দিন উকুনের জ্বালায় পড়াশোনা বিশেষ করেছে বলে মনে হয় না। চুলের পিছনেই সময় দিয়েছে। এইটুকু মেয়ে অতটা চুল কি করে সামলাবে? নাপিত হাসিমুখে বলল তাহলে ববকাটেই চলবে? গণিত ম্যাডাম বললেন ওভাবে না; আমি চাই একদম ছোট আর মিষ্টি দেখতে চুলের ছাঁট। যাতে চিরুনির এক আঁচড়ই ওর চুলের জন্য যথেষ্ট হয়। নাপিত ওনার ইঙ্গিত বুঝতে পারলেন; সে বলল, আপনি বলতে চাচ্ছেন পিক্সিকাট? ম্যাডাম বললেন হ্যাঁ সেটাই। সেঁজুতি মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলো; তার কান্না পাচ্ছিল এই ভেবে যে গণিত ম্যাম তার সঙ্গে এমনটা করতে পারেন। গণিত ম্যাম বললেন-- সেঁজুতি যাও গিয়ে নিজের চুল কাটিয়ে নাও। সেঁজুতি ডুকরে কেঁদে বলল, ম্যাম প্লিজ অত ছোট না। ম্যাম কিছু শুনলেন বলে মনে হলো না। তিনি বললেন ওর পিছনের চুল যতটা সম্ভব ছোট করে দিবেন আর চিপগুলোও ছোট করে দিবেন। নাপিত চুল কাটা আরম্ভ করলো। প্রথমেই সে সেঁজুতির চুলে টাইট করে পনি করল। আর তারপর তার ধারালো কাঁচি পনির গোড়ায় বসিয়ে দিলো। সেঁজুতি কেবল কাঁচির স্নিক স্নিক শুনতে পেলো। কিছু বল প্রয়োগের পরই সেঁজুতির পনি নাপিতের হাতে চলে এলো। সেঁজুতির চুল এখন তার চিবুক অবধি অগোছালোভাবে কাটা। তারপর নাপিত তাকে ডানে-বাঁয়ে কাত করে সমানে চুল কাটতে লাগল। নাপিত জিজ্ঞেস করল তার চিপ ও ঘাড় কামাবে কি না? চিপ ও ঘাড়ে খুব মিহি চুল ছিল। ম্যাডামরা বললেন কামানোর দরকার নেই সমান করে দাও। নাপিত তাই করল। চুল কাটা শেষ হবার পর সেঁজুতি মুখ ঢেকে কাঁদতে কাঁদতে বাথরুমের দিকে ছুটল। বাথরুম থেকে সদ্য স্নান সেরে বেরিয়ে আসা রিদিমা ও আরো জনাকয়েক মেয়ে তা চেয়ে দেখল। পরদিন ক্লাসে অনাবাসিক মেয়েরা আবাসিক মেয়েদের দিকে কৌতূহলী দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখতে লাগল। আবাসিক মেয়েরা চুপ; তারা তাদের চুলের ব্যাপারে মুখ খুলল না।

Monday, December 23, 2019

বিয়ের শর্তে চুল কাটার গল্প

প্রীতি একজন স্কুল শিক্ষিকা ছিল। সে সবসময় লম্বা চুল রাখত এবং তার চুল নিয়ে খুব গর্ববোধ করত। প্রতি সপ্তাহান্তে সে চুলে শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার মাখিয়ে চুল ধৌত করে চুলে তেল দিয়ে সে তার চুলের যত্ন নিতো। তার বন্ধুরা এবং স্কুলের সহকর্মীরাও তার চুলের প্রশংসা করতেন।
তার এক অ্যাংলো ইন্ডিয়ান বন্ধুও ছিল যে একই স্কুলে ইংরেজির শিক্ষিকা ছিল; জেনিলিয়া, সে সর্বদা
 চুলে বয়কাট করে রাখতো। অনেক সময় এমনকি জেনিলিয়া প্রীতিকে তার চুলের জন্য প্রশংসা করতো এবং কিছু সময় মজা করার জন্য প্রীতিকে তার চুল কাটতে বলতো কিন্তু প্রীতি সবসময় বলতো সে তার চুল লম্বা রাখতেই পছন্দ করেছে এবং তারা এটা শুনে আমোদ পেতো।

যাই হোক প্রীতি একটি নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে তার বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান ছিল তাই তার পরিবারের আর্থিক সহায়তার জন্য তাকে চাকরি করতে হচ্ছিল; এখন সে বিবাহযোগ্যা হওয়ায় তার মা তার বিয়ের জন্য ভাল পাত্র সন্ধান করছিলেন কিন্তু পাচ্ছিলেন না। তারা খুব ঐতিহ্যবাহী পরিবার তাই বংশমর্যাদার মিলও প্রয়োজন ছিল এবং যদি তা ​​মিলেও যেত তবে পাত্রের পরিবার যৌতুক দাবি করতো। তাই প্রীতির পরিবার তার বিয়ের ব্যপারে এগুতে পারছিল না।

একদিন প্রীতির জন্য চৌধুরী পরিবার নামে সুপরিচিত এক ধনী পরিবারের পক্ষ থেকে একটি বিয়ের প্রস্তাব এসেছিল এবং তার বিয়ের জন্য কোনো প্রকার যৌতুক দাবি করবেনা শর্ত দেয়। তাই প্রীতির বাবা পাত্রপক্ষকে প্রীতিকে দেখতে তাদের বাড়িতে আসার আমন্ত্রণ জানান। এবং উভয়পক্ষের সম্মতিতে একটি ছুটির দিন ধার্য করেন।

সেদিন প্রীতি খুব তাড়াতাড়ি উঠে স্নান করল আর মা তার লম্বা চুলে খোঁপা বেঁধে দিলেন ও তাকে বললেন যে আজ খুব বড় ধনী পরিবার তোমাকে দেখতে আসছে; তাদের যদি তোমাকে দেখে পছন্দ হয় তাহলে বলতে হয় তুমি খুব ভাগ্যবতী।

তারপর ডোর বেল বেজে উঠল আর প্রীতিকে তার রুমে রেখে প্রীতির মা সামনের রুমে গিয়ে দরজা খুললেন এবং পাত্রের পরিবার ভিতরে প্রবেশ করল ও প্রীতির বাবা-মায়ের সাথে বিয়ের ব্যাপারে আলোচনা আরম্ভ করল। অতঃপর প্রীতির মা তাকে রান্নাঘর থেকে অতিথিদের জন্য চা-কফি এবং জলখাবার আনতে ডাকলেন। প্রীতির খুব লজ্জা করছিল এবং যথাসম্ভব সেই অভিব্যক্তি গোপন করে সে পাত্রপক্ষের সামনে টি-টেবিলের উপর ট্রে-তে করে চা-নাস্তা সার্ভ করে তার মায়ের পাশে সোফায় বসল। ধীরে ধীরে সে চোখ তুলে তাকিয়ে দেখলো যে মোট পাঁচ জন আগন্তুক তার সামনের সোফাগুলিতে বসা রয়েছেন। সবার মাঝখানে একজন হ্যান্ডসাম পুরুষ বসা ছিলেন যাকে সে তার হবু স্বামী বলে ধারণা করে এবং সে তার বাবা-মা, বড় ভাই এবং বৌদিকে নিয়ে এসেছিল; সে তার হবু বরের সাথে আসা স্ত্রীলোকদের মধ্যে অদ্ভুত কিছু লক্ষ্য করেছিল। তার হবু শাশুড়ি এবং তার হবু জা দুজনের চুলই ছেলেদের মত ছোট করে ছাঁটা। তবে তার লজ্জা কাটাতে পারছিল না বলে কিছু জিজ্ঞেস করল না। সবশেষে কথা পাকা করার পর প্রীতির হবু শ্বশুর তাকে জিজ্ঞেস করলেন, সে তাদের পারিবারিক ব্যবসায়ে যোগ দিতে আগ্রহী কিনা এবং কোম্পানির হিসাব বিভাগ পরিচালনা করতে রাজি কিনা? প্রীতি বলল সে রাজি আছে। ঠিক তখনি শাশুড়ি বলল, বেশ তবে আমাদের পক্ষ থেকে একটি শর্ত আছে- "যেহেতু আমরা কারখানার মালিক তাই আমাদের সর্বদা শ্রমিকদের থেকে আলাদা দেখানো উচিত এবং একবার যখন আমি আমার চুল ছোট করলাম তখন আমাদের ব্যবসায়ের বেশ উন্নতি ঘটল সেই তখন থেকে আমাদের পরিবার এটি আমাদের জন্য সৌভাগ্যচিহ্ন বলে বিশ্বাস করে; সেজন্য আমার বড় ছেলের বৌও বিয়ের পরে চুল ছোট করে ফেলেছে। অতএব আমি মনে করি তোমারও বিয়ের আগে চুল কেটে ফেলা উচিৎ।" এই কথা শুনে প্রীতি অবাক হলেও মুখ ফুটে কিছু বলল না এবং বরের পরিবাররা তাদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল।

প্রীতি মা খুব খুশি ছিল তবে প্রীতি ছিল না কারণ চুল কাটার শর্ত মেনে নিতে তার আপত্তি ছিল। দুজনের মধ্যে কিছু তর্ক হলো। প্রীতিকে তার মা বলেছিল যে এতদিনে তার বিয়ের জন্য একটি উপযুক্ত প্রস্তাব এসেছে এবং পাকা কথাও হয়ে গেছে সুতরাং তার সব শর্ত মেনে নেওয়া উচিত। কিন্তু প্রীতি মন থেকে মানতে পারছিল না তাই প্রীতি তার মায়ের কাছ থেকে কিছুদিন সময় চাইলো তার সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য।

কিছুদিন পর প্রীতি যখন পায়ে হেঁটে স্কুলে যাচ্ছিল তখন তার সামনে একটি বড় গাড়ি এসে থামল এবং গাড়ির জানালা দিয়ে মাথা বের করে একজন মহিলা তাকে নাম ধরে ডাকলেন। প্রথমে প্রীতি তাকে ঠিক চিনে উঠতে পারেনি তবে পরে সেই মহিলা তাকে তার পরিচয় খুলে বললে সে চিনতে পারে যে সে মহিলা হচ্ছে শায়লা, চৌধুরী পরিবারের বড় বৌ মানে তার হবু জা। সেদিন যখন প্রীতির শ্বশুর-শাশুড়ি তাকে দেখতে ও বিয়ের কথা পাকা করতে তার বাড়িতে এসেছিলেন সেদিন তিনিও গিয়েছিলেন। শায়লা প্রীতিকে তার গাড়ীতে উঠে বসতে বলল তবে প্রীতি প্রথমে না বললেও পরে তার অনুরোধ ফেলতে না পেরে গাড়ির ভিতরে ঢুকে বসলো। তারপর শায়লার ইশারাতে গাড়ি চলতে শুরু করলো। সে লক্ষ্য করলো তার একজন ড্রাইভার ছিল। শায়লা প্রীতিকে জিজ্ঞাসা করল- সে কোথায় যাচ্ছে? আর সে উত্তর দিলো স্কুলে বাচ্চাদের ক্লাস নিতে। শীঘ্রই তারা অন্তরঙ্গ কথোপকথন শুরু করে দিলো এবং শায়লা কথায় কথায় জানালো যে সে তার এই আরামদায়ক স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন নিয়ে খুব খুশি। সে এই মুহূর্তে তার ড্রাইভার সহ নিজের গাড়িতে চড়ে শপিং করতে যাচ্ছে।

তখন হঠাৎ শায়লা প্রীতিকে বলল শপিং মলের কাছে আমার পরিচিত বিউটি পার্লার আছে; আমি সেখানে যাচ্ছি আমার চুল ছাঁটাতে; চাইলে তুমিও আমার সাথে যেতে পারো। তাহলে আমি সেই বিউটিশিয়ানের সাথে তোমার পরিচয় করিয়ে দেবো। প্রীতি কিছুটা রাগতস্বরে বলল ‘সে আগ্রহী নয়’। শায়লা বলল, ওকে 'নো প্রবলেম ডিয়ার’ এবং তাকে বলল যে বিয়ের আগে তারও প্রীতির মতই লম্বা চুল ছিল এবং চুল কাটার কথা শুনলে লজ্জা পেতো। কিন্তু বিয়ের পরে এখন সে তার জীবনের সমস্ত স্বাচ্ছন্দ্যে খুশী; তখন প্রীতি নিজের জীবন নিয়ে ভাবতে শুরু করল কিন্তু হঠাৎ তার স্কুলের দালান চোখে পড়লো। সে শায়লাকে গাড়ি থামাতে বলে ও শায়লা ড্রাইভারকে থামতে বলল এবং সে গাড়ি থেকে নেমে হাত নেড়ে শায়লাকে বিদায় জানালো। যখন সে তার স্কুলে প্রবেশ করতে যাচ্ছিল তখন তার সহকর্মী বন্ধু জেনিলিয়াও সেখানে ছিল এবং সামনে এগিয়ে তার দু হাত নিজের হাতে নিয়ে মৃদু হেসে বলল, “ওয়াও, প্রীতি! ইউ আর সো লাকি। আজকাল তুমি গাড়িতে যাতায়াত করা শুরু করেছো।"

সে রাতে প্রীতি কি করবে তা নিয়ে ভাবতে থাকলো এবং অবশেষে সকালে তার মাকে জানালো যে সে চৌধুরী পরিবারের শর্ত মানতে রাজি আছে। প্রীতির মা হাসিমুখ করে তাকে বলল যে ছোট চুলেও তোমাকে দারুণ মানাবে।
তার শাশুড়ি বলেছিলেন যে, ‘বিয়ের আগেই তার চুল কাটাতে হবে’; প্রীতি তার বিয়ে পর্যন্ত লম্বা চুল রাখতে চেয়েছিল বলে তার খানিকটা মন খারাপ ছিল। তবে সে আর এ নিয়ে অমত করল না।
এর পরদিন সকালে শায়লা এসে প্রীতিকে বিউটি পার্লারে নিয়ে গেল। সেখানে সে বিউটিশিয়ানকে কানে কানে কিছু কথা বলল এবং প্রীতির সাথে তাকে পরিচয় করিয়ে দিলো। বিউটিশিয়ান প্রীতির দিকে তাকিয়ে মিষ্টি হাসি দিয়ে তাকে স্বাগত জানালো। এরপর তিনি প্রীতিকে চেয়ারে বসিয়ে লম্বা এক ফালি কাপড় দিয়ে তার সামনের আয়নাটা ঢেকে দিয়ে বললেন যে চুল কাটা শেষ হবার পরই প্রীতি আয়নায় নিজের মুখ দেখবে। প্রীতি নার্ভাস হয়ে শায়লার দিকে তাকালো আর এরই মধ্যে বিউটিশিয়ান তার চুলকে ঘাড়ের একটু নিচে পনিটেলে পরিণত করলেন এবং তাকে ঘাড় সোজা করতে বলে কাঁচি নিলেন। অতঃপর হঠাৎ প্রীতি তার ঘাড়ের পিছনে স্নিপ স্নিপ অনুভব করলো এবং দু'মিনিটের মধ্যে তার লম্বা চুলের গাছি বিউটিশিয়ানের হাতে চলে এলো। তখন তার চুল বব কাট হয়ে গেল। প্রীতি বিউটিশিয়ানকে জিজ্ঞেস করলো, তার চুল কাটা কি শেষ? বিউটিশিয়ান ও শায়লা দুজনেই হাসলো। এবং বিউটিশিয়ান মহিলাটি বলল এখনো আপনি বব কাট স্টাইলে আছেন তবে বয় কাট স্টাইল করা দরকার তাই এখন আমি আপনার চুল ধুয়ে নেবো। এই বলে প্রীতিকে ওয়াশ বেসিনের সামনে নিয়ে গেলেন এবং শ্যাম্পু দিয়ে ভাল করে চুল ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেললেন। এরপর আবার চুল স্তরে স্তরে সামনে পিছনে পাশ থেকে কাটতে লাগলেন। প্রীতি তার মাথার চারপাশে স্নিপ স্নিপ শব্দ শুনতে পাচ্ছিলো আর চিরুনির আঁচড় অনুভব করছিল; সেই সঙ্গে দেখে ছোট ছোট চুলের কুচি মেঝেতে ঝরে পড়ছে। কিছুক্ষণ পর বিউটিশিয়ান প্রীতিকে তার চুলের মধ্য দিয়ে নিজের আঙ্গুল চালাতে বললেন এবং চুলগুলো কতটা ছোট তা অনুভব করতে বললেন। প্রীতি বেশ নার্ভাস ফিল করছিল কিন্তু তবুও নিজের চুলে হাত ছোঁয়ালো ঠিক তখনি বিউটিশিয়ান আয়নায় উপর থেকে কাপড়টা সরিয়ে নিলেন আর প্রীতি নিজের চেহারা আয়নায় দেখতে পেল। প্রীতি বিশ্বাসই করতে পারছিল না যে আয়নায় এটা সে নিজের চেহারা দেখছে। তার চেহারা পুরো বদলে গিয়েছে। সে এখন বয়কাট স্টাইলে আছে।  শায়লা তার কাঁধে হাত রেখে বলল- “ডোন্ট ওয়ারি ডিয়ার, ইউ উইল গেট অ্যাডজাস্টেড টু ইট।” এবার তারা বিউটি পার্লার ছেড়ে বেরিয়ে এলো এবং গাড়িতে বসতে বসতে শায়লা বলল যে এখন থেকে নিয়মিত ট্রিমিং করার জন্য দুজনেই একসাথে এখানে আসবে। তারপর তারা প্রথমে নিজের শ্বশুর বাড়িতে গেলো, যেখানে শাশুড়ি প্রীতিকে দেখে হাসিমুখ করে তার চুলের ছাঁট পছন্দ হওয়ার ইঙ্গিত দেন। এমনকি প্রীতির হবু স্বামীও তার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসেন। তারপর শাশুড়ি তাকে উপহার স্বরূপ রত্নখচিত গয়না উপহার দিয়ে আশীর্বাদ করলেন।। প্রীতি উপহার পেয়ে বিস্মিত ও আনন্দিত হলো।

এরপরে প্রীতি স্কুলশিক্ষকতার চাকরি ছেড়ে দিলো এবং যথারীতি বিয়ের পিঁড়িতে বসলো। বিয়ে হয়ে যাবার পর সে পারিবারিক ব্যবসায়ের অফিসে হেড একাউন্টস অফিসার হিসেবে যোগদান করে। এখন সে সর্বদা বয়কাট স্টাইলে চুল রাখে এবং আস্তে আস্তে আধুনিক জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত হয়ে উঠছে; সাথে সাথে এও বুঝতে পেরেছে যে ছোট চুল সামলানো অনেক সোজা।

Wednesday, October 30, 2019

নাপিতের দোকানে একটি সুন্দর চুল কাটা উপভোগ করলাম

আপনি যদি একজন পুরুষ হন এবং ধনী না হন তবে নাপিতের দোকানে আপনার পালাটির জন্য অপেক্ষা করা একটি ক্লান্তিকর কাজ। আমিও এর ব্যতিক্রম নই। রবিবার ছিল, ভিড়ের কারণে চুল কাটার জন্য ভাল দিন ছিল না তাই সন্ধ্যায় দেখার পরিকল্পনা করলাম। 

সন্ধ্যায়ও ব্যতিক্রম ছিল না, আমার নিয়মিত দোকানের উভয় নাপিতই ব্যস্ত ছিল, ছোট পুরানো দোকানে তিনজন লোক অপেক্ষা করছে। আমি যখন সংবাদপত্র ঘাঁটতে ঘাঁটতে অপেক্ষা করছিলাম, একজন মহিলার ভিতরে পদার্পণের উদ্ভট কল্পনার কথা চিন্তা করছিলাম, তখন বয়স্ক নাপিত আমাকে বসতে টোকা দিলেন। আমি যখন উঠলাম, দরজা খুলে গেল, এবং তদ্বারা ২০-এর দশকের মাঝামাঝি একজন লোক একটি …. নিয়ে প্রবেশ করল। ….একজন নারী। প্রায় ২৫ বছর বয়সী এক নবযুবতী। আমি অবাক হয়ে গিয়েছিলাম এবং হতজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলাম। লোকটি নাপিতের কাছে এসেছিল, এবং তারা কিছু আলোচনা করেছিল। আমি যখন আমার জ্ঞান ফিরে পেলাম, আমি কীভাবে আমার পালা এড়িয়ে যেতে হবে তা পরিকল্পনা করতে শুরু করি। আমি খুব বুঝতে পেরেছিলাম, এটা হচ্ছে মহিলাটি যার কেশকর্তন হতে যাচ্ছে। আমাকে কিছু পরিকল্পনা করতে হয়েছিল, আমি সুযোগটি মিস করতে পারি না। 

আমি ভাবছিলাম আর ভাবছিলাম যখন নাপিত আবার আমার কাঁধে টোকা দিয়ে প্রফুল্ল মুখে জিজ্ঞেস করল, "আপনি কি একটু অপেক্ষা করতে পারেন, যদি কিছু মনে না করেন, তারা তাড়াহুড়ো করছে এবং..." সে তার বাক্য শেষ করার আগেই আমি ইতিবাচক জবাব দিলাম। আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, "দুজন নাকি একজন?" 

নাপিত অস্ফুট উত্তর দিল, “এক” এবং মেয়েটিকে বসতে ইশারা করল। ওয়েটিং এরিয়ায় বসলাম। লোকটি ধীরভাবে তাকে বড় নাপিত চেয়ারে নিয়ে গেল, এবং তারপরে আমার পাশে বসল। 

আমি আয়নায় মেয়েটির মুখ স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি। তার কালো চুলের ঘন বিনুনি সামনে ছিল, হলুদ সালোয়ার কামিজের উপর সাদা দোপাট্টায় ঢাকা তার ক্ষুদে বুনির উপর বিশ্রাম নিচ্ছিল। তার চোখ নিচের দিকে, তাই তার মাথাও। নাপিত পিছন থেকে এসে তাকে মৃদু ছোঁয়া দিয়ে সোজা বসিয়ে দিল। নাপিত মেয়েটির দিকে তাকিয়ে হাসল কিন্তু কোন উত্তর পেল না। সাদা কাপড়ের কেপটা নিয়ে একবার ঝাঁকিয়ে আলতো করে ওর গায়ের উপর রেখে ওর বিনুনিটা বের করে দিলো। তিনি একপাশে কেপ গেরো দিলেন। নাপিত বিনুনিটি পিছনের দিকে টেনে নিয়ে গেল এবং দিক নির্দেশনার জন্য লোকটির দিকে তাকাল। আমি দৈর্ঘ্য দেখে অবাক হয়েছিলাম। মেঝে থেকে কয়েক সেন্টিমিটার উপরে চেয়ারের নীচে বিনুনিটি ঝুলছিল। এটা খুব পুরু। নাপিত লোকটির সাথে কী কথোপকথন করেছিল তা আমি মিস করেছি। ঘুরতে ঘুরতেই দেখলাম লোকটা তার ঘাড় ধরে উপরে নিচে নাড়াচ্ছে। 

নাপিত তৎক্ষণাৎ কাজে নেমে পড়ল। তিনি ধীরে ধীরে বিনুনি ধরে থাকা রাবার ব্যান্ডটি বের করলেন এবং লোকটির কাছে দিলেন। এতে কিছু ছিন্ন চুল লেগে আছে। তার চুলে আঙ্গুল ঢুকিয়ে সে গিঁট সরাতে নিচের দিকে যেতে লাগল। তিনি এমন কঠোরভাবে গিঁটগুলি সরিয়ে ফেললেন, আমি দেখতে পাচ্ছিলাম, মেয়েটির মাথা প্রবলভাবে কাঁপছে এবং প্রতি রাউন্ডের সাথে পিছনের দিকে টানছে। নাপিত অবশেষে চিরুনিতে সরে গেল এবং মাথার ত্বক থেকে শেষ পর্যন্ত চিরুনি শুরু করল, তার চুল আরও জোরে টেনে ধরল। 

আমি দেখতে পাচ্ছিলাম মেয়েটি ব্যাথা পাচ্ছে, কারণ সে একবার বা দুবার গুঙিয়েছিল। লোকটি উঠে দাঁড়ালো এবং নাপিতকে আরো সতর্ক হতে বলল। নাপিত আশ্বাসভাবে মাথা নেড়ে তার যথাসাধ্য চেষ্টা করতে লাগল, কিন্তু তা ব্যর্থ হল। সে ব্যথা অনুভব করতে থাকে। 

একবার তার চুল আঁচড়ানোর পর, নাপিত স্প্রেয়ারে চলে গেল, তার চুল কুয়াশাবৃত হলো, উপর থেকে তার চুল ভিজিয়ে দিল। সন্তুষ্ট হওয়ার আগেই সে প্রায় পুরো একটা বোতল খালি করে ফেলেছিল। তার চুল এতই ভিজে ছিল, সেখান থেকে জল ঝরছিল। তার চুলের নিচের জায়গাটা এখন ভিজে গেছে। 

নাপিত এখন কাঁচির দিকে চলে গেল। আমি আশা করছিলাম যে এটি তার মাঝপিঠ বা অন্য কিছু পর্যন্ত হবে, কিন্তু তিনি এটি তার কানের ঠিক নীচে রেখেছিলেন এবং কচ্‌চ্‌চ্‌চ্‌চ্‌চ্‌...চ্‌চ্‌চ্‌চ্। মেয়েটি কেঁপে কেঁপে উঠল যখন চুলের প্রথম গোছাটা নিচে পড়ে গেল, কিছু তার কোলে, অবশিষ্টাংশ নিচে। নাপিত কাঁচি দিয়ে কুচ কুচ করে কাটতে থাকল, লোকটি আস্তে আস্তে উঠে চেয়ারের কাছে গেল। কাহ্‌চ্‌চ্‌চ্‌চ্…..চ্‌চ্‌চ্‌চ্‌ আরও বেশি করে ওর বেণীটা কেটে গেল। নাপিত আবার চিরুনি দিয়ে আবার কচকচ্ছচ… তার লম্বা চুলগুলো এখন মেঝেতে। বিশাল এক পাঁজা। চুল চলে যাওয়ায় তার পিঠ এবং ঘাড়ের কিছুটা অংশ এখন উন্মুক্ত হয়ে গেছে। 

লোকটি আবার আমার সাথে বসল, নাপিত এখন চুল বিভাজন করছে। আমি নিজের কৌতূহল প্রতিরোধ করতে না পেরে লোকটিকে জিজ্ঞেস করলাম, "সে কি তোমার গার্লফ্রেন্ড?" 

পাট করার পর নাপিত তার চেয়ারের বাম পাশে চলে গেল। কাঁচি আর চিরুনি দিয়ে আরও বেশি করে কাটতে লাগল। চিরুনি দিয়ে চুল ধরে, কাঁচি দিয়ে কচ কচ। তিনি পাশ থেকে মাঝখানে চুল পাঠান, তার মাঝের বিভাজন ব্যাহত করে। যখন সে কাঁচি দিয়ে কেটে ফেলতে থাকল, তার মাথার খুলি পাশে উন্মুক্ত হয়ে গেল। তিনি আশ্বস্ত হওয়ার পরে, তিনি চেয়ারটি ঘোরান, যাতে মেয়েটির মুখটি আমাদের দিকে ছিল এবং নাপিত এখন তার মাথার ডান দিকে কাঁচির পোঁচ মারতে পারে। 


লোকটি আমার প্রশ্নের উত্তর দিল, "সে আমার বোন" আমি আরও জিজ্ঞাসা করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তার শক্তভাবে বন্ধ চোখ এবং বিভ্রান্ত মুখ আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। আমি তার দৃঢ়ভাবে বদ্ধ মুষ্টি দেখতে পাচ্ছিলাম। তার চুল ক্রমশ কমছে, কাটা চুলে কোল ভরে যাচ্ছে। আমি লোকটিকে জিজ্ঞাসা করার আগেই “কেন তার বোন চুল কাটছে? কেন সে একটি নাপিতের দোকানে চুল কাটাচ্ছে? কেন সে এত ছোট করছে?” আমাকে অন্য নাপিত ডেকেছিল, এবং আমি প্রত্যাখ্যান করতে ব্যর্থ হই। ধীর গতিতে, আমি অন্য চেয়ারের দিকে এগোতে লাগলাম, আমি দেখলাম নাপিত মেয়েটির চেয়ারটি ঘুরিয়ে এখন তার পিছনের দিকে চলে যাচ্ছে। নাপিত একই কৌশল অবলম্বন করে পিছনের চুল কাটতে, চিরুনি দিয়ে সংগ্রহ করে, কাঁচি দিয়ে ছাঁটতে থাকে। এরপর সে সামনে থেকে সব চুল পেছনে আঁচড়াতে থাকে এবং তার মাথার ওপরে ছেঁটে দেয়। চুল তার কোলের উপর, তার মুখ দিয়ে ঝরছে. তার মুখ অসংখ্য কাটা চুলে ঢাকা ছিল। তিনি তা করতে থাকেন এবং অবশেষে সামনে চলে যান। তিনি সামনের সমস্ত চুল আঁচড়ালেন। তার চুল এখনও তার চোখ ঢেকে যথেষ্ট লম্বা ছিল। তিনি আলতো করে তার চিবুক স্পর্শ করল, তার মাথাটা একটু তুলল এবং তার কপালের মাঝখানে তার চুল কাটতে লাগলেন। চুল ওর মুখে চুমু খেয়ে ওর কোলের দিকে এগিয়ে গেল। 

তারপরে তিনি কাঁচিটি ফেলে দিয়ে তার চুল আঁচড়ান, তাকে একটি স্মার্ট, কেতাদুরস্ত বয়কাট দিয়েছিলেন। কিন্তু তার কাজ করা হয়নি। মেয়েটি তখনও চোখ বন্ধ করে রেখেছিল, নাপিত একটি ড্রয়ার খুলে সোজা রেজার বের করে। নতুন ব্লেড ভরে, তিনি আবার তার স্প্রেয়ারটি বেছে নিলেন, তার পিছনে এবং পাশে ভিজিয়ে দিলেন। 

আলতো করে ওর মাথাটা সামনের দিকে ঠেলে পিছন থেকে চুল সরাতে লাগলো। আমি প্রতিফলনের মাধ্যমে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলাম, তিনি ঘাড়ের গাঁইট উন্মুক্ত করেছেন, সমস্ত সাদা এবং চকচকে। একইভাবে তিনি কানের দৈর্ঘ্য পর্যন্ত চুল অপসারণ করে পাশের জন্য করেছিলেন। 

নাপিত তারপর একটি প্রশস্ত ব্রাশ তুলে নেয় এবং তার গর্দান, মুখ এবং কান চুলমুক্ত করে দিতে শুরু করে। তারপর পাউডার লাগিয়ে আস্তে আস্তে কেপটা খুলে দিল। আমি অবিরাম মেয়েটিকে পর্যবেক্ষণ করছিলাম, তার প্রতিক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। আমার নাপিত আমাকে সমর্থন করার মেজাজে ছিল না এবং ক্রমাগত আমাকে এতে বাধা দেয়। আমি সেই মুহূর্তটি মিস করেছি যখন সে তার চোখ খুলল। আমি তাকে ক্রমাগত আয়না দিয়ে নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখেছি। সে আস্তে করে উঠে চলে গেল, কারণ তার ভাই তার জন্য টাকা দিয়েছে। তখন সে তার কাটা চুলের দিকে তাকাতে থাকে যখন তার ভাই তার হাত ধরে তাকে নিয়ে যায়। 

আমি সেখানে বসে আমার চুলের কাজ শেষ করছি সেই সময়ে দেখলাম অন্য নাপিত কাটা চুলগুলো ঝাড়ু দিয়ে কোণার ডাস্টবিনের কাছে ফেলে দিচ্ছে। 

আমি তখনও বিভ্রান্ত ছিলাম যে সে বাস্তব নাকি আমার জন্য একটি কল্পনা ছিল?? 

Translated from HC&S stories

সিনেমায় সুযোগ

আমার বাড়ি দক্ষিণ ভারতের কোচিতে এবং গত বছর যখন ঘটনাটি ঘটেছিল তখন আমার বয়স ছিল উনিশ বছর। আমার বাবা, যিনি সৌদি আরবে একজন ব্যবসায়ী ছিলেন, মার...